মানবজমিনের পক্ষে অনুসন্ধান ও সংবাদ প্রকাশের পর আলোচিত নওগাঁর রাণীনগরের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত ফিল্ড সুপারভাইজার মোহাম্মদ মুসাকে শাস্তির বদলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বদলি করা হয়েছে। তাকে পুরস্কারস্বরূপ নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের এমন পদে বসানোতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে- রাণীনগর ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বে থাকা মুসা ২০১৭ সালে যোগদানের পর থেকে উপজেলার কার্যক্রমকে দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত করে।
অনিয়ম, ভুয়া কার্যক্রম দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন, কেন্দ্র পরিচালনায় চরম গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কতিপয় সুবিধাভোগী মহলকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে গড়ে তোলে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ইতিপূর্বে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর লোক দেখানো তদন্ত হলেও সেটা আলোর মুখ দেখেনি। এবারো থাকার পরেও অদৃশ্য কারণে কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে পাশ কাটিয়ে সুরক্ষা দিতে এবং পুরো জেলার ওপর কলকাঠি নাড়ানোর মতো সুযোগ করে দিতেই জেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বদলি করা হয়েছে বলে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে তাহলে অনিয়মই কি এখন গুরুত্বপূর্ণ পদের মাপকাঠি? অনুসন্ধানে জানা গেছে- নিয়োগের শর্তাবলী উপেক্ষা করে উপজেলার গোনা ইউপি’র সাধারণ রিসোর্স সেন্টারের শূন্যপদে রাতোয়াল গ্রামের মো. বাবু সরদারের ছেলে মো. ময়নুল ইসলামকে সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ দেয়া, নিজের স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়োগ দেয়া, কেন্দ্র না চালিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন, ষাট পার্সেন্ট এর শিক্ষার্থী দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে বছরের পর গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, মুসার ডান হাত বলে খ্যাত নিয়মবহির্ভূত ও স্বেচ্ছাচারিতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কালিগ্রাম ইউপি’র রিসোর্স সেন্টারে দায়িত্ব কেয়ারটেকার আবুবকর সিদ্দিককে বছরের পর চাকরি ফাঁকি দিয়ে ২০ বছর ধরে বেতনভাতা উত্তোলনের সুযোগ দেয়াসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে দৈনিক মানবজমিনসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের পর আইওয়াশ? ও সমালোচনা আড়াল করতে ঠুনকো বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ।
সাবেক ফিল্ড সুপার ভাইজার মোহাম্মদ মুসা মুঠোফোনে বলেন- আপনারা থাকতে দিলেন? নিউজ টিউজ করে বদলি করে দিয়েছেন। নিউজের পর বদলি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নিউজ করার পর হোক বা আগে হোক আমাকে বদলি করা হয়েছে। আর আমাকে স্বপদে বদলি করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন- যার স্বাক্ষর আছে, তাকে জিজ্ঞেস করেন। এ ছাড়া আমি গত ১৬ তারিখে জেলা কার্যালয়ে যোগদান করেছি। এখন আপনারা ভালো থাকতে দিলেই ভালো থাকবো। জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. মারুফ রায়হান স্বাক্ষরিত এক আদেশে মুসাকে নওগাঁ জেলা কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসন পদে বদলির বিষয়টি জানা যায়। তিনি বলেন- মুসাকে ক্লোজ করে আমার সঙ্গে রাখা হয়েছে, সে যেন বাহিরের কোনো কাজ করতে না পারে। তবে প্রশাসন ও ফিল্ড সুপার ভাইজার পদের বিষয়ে সদুত্তর দেননি তিনি। বিভিন্ন অভিযোগের পরও তদন্ত চলমান আছে বলেও দাবি করেন।
