বাংলাদেশে প্রিমিয়াম মানের বাসমতি ও লম্বা-সরু চালের ঘাটতি পূরণে গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী প্রাণ বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের জলবায়ুতে উপযোগী বাসমতিজাত ধান চাষের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী প্রাণ বঙ্গ মিলার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এক ধান প্রদর্শনী কর্মসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাগণ বলছেন, বিশ্ববাজারে পাকিস্তান ও ভারতের বাসমতি চাল দীর্ঘ দানা ও সুগন্ধের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। একইসঙ্গে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার ব্ল্যাক রাইস পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ-বিশেষ করে এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়।
প্রাণ বঙ্গ মিলার্স জানিয়েছে, বিদেশ থেকে ব্যয়বহুল বাসমতি আমদানির পরিবর্তে দেশেই একই মানের দীর্ঘ-সরু ও সুগন্ধি চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে তারা কাজ করছে। পাশাপাশি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্ল্যাক রাইস এবং দেশীয় ঐতিহ্যবাহী কাটারি চালের উন্নয়নেও জোর দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৫০, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪ এবং বাংলামতি জাতের ধানও এই গবেষণার আওতায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেন, এই উদ্যোগ শুধু গবেষণায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি সমন্বিত ‘ভ্যালু চেইন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য ও প্রিমিয়াম মূল্য পাবেন এবং ভোক্তারা দেশেই বিশ্বমানের চালের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। ধান প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর ইকবাল ও কৃষিবিদ মো. গফ্ফার আল-হাদী, ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফ হাসান মোস্তাফিন। প্রাণ কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক মো. জাকারিয়া হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
