আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী শায়খ আবু তৈয়্যব আহমেদের ইন্তেকাল

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী শায়খ আবু তৈয়্যব আহমেদের ইন্তেকাল

ফন্ট সাইজ:

দক্ষিণ বাংলার প্রখ্যাত পীর, কামেল, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানাধীন আমতলীর মরহুম পীর আল্লামা আব্দুল লতীফ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাহেবজাদা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী শায়খ আবু তৈয়্যব আহমেদ দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রোববার ফজরের আজানের সময় খুলনা মহানগরীর গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন যাবৎ তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে সহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, পাকিস্তান সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ক্বারী আবু তৈয়্যব আহমেদ ১৯৬৬ সালে পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর শিক্ষার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে গমন করেন। সেখানে তিনি বিখ্যাত মাদ্রাসাগুলোতে ইলমে কুরআন, হাদীস ও ফিকহে গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেন।

বিশেষভাবে কুরআন তিলাওয়াত ও তার চর্চার ওপর তিনি সারাজীবন গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পাকিস্তান জমিয়তে তালাবায়ের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতি
তিনি দীর্ঘকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম-রেডিও ও টেলিভিশনে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেছেন। তার সুললিত কণ্ঠের তিলাওয়াত আজও ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে।
আরব বিশ্বে তিনি বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। অনেকেই তাকে মিসরের বিখ্যাত ক্বারী সিদ্দিকুল মিনশাওয়ী ও খলীলুল হাসরীর উত্তরসূরিদের একজন হিসেবে বিবেচনা করতেন। দুবাই, ইরান, ইয়েমেন, জর্ডান, মিসর, সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তান-যেখানেই তিনি তিলাওয়াত করতেন, সেখানে কুরআনপ্রেমীদের ঢল নামত।

ক্বারী আবু তৈয়্যব আহমেদের তিলাওয়াতের বৈশিষ্ট্য
ক্বারী আবু তৈয়্যব আহমেদের তিলাওয়াত ছিল তাজবীদের শুদ্ধতা, সুরের মাধুর্য এবং কণ্ঠনিয়ন্ত্রণের এক অপূর্ব সমন্বয়। তার তিলাওয়াতে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যেত-মাখরাজ ও সিফাতের নিখুঁত প্রয়োগ, গুন্নাহ, ইখফা, ইদগাম, ইযহার ও ইকলাবের যথাযথ ব্যবহার, ক্বলক্বলাহর সুনিপুণ প্রয়োগ, মাদ্দের সঠিক পরিমাপ, তারতিল, ওয়াকফ ও ইবতিদার নিখুঁত জ্ঞান। তিনি মাকামাত (সুরের ধারা) যেমন- বায়াতি, সাবাহ, হিজায ইত্যাদিতে পারদর্শী ছিলেন। দীর্ঘ আয়াত তিলাওয়াতে শ্বাস নিয়ন্ত্রণের বিরল দক্ষতা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

আদর্শ ও অনুপ্রেরণা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমার আব্বাজান আমতলীর মরহুম পীর সাহেব পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং রাসূল (সা.)-এর অনুসৃত ধারা অনুসরণ করতেন। আমি সবসময় তার সেই ওসিয়ত স্মরণে রাখি।” এই আদর্শই তার তিলাওয়াতকে করেছে অনন্য ও হৃদয়গ্রাহী।

জানাজা ও দাফন
গত রোববার বাদ জোহর আমতলী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাআলা এই কুরআনের পাখী, দ্বীনের নিবেদিত প্রাণ এই দায়ীকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।

Saif Islam

২ মাস আগে

He is my model person in my life 💕

মন্তব্য করুন