ছাত্রদল-শিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজ

ছাত্রদল-শিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের ১৫-২০ জন আহত হয়। এরমধ্যে শিবিরের এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় কলেজের আশপাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক বহিরাগত যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী ধরে উত্তেজনা চলার পর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৪টায় ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে শিবিরের বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং এক শিবিরকর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে আঁকা একটি গ্রাফিতির নিচে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতা সেটিতে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লিখে দেন। ফলে লেখাটি হয়ে যায় ‘গুপ্ত রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, সকালে গ্রাফিতির ওপর লেখা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টার পর কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সকালের সংঘর্ষের পর বিকাল ৪টার দিকে আবারো সংঘর্ষে জড়ায় দু’টি পক্ষ। এ সময় দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোটা দেখা যায়। কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে দুই পক্ষ একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তাদের অনেকটা নির্বিকার অবস্থায় দেখা যায়। সংঘর্ষে হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মিশকাত জানান, ক্যাম্পাসের ভেতরে এক দফা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়। পরে পুলিশ আসলেও পুলিশ আমাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা না করে গেটের বাইরে বের করে দিলেই দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর হামলা হয় এতে প্রায় ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়। বিকালে আমরা যখন বিক্ষোভ মিছিল শুরু করি তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে এবং আমাদের একজন কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে দেয় তারা। সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল ছিদ্দিকী রনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কল ধরেননি। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আনিস উল হক

১ মাস আগে

' গনতন্ত্র জিন্দা হোতে হ্যায়< হর মব হর মারামারি>কি বাদ।'

BAD MOUTH

১ মাস আগে

বহিরাগতরা সবাই হেলমেট পরে আছে। সহজেই বোঝা যায় তাদের আসল পরিচয়।

মন্তব্য করুন