মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ভৎর্সনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা এই তিন নেতাকে ‘শিকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইসরাইল, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এই তিনটি দেশের নেতারা বিশ্বের সার্বজনীন মানবধিকারের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্বক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি বলেছে, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখতে তারা ‘খুনে শিকারী’তে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব মানবাধিকার গ্রুপের প্রধান অ্যাগনেস ক্যালমার্ড তার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেন, বিশ্বে আদিম হিংস্র যুগের উত্থান হচ্ছে। ২০২৫ সালে তীব্র বাঁক তৈরি হয়। ফলে বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৮০ বছর ধরে মানবতার যে অগ্রগতি হয়েছিলো তা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সোমবার লন্ডনে আয়োজিত এক সম্মেলনে ক্যালমার্ড বলেন, যেখানে তাদের এই মনোভাবকে মোকাবিলা করার কথা, সেখানে বেশিরভাগ সরকার স্বৈরাচারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। কেউকেউ তো উল্টো খুনি লুটেরাদের সাথে সখ্য গড়ে তুলছে। তবে স্পেনই একমাত্র দেশ যারা আর্ন্তজাতিক আইন লঙ্ঘন করে গাজায় গণহত্যার জন্য ইসরাইলের এবং ইরান আক্রমণ করায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সমালোচনা করেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো তারা কোন প্রকার দ্বিমুখী আচরণ করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বিশ্বে নাটকীয় প্রভাব ফেলেছেন। তাদের এসব আচরণ বিশ্বের অন্য নেতাদের মাঝেও কর্তৃত্ববাদী হবার প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলছে। এতে হিংস্রতার পরিমাণ বাড়ছে যা গত ৩/৪ বছর আগেও তুলনামূলক কম ছিলো।
কর্তৃত্ববাদের উত্থান
অ্যামনেস্টির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে অধিকাংশ জাতির মধ্যে মৌলিক মানবাধিকার এবং স্বাধীনতার উপর আক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজা উপত্যাকায় ইসরাইলের চালানো গনহত্যা, রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে হামলায় আর্ন্তজাতিক আইনকে মারাত্বকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবানদের লিঙ্গগত বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন, নেপালে দলিত নারীদের সাথে ঘটা সহিংসতার কোন নিরপেক্ষ তদন্ত না করা সহ অ্যামনেস্টির রির্পোটে উঠে এসেছে কিভাবে বিশ্বে সংঘাতের মাত্রা বেড়েই চলছে। ইরানে যুদ্ধে প্রায় ৩০০০ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের হামলায় লেবাননে ২৪০০ জন নিহত, ২০২৩ সাল থেকে গাজায় প্রায় ৭৫ হাজার জন নিহত, রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনে ১৫০০০ জন নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আইনহীন পরিস্থিতিকেই প্রকাশ করে। এতে বিশ্বে এমন এক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে যেখানে বেসামরিক মানুষ হত্যা করাকে স্বাভাবিকীকরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ক্যালমার্ড। ক্রমাগত সহিংসতা চালিয়ে যাওয়ার পরও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সংঘাত বাড়তেই থাকবে।

মো তৌহীদুল ইসলাম
১ মাস আগেএই যুদ্ধ বন্ধ করা হোক