ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আবারও ইউরোপ মুখি হচ্ছে বৃটেন

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাজ্য তার পররাষ্ট্রনীতি পুনর্মূল্যায়ণকরে আবারও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী নীতির একটি বাস্তব পরিবর্তন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা ছাড়া যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ব্যবস্থায় ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল জানিয়েছে, ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি এবং উৎপাদন খাতে চাপ বাড়ছে।
লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউস-এর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. সানাম ভাকিল বলেছেন,
“ইরানকে কেন্দ্র করে যে আঞ্চলিক সংঘাত তৈরি হয়েছে, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করছে। যুক্তরাজ্যের জন্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া এখন বাস্তব প্রয়োজন।”
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়ান বেগ মন্তব্য করেছেন,
“ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বতন্ত্র অবস্থান নিতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, সংকটের সময়ে আঞ্চলিক সহযোগিতাই সবচেয়ে কার্যকর। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিরাপত্তায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও কিছুটা কৌশলগত দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ম্যালকম চ্যালমার্স বলেছেন,
বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যকে দেখিয়ে দিয়েছে যে এককভাবে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে কার্যকর থাকা কঠিন। ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আয়ান বেগ বলেছেন,
ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বতন্ত্র অবস্থান নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংকট দেখিয়েছে যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা থাকলেও বাস্তবতার কারণে দেশটি আবারও ইউরোপীয় জোটের দিকে ঝুঁকছে, যা ভবিষ্যতের ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন