রোবটের হাতে সেনা আটক

ফন্ট সাইজ:

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মানবসেনার অভাব মেটাতে এবং নতুন সেনার সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধে রোবট পাঠাচ্ছে ইউক্রেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায় ২ জন সেনা হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে আটক করা হয়েছে। সামনে দাঁড়ানো অস্ত্রধারীর ভূমিকায় আছে ভূমিতে চালিত রোবট, যাদেরকে কয়েক মাইল দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন পাইলট। এটা কোনো মুভির দৃশ্য নয়। যুদ্ধের বাস্তব চিত্র। ঘটনাটিতে একটি বুলেটও খরচ করতে হয়নি। সিএনএনকে এই তথ্য জানান মায়কোলা জিনকেভিচ। তিনি অভিযানটি পরিচালনা করছিলেন। মানুষের পরিবর্তে রোবট দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা এখন নিয়মিত ঘটনা। জিনকেভিচ এনসিথ্রি অ্যাসল্ট ব্রিগেডের হয়ে কাজ করেন। এই ব্রিগেড ভূমিতে অভিযান এবং রোবটিক আক্রমণ পরিচালনা করে। তিনি বলেন, এটাই ইতিহাসের প্রথম ঘটনা যেখানে রোবট এবং ড্রোন মানুষকে আটক করেছে কোনো প্রকার মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই। এ ঘটনায় কিয়েভের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রকাশ পায়। রাশিয়ার বিশাল সেনাবাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করে জিনকেভিচ বলেন, আমাদের ড্রোন এবং রোবটের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।
কারণ আমরা এত সেনা জোগাড় করতে পারবো না। আমাদের প্রযুক্তিগতভাবেই আগাতে হবে। গত বছর মাত্র একটি মেশিনগান সংবলিত ল্যান্ড রোবট দিয়ে ৪৫ দিন রাশিয়ার একটি অগ্রগামী দলকে আটকে রাখা সম্ভব হয়। এর জন্য খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হয়নি। ২ দিন অন্তর চার্জ দিলেই রোবটটি কাজ করেছে। এখন ইউক্রেন পরিকল্পনা করছে এ বছরের মধ্যেই এক-তৃতীয়াংশ পদাতিক বাহিনীকে রোবট ও ড্রোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করার। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, গত ৩ মাসে রোবট দিয়ে ২২ হাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে ২২ হাজার বার মানুষের জীবনকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে সেনার পরিবর্তে ড্রোন বা রোবট পাঠানো হচ্ছে। ইউক্রেন ড্রোন শিল্পে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এবং রোবট ব্যবহারে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন