কুকুর নিধন নিষিদ্ধ থাকায় প্রতি বছর কমলনগরে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা। রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে শিশু শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এদিকে কুকুরের আক্রমণের শিকার হলে সরকারি হাসপাতালে মিলছে না ভ্যাকসিন। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে জলাতঙ্ক রোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির শঙ্কা। কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন গবাদিপশু। সরজমিন দেখা গেছে, কুকুর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অভাবে জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থীরা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুর, বিড়াল বা হিংস্র পশু কামড়ানো প্রতিষেধক ইনজেকশন বা ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় আক্রান্ত হওয়া লোকজনকে চড়ামূল্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। জানা যায়, এ উপজেলায় প্রতিদিন অসংখ্য গৃহপালিত পশু কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। বহু হাঁস-মুরগি খেয়ে সাবাড় করে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো। কখনো কখনো কুকুরের কামড়ানো পশুর চিকিৎসা দিতে না পারায় মারা যাওয়ার ভয়ে জবাই করে গোপনে গোশত বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোড়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায়, বিভিন্ন খোলা স্থাপনার ছাদের নিচে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো অবস্থান করে। আট থেকে ১০টি কুকুর দল বেঁধে রাস্তায় ও বাড়িঘরের আঙিনায় চলাচল করে। সুযোগ পেলেই মানুষের বাড়িতে পোষা হাঁস-মুরগি, ছাগলের বাচ্চা ধরে নিয়ে যায়। ওদের ধাওয়া করলে উল্টো মানুষকে আক্রমণ করে। কুকুরের আক্রমণে মানুষসহ বিভিন্ন পশু ও প্রাণী আক্রান্ত হয়। শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে সাহস পায় না। ভোর বেলা মুসল্লিরা মসজিদে যাওয়ার সময় রাস্তায় শুয়ে থাকা সংঘবদ্ধ কুকুরগুলো তাদের আক্রমণ করে। কুকুরের উৎপাতে পথ চলতে পথিকেরা বিড়ম্বনায় পড়েন। বেওয়ারিশ এসব কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন এর উপদ্রব বেড়েই চলছে। চিকিৎসকদের মতে, কুকুরের কামড়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো জলাতঙ্ক। এ সময় দুই থেকে তিনটি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে আক্রান্তদের ভ্যাকসিন নিতে যেতে হচ্ছে জেলা সদর ও পার্শ¦বর্তী নোয়াখালীতে। এ ছাড়াও কুকুরগুলোকে নিয়মিত ভ্যাকসিনের আওতায় না আনা গেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভুক্তভোগীরা যেমন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তেমনি গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচও। এক চিকিৎসক বলেন, তারা কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা দিলেও মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, কারণ রাস্তার কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন দেয়া বা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। যার কারণে প্রতিদিনই জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।
উপজেলার হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান তালুকদার বলেন, বাজারের পাশে হাজিরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পথে অনেকগুলো বেওয়ারিশ কুকুর দলবেঁধে ঘুরাঘুরি করে। এদের আক্রমণ থেকে কেউ রেহায় পায় না।
কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, হাসপাতালে কুকুরের কামড়ানোর প্রতিষেধক ইনজেকশনে সরবরাহ নেই। প্রতিদিন তিন থেকে চারটি করে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ছাগল-গরু আনা হয়। তবে সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেই।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু উপজেলায় সরকারের এ ধরনের পরিকল্পনা আছে কিনা আমার জানা নেই।
কমলনগরে বেওয়ারিশ কুকুর আতঙ্কে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
