ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাফিউর রহমান ফারাবীর জামিনের পর তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছেন বলে জেরায় স্বীকার করেছেন সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন বাকি জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।
গত ১৯ এপ্রিল দেয়া জবানবন্দিতে মাসরুর আনোয়ার বলেন, ‘২০২০ সালে গুমের শিকার হয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ জেরা শুরু হয়। এদিন ৭ আসামির পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। এ সময় সাক্ষীকে নানা প্রশ্ন করেন তিনি।’
২০২০ সালে হোটেল হলি ডে ইন-এ পারচেজ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন না বলে দাবি করেন আইনজীবী টিটো। জবাবে সত্য নয় বলে জানান মাসরুর।
এছাড়া জেরায় তিনি উল্লেখ করেন, এটা সত্য নয় যে, ২০২০ সালের ৬ মার্চ হকার্স মার্কেটের আবদুল করিম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে আমাকেসহ আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ওই দিন আমিসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে জঙ্গি নাটক সাজানো হয়।
এ পর্যায়ে সাক্ষীর উদ্দেশে টিটো বলেন, ‘একই দিন আপনার কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী লিফলেট, বই জব্দ করে র্যাব-১১। একইসঙ্গে আপনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য ছিলেন।’ জবাবে সত্য নয় বলে জানান মাসরুর।
এরপর সাক্ষীর কাছে শাফিউর রহমান ফারাবীর সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কিনা জানতে চান আইনজীবী টিটো। জবাবে মাসরুর বলেন, ‘ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাফিউর রহমান ফারাবী জামিন পাওয়ার পর তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছি।’
এ পর্যায়ে আসামিপক্ষের এই আইনজীবী দাবি করেন, ২০২০ সালের ১ মার্চ আপনাকে (মাসরুর) কেউ আটক করেনি। গুম করেও রাখা হয়নি। প্রতুত্তরে সত্য নয় বলে জানান তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে সাবেক-বর্তমান ১০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
