হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম উদ্ভোধন করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদ্জ্জুমান মিল্লাত।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালুর ফলে দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি পাবে, আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় ট্রাফিক মনিটরিং ও কন্ট্রোল আরও কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের আকাশসীমার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়াবে। ভবিষ্যতে এফআইআর সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আফরোজা খানম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে আজ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে ফ্রান্স সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, থ্যালেসের সরবরাহকৃত প্রযুক্তি আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা বিমান চলাচলকে আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলবে।
সচিব ফাহমিদা আখতার তার বক্তব্যে বলেন, আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগ নিরাপত্তা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আকাশপথ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিষ্ঠিত এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এটিএম-সিএনএস সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে এই সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তি বাংলাদেশের আকাশপথকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
বেবিচক-এর সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম বলেন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে সমন্বিত ফ্লাই ডাটা প্রসেসিং. রাডার ও উন্নত সেফটি নেট ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম, ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ওভারফ্লাইট রাজস্ব বৃদ্ধি, বিলম্ব হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছে বাংলাদেশের আকাশসীমার আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে।
