পাইলট উদ্ধার অভিযানের সময় ট্রাম্পকে কন্ট্রোল রুমের বাইরে রাখা হয়, কিন্তু কেন?

পাইলট উদ্ধার অভিযানের সময় ট্রাম্পকে কন্ট্রোল রুমের বাইরে রাখা হয়, কিন্তু কেন?

ফন্ট সাইজ:

ইরান বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। তবে এর মধ্যে মনে হচ্ছে, যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের যে তীব্র ইচ্ছা তা কমে এসেছে। তিনি একদিকে ভীতির মধ্যে আছেন, অন্যদিকে আপোষ করার দোলাচলে ভুগছেন। তিনি ইরানের সাথে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে এমন ভয় গ্রাস করে আছে যে, পরিস্থিতি ১৯৭৯ সালের জিম্মি সংকটের মতো ঘটতে পারে। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতার সর্বশেষ উদাহরণ।

মার্কিন সামরিক সংঘাতে ট্রাম্পের এমন কৌশল এর আগে কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে ভূপাতিত মার্কিন বিমানের এক পাইলটকে উদ্ধারে দুঃসাহসিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযান সম্পর্কে ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা তাকে খুব অল্প তথ্য দিয়েছিলেন। এর কারণ তাদের ভয় ছিল, ট্রাম্পের অধৈর্য্যের কারণে উদ্ধার অভিযানে আরও বেশি পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারতো। এ ছাড়া ট্রাম্প চলমান যুদ্ধে তার মনোনিবেশ হারিয়ে ফেলছেন বলেও রিপোর্টে উঠে এসেছে। তিনি তার উপদেষ্টাদের বলছেন, তিনি অন্যকিছুতে এখন মনোনিবেশ ঘটাতে চান।

কন্ট্রোল রুমের বাইরে রাখা হয় ট্রাম্পকে?
গত মার্চে ট্রাম্প যখন জানতে পারেন ইরানি বাহিনী মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে, তখন তিনি তার রাগ আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। তিনি সহযোগীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী চিৎকার করেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প সে সময় বলেন- দেখুন, জিমি কার্টারের সঙ্গে কি ঘটেছিল, হেলিকপ্টার ও জিম্মিদের সঙ্গে কি হয়েছিল।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প কেন দ্বিধায়?
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দ্বিধার কথাটিও রিপোর্টে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মার্কিন সেনা হতাহত ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কায়। ট্রাম্পের সহযোগীরা তার এই যুদ্ধে জড়িত হওয়া কীভাবে পরিচালনা করছেন তা নিয়েও তিনি চিন্তিত। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে আলোচনায় আনতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ, ট্রাম্পের পদক্ষেপ ইরানের যুদ্ধে কীভাবে সফলতা আনছে তা নিয়ে উদ্বেগ আছে। ইরানি আকাশসীমায় মার্কিন বিমান ভূপাতিত হলে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে দু’জন ক্রুকে উদ্ধার করতে চান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনারা ইরানের ভূখণ্ডে ছিল না। সর্বশেষ তারা ইরানে ছিল ১৯৭৯ সালের জিম্মি সংকটের সময়।

ট্রাম্পের শঙ্কা
ইরানকে গুঁড়িয়ে দেয়া ও খার্গ দ্বীপ দখলে নেয়ার হুমকি সত্ত্বেও ক্ষতি হোক এমন পথে মার্কিন সেনাদের পাঠাতে ভয়ে ছিলেন ট্রাম্প। এই ঘটনার সঙ্গে জ্ঞাত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প শঙ্কা করছিলেন যে সেনারা আহত হতে পারে এবং কিছু সেনা ইরানি ভূখণ্ড থেকে আর না-ও ফিরতে পারে। এ ছাড়া ট্রাম্প ইরানের পুরো সভ্যতা গুঁড়িয়ে দেয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ বার্তাও দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ট্রাম্পের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধেও মরিয়া হয়ে আছেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ধারণা ইরানিদের আলোচনার টেবিলে আনতে তাদের উপহাস করা ও অস্থিরতা কাজে দেবে। ট্রাম্প তার একজন সহযোগীকে বলেন, ইরানিরা শুধুমাত্র ভয় ও উপহাসের ভাষা বুঝে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন