অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে হওয়া চুক্তির সব শর্তে বর্তমান সরকার একমত নাও হতে পারে। বলেন, আমরা একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। দাতা সংস্থার সিদ্ধান্তে সবকিছু হবে না; আমাদেরও নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও নীতি রয়েছে। তবে আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর মধ্যে আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনা আরও ১৫-২০ দিন এমনকি এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। অবশ্য বিশ্বব্যাংক ও এডিবি’র সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। গতকাল সচিবালয়ে তার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছে। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিটি দাতা সংস্থাগুলোর কাছেও উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অতিরিক্ত বাড়ানো হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘তেলের দাম তো আইএমএফ মিটিংয়ে যাওয়ার আগে বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।’
‘আমাদের সবাই বলেছে, আপনারা তেলের দাম বাড়াচ্ছেন না কেন, আপনার তহবিল তো খালি হয়ে যাচ্ছে। তেলের দাম না বাড়ালে সরকার দেশ চালাবে কী করে?’ তেলের দাম যতটুকু বাড়ানো হয়েছে তা খুবই নগণ্য। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা বাড়াতে হয়েছে শুধু আমাদের তহবিলের ওপর এত চাপ আসছে, আমাদের তো বাকি প্রোগ্রাম চালাতে হবে।’
মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, আবার না-ও পারে। তবে সরকার তেলের মজুত ঠিক রেখেছে। শুধু তেলের দামের ওপর নির্ভর করে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে না।
সবশেষে অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো বর্তমান সরকারকে সহযোগিতায় অত্যন্ত আগ্রহী। খুব শিগগির বিশ্বব্যাংক ও এডিবি’র প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনেক ইস্যু ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। তবে কয়েকটি ইস্যু এখনো আলোচনার মধ্যে আছে। এগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপে এগোবো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে প্রোগ্রামটি আওয়ামী লীগের সময়ে নেয়া হয়েছে। এখানে অনেক শর্ত আছে, এর অনেকগুলো বিএনপি সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে। আওয়ামী লীগ ছিল অনির্বাচিত সরকার, বিএনপি নির্বাচিত সরকার। আইএমএফের সঙ্গে শর্ত যদি জনগণের কোনো ধরনের স্বার্থ সংরক্ষণে বাধা হয়, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকার নেবে না। আইএমএফের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে প্রোগ্রাম সেটি ৬ থেকে ৭ মাস পর শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে প্রোগ্রামে যাওয়া হবে কিনা, সেটি এই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারকে বাইরে রেখে কোনো দাতা সংস্থার শর্ত পূরণের সুযোগ নেই।

মিলন আজাদ
১ মাস আগেআইএমএফ এর ফাঁদ বড় ভয়ংকর ফাঁদ একবার পরলে রক্ষা নাই, আজ পর্যন্ত যতগুলো দেশ আইএমএফ এর শর্তে পরেছে সে সব দেশের জণগন ব্যপক ভাবে দুর্গতিতে পরেছে। অর্থনীতি খাতেরও বিপর্যয় হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর জনগনের কাছে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন।