রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সতর্ক বিএনপি

সহযোগীদের খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সতর্ক বিএনপি

ফন্ট সাইজ:

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সতর্ক বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, এ নিয়ে জনমনে কৌতূহলের শেষ নেই। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতার পাশাপাশি দলের বাইরেও দু-একজনের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে আলোচনায় আছে। তবে প্রকৃত অর্থে কে ওই পদে মনোনয়ন পাবেন, তা নির্ভর করছে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত সময়ে বিএনপির মনোনীত তিনজন রাষ্ট্রপতির বিষয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে দলটির সামনে। ফলে ওই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার দলটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী এবং সর্বোপরি গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে দলটি। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে বিএনপি এবার তাড়াহুড়া করার পক্ষে নয়। দলটি অনেক ভেবেচিন্তে এবং কিছুটা সময় নিয়ে এ প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেবে।

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের এখতিয়ার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর থাকলেও প্রয়োজনে তিনি স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেও এ বিষয়ে পরামর্শ করতে পারেন। বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে।

তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই গ্রহণ করা হবে।’ জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখেই আমরা দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্বে দেখতে চাই।’

বুধবার যুগান্তরকে প্রায় একই ধরনের মতামত দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি বেছে নেবে; যিনি একই সঙ্গে হবেন দক্ষ, বিজ্ঞ এবং দেশের প্রতি যার আনুগত্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গত ১৮ বছর স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়লাভ করেছেন। সুতরাং তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ওপরে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীর আস্থা রয়েছে। সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করে তিনি যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবেন।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। জানা যায়, সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু এখনই এ নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে-কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

পাশাপাশি বিএনপিই বা কেমন রাষ্ট্রপতি চায়, সেদিকেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের পাশাপাশি সচেতন জনগোষ্ঠীর নজর রয়েছে। বলা হচ্ছে, মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির প্রতি আনুগত্য বা বিশ্বাসযোগ্যতার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির দক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে অতীতের ভালো এবং তিক্ত-দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় বিএনপি বিবেচনায় নেবে বলে দলটির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। প্রথমত, দেশ ও দলের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস; দ্বিতীয়ত, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা এবং তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি পদের নেতা বা ব্যক্তির কিছুটা সাহস থাকাও প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি। ১৯৯৬ সালের মে মাসে বিএনপি সরকারের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাহসিকতায় তৎকালীন সেনাপ্রধান লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। কিন্তু বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য থাকলেও অদক্ষতার কারণে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ব্যর্থ হন বলে অনেকে মনে করেন। এর ফলে দেশে এক-এগারোর জরুরি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। এরপর রাষ্ট্রপতি হিসাবেও তিনি সাহসী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। সার্বিকভাবে এর ফলাফল পুরোপুরি বিএনপির বিপক্ষে গেছে বলে আলোচনা আছে। অনেকের মতে, শুধু দলীয় আনুগত্য যে কাজে লাগে না, ইয়াজউদ্দিনের ঘটনায় তা প্রমাণিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, আগের রাষ্ট্রপতিদের মতো নয়, বরং তাদের থেকে ভিন্নধারার ও যোগ্য একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচন করা প্রয়োজন। বিগত রাষ্ট্রপতিদের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের আগের রাষ্ট্রপতিদের যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল এবং তারা কেউ কেউ যথেষ্ট মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন না।’

আদর্শ রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি ও প্রধান নাগরিক। তাই এই পদে একজন সৎ, মর্যাদাসম্পন্ন, মানসম্মত ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে বসানো উচিত। সরকার দেশের স্বার্থে একজন উপযুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেবে, তেমনটাই প্রত্যাশা থাকবে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘নিছক রাজনৈতিক বিচারে বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া সমীচীন নয়। যদিও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত, তবুও জাতীয় সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান পদে এমন একজন ব্যক্তিত্ব আনা প্রয়োজন, যার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্ধ বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ক্ষমতাসীন দল যদি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

অন্যদিকে, সাহসের অভাব না থাকলেও বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে রাষ্ট্রপতি করা হয়। কিন্তু ওই পদে তাকে বেছে নেওয়ার ফলও শেষ বিচারে বিএনপির পক্ষে যায়নি।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন না করা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ না করা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে মুন্সীগঞ্জে স্বাগত জানিয়ে ছেলে মাহী বি. চৌধুরীর তোরণ নির্মাণসহ কয়েকটি ঘটনায় মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। এসব ঘটনার সূত্র ধরে ২০০২ সালের ১৯ ও ২০ জুন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাকে ‘ইমপিচ’ করার সিদ্ধান্ত হলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বি. চৌধুরী ও তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরীর সব কর্মকাণ্ডই ছিল বিএনপিবিরোধী।

এসব ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ এক নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ নয়। বি. চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করে বিএনপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অন্যদিকে, অদক্ষতার কারণে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাই রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ নেই। কারণ, রাজনৈতিক সংকটের সময় এ পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়।’ দলীয় নেতাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পরিপক্বতার বড় পরীক্ষা।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তরকে বলেন, ‘যিনি সত্যি সত্যি দেশের অভিভাবক হতে পারবেন, তাকেই বিএনপির রাষ্ট্রপতি করা উচিত।’ তার মতে, ‘২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পরে কী ধরনের রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত, কীভাবে হওয়া উচিত, সেটা তো জুলাই সনদের মধ্যে বলা আছে। আমি বলব, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হোক। কিন্তু সেটাও তো হবে না। কারণ, উচ্চকক্ষ হচ্ছে না। রাষ্ট্রপতি আগের নিয়মেই হবে।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার যুগান্তরকে বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতি হতে হবে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং পূর্ণাঙ্গ অর্থে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি পদটি যেন কোনো দলীয় অন্ধ আনুগত্য বা কানাঘুষার কেন্দ্রবিন্দু না হয়। যিনি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হবেন; জনগণ, দেশ এবং সংবিধানের প্রতি তার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে, যে কোনো বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাকে শক্ত ও অনড় অবস্থান নিতে হবে। অতীতে আমরা রাজনীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রপতি খুব কমই দেখেছি। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে, মানুষ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে সক্ষম-এমন একজন নিরপেক্ষ ও যোগ্য রাষ্ট্রপতিই প্রত্যাশা করে।’

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ২২ জন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তবে সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও আওয়ামী লীগের বিবেচনায় তিনি ছিলেন ‘বিশ্বাসঘাতক’। এছাড়া সদ্য বিদায়ি মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হলেও গণ-অভ্যুত্থানে বিতাড়িত শেখ হাসিনার প্রতি তার দুর্বলতা দেশের মানুষ ভালোভোবে নেয়নি। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, রাষ্ট্রপতির যে সম্মান বা মর্যাদা, তা মো. সাহাবুদ্দিন অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে অতীতের সব ঘটনা বিশ্লেষণ করেই এবার রাষ্ট্রপতি পদে একজনকে বসাতে চায় বিএনপি। তাছাড়া এ প্রশ্নে যতটা সম্ভব বিতর্কও এড়াতে চায় দলটি।

প্রথম আলো

‘গ্যাস–সংকটের সঙ্গে চলছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সারা দেশে গ্যাসের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে শিল্পের চাকা ও রান্নার চুলা। কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এতে গ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। কবে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধ এলএনজি টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। এর আগে বন্ধ টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি চালু করা গেলে দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যাবে। এতে সংকট কিছুটা কমবে।

পেট্রোবাংলার দুজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশ থেকে বেশ কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করে আনা হয়েছে। সেগুলো ইতিমধ্যে টার্মিনালে পৌঁছে গেছে। বিদেশি কারিগরি দলের সঙ্গে দেশীয় একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন প্রকৌশলী যোগ দিয়েছেন। অক্ষত বয়লার থেকে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ চালু করতে জোর তৎপরতা চলছে। তবে এটি চালুর সময় নির্দিষ্ট করে এখনো বলা যাচ্ছে না। আজ-কাল (শুক্র-শনিবার) একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

গ্যাস–সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে সরকার। দেশটি থেকে আইএসও ট্যাংকারে (বিশেষ কনটেইনার) করে এলএনজি আনার আলোচনা চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি। তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস আসার তেমন কোনো সুযোগ নেই। এলএনজি টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের সংকট কাটবে না।

কয়েক দিন ধরে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। পেট্রোবাংলা ও ঢাকার গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসও গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আবারও পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ থাকবে।

তীব্র গ্যাস–সংকটের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে নীতিগত অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ৬৭ শতাংশ ও পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিতে ৫১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থার বিতরণ চার্জ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর আবেদন করবে তারা। এরপর গণশুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে বিইআরসি।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা সরকারের নেই। মানুষ গ্যাস–সংকটে আছে। হঠাৎ করে একটি টার্মিনালে কারিগরি দুর্ঘটনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই মানুষকে স্বস্তি দিতে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত বাড়ানোর সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি গ্যাসের বিকল্প উৎস তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো চিঠির কথা তিনি জানেন না।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, আরেকটি বেসরকারি কোম্পানি সামিট। এর মধ্যে ২১ জুলাই আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর দেশে গ‍্যাসের সংকট বেড়ে যায়।

ভোগান্তি কমছে না গ্রাহকের


প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে। দিনে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল এটি ৪৬ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে দিনে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২১১ কোটি ঘনফুটের নিচে এখন। যদিও দিনে চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনাল বন্ধের আগে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ রান্নার চুলা জ্বালাতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করছেন মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার মানুষ। মোহাম্মদপুরের জেসমিন আকতার প্রথম আলোকে বলেন, দিনে না পেয়ে রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চুলায় গ্যাস পাননি। নবোদয় হাউজিং এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে চুলা জ্বলে না। সুমাইয়া খান বলেন, কিছুদিন ধরে চুলাই জ্বলে না। সালমা আকতার বলেন, তাজমহল রোডে পাঁচ দিন ধরে একবারের জন্যও চুলা জ্বালানো যায়নি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের সরবরাহ আরও কমায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। রান্না করতে অনেকেই বিদ্যুৎ–চালিত চুলার দিকে ঝুঁকছেন। এতে বিদ্যুৎ চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন বৃষ্টি থাকায় চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত। না হলে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হতো। বেশি খরচের তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সামাল দেওয়া হচ্ছে। আর বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পিডিবির টিকে থাকা কঠিন হবে।

পিডিবি বলছে, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে ২০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি। গত বুধবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি। গতকাল দিনের বেলায়ও লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট। তবে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে।

শিল্পমালিকেরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ভালুকা এলাকার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। কোনো কোনো কারখানা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। আর কোনো কোনোটি ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। গ্যাসের পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি শুরু হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কেউ কেউ ডিজেল ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ ঝুঁকছেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে।

আর্থিক ঘাটতি কমাতে চায় পেট্রোবাংলা

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে টানা চার মাস দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ক্ষতি হয়েছে ১৭ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার থেকে ভর্তুকি দিয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এখনো ঘাটতি আছে ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। এরপর জুলাই মাসেও তাদের লোকসান অব্যাহত আছে। বিশ্ববাজারে এখনো এলএনজির দাম বাড়তি।

পেট্রোবাংলার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ইউনিট এলএনজি কিনতে খরচ হয়েছে গড়ে ১১ ডলার। একই দামে এলএনজি কিনতে পারলে প্রস্তাব অনুযায়ী গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর পেট্রোবাংলার বাড়তি আয় হবে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। অবশ্য এটি থেকে বিতরণ কোম্পানির বর্ধিত চার্জ শোধ করা হবে। এরপরও প্রস্তাব অনুসারে দাম বাড়ানো হলে পেট্রোবাংলার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে না। হলেও দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি নয়।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এলএনজির বাজার শিগগিরই আগের দামে না–ও ফিরতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি হলে এলএনজির দাম আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম ২১ ডলারের বেশি। তাই গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও সরকারকে ভর্তুকি দিতে হতে পারে।

শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকেরা বলছেন, প্রতি মাসে শিল্পে একটা ন্যূনতম বিল নির্ধারিত আছে। বাসাতে মিটার ছাড়া গ্রাহকদের বিল নির্ধারিত। কোনো গ্যাস না পেলেও এটি তাঁদের পরিশোধ করতে হচ্ছে। অথচ সুযোগ পেলেই দাম বাড়াতে চায় পেট্রোবাংলা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় ৩৩ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ সালে সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলে গড়ে ৮২ শতাংশ দাম বাড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই সময় শিল্পে বাড়ানো হয় ১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত; কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ বাড়েনি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে মানুষ বছরের পর বছর ভোগান্তির মধ্যে আছেন। নানা কারণে বছরে কয়েকবার সংকট আরও বাড়ে। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা বিদ্যুৎ–চালিত চুলা বা জেনারেটরের মতো বিকল্প খুঁজে নিচ্ছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এর মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেট্রোবাংলার গণবিরোধী আচরণ। বরং গ্যাস দিতে না পারায় গ্রাহকের গ্যাস বিল ছাড় দেওয়া উচিত সরকারের।

কালের কণ্ঠ

‘গুজব-অপতথ্যে শাস্তি বাড়ছে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সাইবার পরিসরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তির মাত্রা আরো কঠোর করতে পাস হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় আবারও ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন সংশোধনীতে ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘মানহানি’ ও ‘হেয় প্রতিপন্ন’ সংক্রান্ত অপরাধের পরিধি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে আইনটি বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিশেষায়িত সংস্থাকেও সরাসরি সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

ব্যক্তিগত আক্রোশ, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে চরিত্র হননের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এক শ্রেণির অপরাধী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ফেক অডিও-ভিডিও তৈরি এবং বিকৃত ছবি ছড়ানোর মতো অপরাধ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো বেশি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের কার্যকর প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা, সাইবার অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার ঘাটতির কারণে দেশের ভার্চুয়াল জগতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

এর শক্ত প্রতিকারের পথ খুঁজতেই সরকার আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। খসড়া সংশোধনীতে যা থাকছে : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত আইনের বিলটি এরই মধ্যে চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এটি উত্থাপিত হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য ভার্চুয়াল জগতে ক্রমবর্ধমান প্রোপাগান্ডা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে আইনি পরিকাঠামোকে আরো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।

গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর নতুন অপরাধ

খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, সাইবার পরিসরে যেকোনো ধরনের ‘গুজব’ বা ‘অপতথ্য’ প্রকাশ, সম্প্রচার কিংবা প্রচার করাকে সরাসরি নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এই অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনের খসড়ায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: গুজব এমন যেকোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা কিংবা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে বা এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

অপতথ্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এমন সব মিথ্যা, ইচ্ছাকৃত বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, যা কোনো বিশেষ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়।

এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার: আইনের ২৫ নম্বর ধারায় মানহানি ও হেয় প্রতিপন্ন সংক্রান্ত অপরাধের পরিধি আরো বিস্তৃত ও সুস্পষ্ট করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন বা মানহানি করা হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর বিধান: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে লক্ষ্য করে যদি এআই বা কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হয়, তাহলে অপরাধীর সাজা হবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড। এ ক্ষেত্রে মানহানির সার্বিক ব্যাখ্যা নির্ধারণে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার মানদণ্ড প্রয়োগের উল্লেখ রাখা হয়েছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এ লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন– তা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই বৈঠকটি ডাকল বিএনপি। সভায় দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের কয়েকজন নেতা সমকালকে জানান, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে। তবে দলের ভেতরের কিছু নেতা এ বিষয়ে বিরোধিতা করছেন।

নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজর মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তিনি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চান, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হোক, সেটা আমরা চাই না। তাই সবকিছু খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্যই দলীয় নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেন স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে কোনো অসংলগ্ন বক্তব্য না দেওয়া হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখেই দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্বে দেখতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির অন্য নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ নয়; রাজনৈতিক সংকটের সময় এই পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাই ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি পদে এমন কাউকে চাই, যার সততা নিয়ে প্রশ্ন নেই। যিনি সংবিধানের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দলীয় পরিচয় থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানের নাম আগেই আলোচনায় ছিল। তবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও। দলের বাইরে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে আলোচনায়। এ ছাড়া একজন সচিব ও রাজনীতির বাইরে কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে।

দলটির নেতারা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলতে চায় বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের যে ভারসাম্য, তা রক্ষা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমন কাউকে নির্বাচন করা হবে না, যিনি সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি করবেন, আবার একই সঙ্গে এমন কাউকে আনা হবে না, যিনি বঙ্গভবনের সাংবিধানিক পদের গুরুত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।

বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান সমকালকে বলেন, এমন একজনের রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আরেক নেতা বলেন, দলীয় আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২৪ জুলাই বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

জানা গেছে, বিএনপির ৩১ দফা কিংবা ঘোষিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে পদ্ধতির কথা ছিল, সেটা এবার হচ্ছে না। ফলে আগের নিয়মেই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতে আসবেন। আর জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ইত্তেফাক

‘সম্পর্ক শক্তিশালী করতে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত ঢাকা-ওয়াশিংটন’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সার্জিও গোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত চমত্কার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান এবং এটাকে আরো কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে ব্যাপারে আমরা ইতিবাচক আলোচনা করেছি।

এর আগে গতকাল দুপুরে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসে পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তার পৌঁছানোর তথ্য জানানো হয়। পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগ

ত অংশীদারত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালী করবে। গত জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন গোর।

সফরের প্রথম দিনে সন্ধ্যায় সার্জিও গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসেন। পরে খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট একান্তে কথা বলেন সার্জিও গোর।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গোর বলেন, আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত্ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবার সার্জিও গোর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে যাবেন। আগামীকাল শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন।

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ গোর ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘চিপযুদ্ধের নতুন ফ্রন্টে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব-ভূরাজনীতি ও কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু একসময় যা ছিল জ্বালানি তেল, গ্যাস কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রণালী, একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এসে তা বন্দী হয়েছে কয়েক মিলিমিটারের ক্ষুদ্র এক টুকরো সিলিকন চিপে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ষষ্ঠ প্রজন্মের (৬জি) টেলিযোগাযোগ, হাইপারসনিক পেণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক যানবাহন কিংবা আধুনিক স্যাটেলাইট-বৈশ্বিক প্রযুক্তির প্রতিটি অঙ্গের মূল প্রাণশক্তি হলো এই সেমিকন্ডাক্টর।

এই বৈশ্বিক প্রোপটে ২০২৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিয়ার সামিট ২০২৬ (National Semiconductor Symposium & BEAR Summit 2026) আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ ঘরানার প্রযুক্তি সম্মেলন মনে হলেও, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের চোখে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তবে এই আয়োজন এমন একসময়ে ঘটল, যখন বিশ্বরাজনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার তীব্র চিপযুদ্ধের উত্তাপে উত্তপ্ত, আর সেই যুদ্ধের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে এক ছোট্ট দ্বীপ-তাইওয়ান।

ঢাকায় আয়োজিত এই সম্মেলনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিং কোনো প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানায়নি। তবে ভেতরের তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনাকে বেইজিং তাদের রেড লাইনের সাথে যুক্ত একটি বিষয় হিসেবে দেখছে। ঠিক যেভাবে বিএনপির পূর্ববর্তী সরকারের সময় ঢাকায় তাইওয়ানের ট্রেড সেন্টার খোলার বিষয়টিকে দেখেছিল।

এই সম্মেলনে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) কিংবা তাইওয়ান সরকারের কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন কি নাÑ সে বিষয়েও কোনো নথিভুক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে পর্দার আড়ালে এই সম্মেলনকে ঘিরে যে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর নীরব চিপ কূটনীতি শুরু হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

ঢাকার সম্মেলনে কী ঘটল: বাংলাদেশের প্রাথমিক কৌশল : বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল ল্য ছিলÑ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশ হিসেবে যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক টেক জায়ান্ট যেমনÑ টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টস, গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, অ্যাপ্লায়েড ম্যাটেরিয়ালস, এনএক্সপি সেমিকন্ডাক্টরস, ক্রেডো টেকনোলজি গ্রুপ এবং স্যানডিস্ক-এর প্রতিনিধিসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার মূল সুর ছিল : চিপ ডিজাইন, টেস্ট ভেরিফিকেশন, দ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব।

বণিক বার্তা

‘দিনে বন্ধ রেখে রাতে শিফট চালু করছে অনেক শিল্প-কারখানা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার সংবাদ। খবরে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের একটি কারখানায় গ্যাসের চাপ এখন নেমে এসেছে শূন্যের সামান্য ওপরে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে ৭-৮ পিএসআই চাপ প্রয়োজন, সেখানে মিলছে শূন্যের কাছাকাছি।

ফলে দিনের বেলায় কার্যত উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ডায়িং, ওয়াশিং, ফিনিশিংসহ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো আটকে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে দিনের শিফট সীমিত বা বন্ধ রেখে রাতের দিকে উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে কারখানাটি।

শুধু এ কারখানাই নয়, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন একই সংকটে পড়েছে। গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক উদ্যোক্তা দিনের শিফট সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ রেখে রাতের বেলায় উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছেন, কারণ ওই সময়ে কিছু এলাকায় তুলনামূলক বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে রাতের শিফটেও অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ মিলছে না। ফলে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, রফতানি আদেশের শিপমেন্ট বিলম্ব হচ্ছে এবং প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি।

কোথাও কোথাও ডিজেল ও এলপিজির মতো ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। আবার অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিভিন্ন শিল্প খাতের উৎপাদন ও রফতানি আরো বড় সংকটে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। চলমান এ সংকট কবে নাগাদ কাটবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষও।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় একটি বড় শিল্প গ্রুপের তিনটি পোশাক কারখানায় রাতের শিফটে উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প গ্রুপটির কর্ণধার বণিক বার্তাকে জানান, দিনে উৎপাদন চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় রাতের দিকে কাজ করার চেষ্টা করছেন তারা। আশুলিয়া এলাকায় আরো অনেক কারখানা একইভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘দিনে তো চলছে না, সুতরাং অনেকেই রাতে চেষ্টা করছেন। কেউ ১২টা পর্যন্ত চালাচ্ছে, কেউ আবার ফুল নাইট চালাচ্ছে। যে যার মতো করে করছে।’ তার ভাষ্য, কোনো এলাকায় রাতে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক ভালো থাকছে, আবার কোথাও অন্য কারণে দিনের চেয়ে রাতে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই কারখানাভেদে উদ্যোক্তারা নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সাভারের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানার বয়লার সচল রাখা যাচ্ছে না। এতে কাপড় ধোয়া, শুকানো, প্রেসিং ও ফিনিশিংয়ের মতো উৎপাদনের শেষ ধাপগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সাভারের নামা গেন্ডা এলাকায় অবস্থিত এনডিএল ইকো ফ্যাশনের উৎপাদন কার্যক্রম কার্যত বন্ধের পথে। আগে যেখানে ২৪ ঘণ্টা কাজ চলত, সেখানে এখন দিনে ৮ ঘণ্টা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার আলম মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্যাস সংকট দেখা দেয়ার পর সিএনজি স্টেশন থেকেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কনটেইনার পাঠালেও গ্যাস না দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে অবস্থা এমন হয়েছে, গ্যাসের সব কাজ বন্ধ। আমাদের এখানে ওয়াশের কাজ হয়। এটার জন্য গ্যাসের বিকল্প নেই। এখন ৮ ঘণ্টাও কারখানা চালাতে পারছি না। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ টাকা লস গুনতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে কারখানায় যাই না। কাজ বন্ধ, শ্রমিকরাও আসে না খুব একটা। এভাবে আর কিছুদিন চললে আমাদের পথে বসতে হবে।’

আশুলিয়ার প্রজন সোয়েটার কারখানার পরিচালক আহমেদ মোর্তুজা বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকায় কিছুটা স্বস্তি থাকলেও উৎপাদনের শেষ পর্যায়ে এসে কাজ আটকে যাচ্ছে। বয়লার চালাতে না পারলে ফিনিশিং ও আয়রন করা সম্ভব নয়। ফলে পণ্য প্যাকিং করে বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। বর্তমানে গ্যাসের যে পরিস্থিতি, তা উন্নতি না হলে রফতানিতে বড় ধস নামবে। বছরের শেষ দিকে বায়ার আসা শুরু হয়, তারাও মুখ ফিরিয়ে নেবে বাংলাদেশ থেকে।’

গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায়ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে বণিক বার্তার সরজমিন পরিদর্শনে উঠে এসেছে। গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে অবস্থিত সালেক টেক্সটাইল লিমিটেডের জিএম আরিফ জানান, স্বাভাবিকভাবে কারখানা চালানোর জন্য ৫ পিএসআই গ্যাস থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে তা ২ বা ১ পিএসআইয়ে নেমে যাচ্ছে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, কারখানাটিতে ১৪০টি উইভিং মেশিন রয়েছে এবং ৫৬০ জন শ্রমিক কাজ করছে। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এতে বায়ারের শিপমেন্ট ডিলে হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগরীর সিপিএম ওয়াশিং কারখানার কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, বর্তমানে তারা ১ পিএসআই চাপের গ্যাস পাচ্ছেন। এতে উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কারখানা বন্ধ করে দিতে হতে পারে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত মাহমুদ ডেনিমস কারখানার কয়েকটি ইউনিট গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে উপজেলার উলুসারা এলাকায় অবস্থিত মাহমুদ ফ্যাব্রিক্স অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানাটি চলছে। বুধবার কারখানাটি বন্ধ ছিল, গতকাল আংশিক চালু করা হয়েছে। কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ পিএসআই বা মাঝে মাঝে ০.৫ পিএসআই চাপ পাওয়া যায়। এতে সপ্তাহে তিন-চারদিন কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল নিয়ে সিডিপির গবেষণা: ঘাটে ঘাটে বেড়ে দাম দ্বিগুণ,ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মানুষের আয় সেই অর্থে বাড়ছে না, দিন দিন যতটা বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পরিস্থিতি এমন যে নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের ৬০ শতাংশই চলে যাচ্ছে খাবার কিনতে। অথচ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কৃষক বা খামারির কাছ থেকে খাদ্যপণ্য ভোক্তার কাছে আসতে ঘাটে ঘাটে বেড়ে দাম হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ। উৎপাদক দাম পাচ্ছেন না, ভোক্তার নাভিশ্বাস উঠছে। কিন্তু লাভের বড় অংশ কোলে টানছে আড়তদার আর মধ্যস্বত্তভোগী সিন্ডিকেট।

দেশের খাদ্যপণ্যের বাজারব্যবস্থার এমন চিত্রই উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায়। ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফার ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা-অধিকারের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টজনেরা।

সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতি আমাদের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে।

গবেষণায় দাম বাড়ার কারণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে দাম বাড়াকে কেবল উৎপাদন খরচ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে শক্তিশালী মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু সিন্ডিকেট। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্যের যে দীর্ঘ সরবরাহব্যবস্থা, সেখানে কমিশন এজেন্ট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় আমদানিকারক অনেকেই একে অপরের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা বা সিন্ডিকেট করে দাম নির্ধারণ করে দেয়। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব দেখা দেয় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছৈমতো দাম হাঁকাতে পারে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবার তাদের মোট ব্যয়ের ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যয় করে খাদ্য কিনতে। সেখানে ধনী ৫ শতাংশ পরিবার ব্যয় করে মাত্র ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে মূল্যস্ফীতিতে নিম্ন আয়ের লোকজনই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এখনো খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুদ্দিন আল কবীর বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় মানুষকে সঞ্চয় ভাঙতে বা ঋণ নিতে হচ্ছে, যা দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হয়। ওই চাল ব্যাপারী, মিলার, আড়তদার ঘুরে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। তার মানে, কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে আসতে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে ৯৫ শতাংশ।

একইভাবে কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের কাছে আসতে মসুর ডালের দাম বাড়ছে ৭৮ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, আলুতে ৫০ শতাংশ, কাঁচা মরিচে ১১৬ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ, ডিমে ২৫ শতাংশ, গরুর মাংসে ১৩ শতাংশ, মাছে ১০ শতাংশ এবং ব্রয়লার মুরগিতে দাম বাড়ছে ২২ শতাংশ।

দেশ রূপান্তর

‘আম্মারের এত শক্তির উৎস কী’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সারা দেশে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের হাত ধরে উত্থান ঘটা আম্মার গত ২ বছরে অসংখ্য অঘটনের জন্ম দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। তার কর্মকাণ্ডে বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, এমনকি রাকসু নেতারাও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২ বছরে যতগুলো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রায় সবকটিতেই কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন আম্মার।

তবে বহু অঘটনের জন্ম দিয়েও আম্মার বীরদর্পে টিকে আছেন। কোনো সমালোচনাই তাকে যেন থামাতে পারছে না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনো কখনো তাকে নিয়ে বিব্রত হওয়ার কথা বললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ছাত্রশিবিরের নেতারাও তাকে নিয়ে অস্বস্তির কথা স্বীকার করছেন। তবে যখনই আম্মার বিপদে পড়েছেন, তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশ সামাজিক মাধ্যমে তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

চব্বিশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দাপুটে ভূমিকায় অবতীর্ণ হন জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার। এরপর থেকে চলছে তিনি যেন ‘অপ্রতিরোধ্য’। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে আম্মারের ডাকে মধ্যরাতেও হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী হল থেকে বের হয়ে রাস্তায় বিক্ষোভে অংশ নেন। দাবি আদায়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আম্মারের সমর্থক হয়ে ওঠে। তবে এই সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। কথায় কথায় উগ্র আচরণ অনেককে বিব্রত ও বিস্মিত করে চলেছে।

প্রায় ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পান আম্মার। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার চালচলনে তেমন পরিবর্তন আসেনি। এমন প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আম্মারকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলেও দাবি করা হয়। ব্যঙ্গাত্মক কর্মসূচি পালন করে তার মানসিক চিকিৎসার দাবি জানান ছাত্রদল নেতারা।

সামাজিক মাধ্যমে সালাহউদ্দিন আম্মারের শব্দচয়ন নিয়েও অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ঘোর আপত্তি রয়েছে। এ নিয়ে রাকসু ভবনের ভেতরে একটি ছাত্র সংগঠনের নেতার সঙ্গে রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফের বাকবিতণ্ডাও হয়।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনেক শিক্ষকের সঙ্গে আম্মারের আচরণ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তবে কোনো কিছুই পাত্তা দিতে চান না আম্মার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো আলোচিত বা বিতর্কিত ঘটনা ঘটলেই আলোচনায় সবার আগে উঠে আসে একটি নাম সালাহউদ্দিন আম্মার। কখনো উপ-উপাচার্যের সঙ্গে মারামারির অভিযোগ, কখনো লাঠি হাতে মাদকবিরোধী অভিযান, কখনো ছয় ডিনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম বা প্রশাসনিক দপ্তরে তালা, কখনো বা জিয়া পরিষদের ব্যানার খুলে ফেলার ঘটনা এবং সবশেষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ।

ছয় ডিনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম: আম্মারকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় ছয়জন ডিনকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায়। ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ডিন নির্বাচনে ছয়টি পদে আওয়ামী লীগপন্থি প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। পরের বছর ১৭ ডিসেম্বর তাদের মেয়াদ শেষ হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার নির্দেশ দেন উপাচার্য।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অপসারণের দাবি জানান রাকসু জিএস আম্মার। একই সঙ্গে আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগের জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেন তিনি। এরপর ২১ ডিসেম্বর সকালে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে একে একে ছয় আওয়ামীপন্থি ডিনের কাছে পদত্যাগপত্র নিয়ে যাব। আমি বিশ্বাস করি, শান্তিপূর্ণভাবে তারা স্বাক্ষর দিয়ে দেবেন।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘অচল কারখানায় নতুন স্বপ্ন’। খবরে বলা হয়, বছরের পর বছর উৎপাদন বন্ধ। কোথাও মরচে ধরা যন্ত্রপাতি, কোথাও অব্যবহৃত বিশাল শিল্পভূমি। একসময় দেশের শিল্পায়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রায়ত্ত বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসান, অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং নীতিগত ব্যর্থতার কারণে অচল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে অনেক কারখানা পুরোপুরি বন্ধ, কিছু কেবল নামমাত্র চালু, আবার কিছু বিশাল সরকারি জমি নিয়ে বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে পুনরায় চালুর নামে বিভিন্ন সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমি ও সম্পদ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর বড় অংশে শিল্প চালু না করে মূল্যবান জমি অলস ফেলে রাখা হয়েছিল।

এবার সেই সম্পদগুলোকে নতুন করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে দেশিবিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনের অধীন ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পসম্পদ নিয়ে একটি বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৈরি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে ইতোমধ্যে দেশিবিদেশি একাধিক শিল্পগোষ্ঠী আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল বন্ধ কারখানা চালুই নয়, বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ব্যবহার করে নতুন শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং সরকারের আর্থিক দায় কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিডার তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৪৪টি শিল্পসম্পদের আওতায় রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ১০ হাজার একরেরও বেশি শিল্পভূমি। অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সড়ক যোগাযোগ, কারখানা ভবন, গুদাম ও অন্যান্য শিল্প অবকাঠামো আগে থেকেই রয়েছে। ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ভিত্তিতে দ্রুত বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোথায়, কী অবস্থায় : বিডার বিনিয়োগ তালিকায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি), বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিএসএফআইসি), বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন মোট ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পসম্পদ রয়েছে। বিসিআইসির তালিকায় রয়েছে খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস লিমিটেড ও খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস লিমিটেড, চট্টগ্রামের বারবকুণ্ডে চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সাভারের নয়ারহাটে ঢাকা লেদার কোম্পানি লিমিটেড এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাটে উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি- যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ। এ ছাড়া রাঙামাটির চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী পেপার মিলস এবং ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ ইনসুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি অসুস্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত। অন্যদিকে চট্টগ্রামের নর্থ পতেঙ্গায় নিউ টিএসপি সার কারখানা, নরসিংদীর পলাশে ইউএফ-৮৫ প্ল্যান্ট, ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা এলাকায় ডব্লিউপিপি ব্যাগ ফ্যাক্টরি উইথ ইনার লাইনার বিদ্যমান স্থানে নতুন প্রকল্প হিসেবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্রিমিয়াম ফ্লোট গ্লাস, সোলার গ্লাস অ্যান্ড সোলার প্যানেল প্ল্যান্ট অব্যবহৃত জমিতে নতুন প্রকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছে। বিটিএমসির আওতায় থাকা দিনাজপুরের দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস, মির্জাপুরের টাঙ্গাইল কটন মিলস, চট্টগ্রামের ষোলশহরের আমিন টেক্সটাইল মিলস ও এশিয়াটিক কটন মিলস, রাঙামাটির ঘাগড়ার রাঙামাটি টেক্সটাইল মিলস, যশোরের নওয়াপাড়ার বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস, সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস, সাভারের আফসার কটন মিলস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল মিলস, খুলনার বয়রার খুলনা টেক্সটাইল মিলস, কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলস এবং নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলের চিত্তরঞ্জন কটন মিলস বর্তমানে পিপিপি, আন্তর্জাতিক দরপত্র, ইজারা অথবা সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে চিত্তরঞ্জন কটন মিলসের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন