গুমসহ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আসামিদের একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এদিন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, এ মামলায় ফজলে করিম ও জিয়াউলকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের দিন ধার্য ছিল। আমরা তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছি। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে একদিন করে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাই। পরে দু’টি আবেদনই মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া, এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময়ের আবেদন করে প্রসিকিউশন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২১শে জুন প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেয়া হয়। ফজলে করিমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও জিয়াউলের পক্ষে ছিলেন নাজনীন নাহার। শুনানির একপর্যায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নথিটি কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউলকে দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান আইনজীবী নাজনীন নাহার। অনুমতি পেয়ে নথিটি হাতে নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে দেখেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। এ সময় নিজের পদবি ও চাকরির অবস্থা নিয়ে আপত্তি জানান জিয়াউল আহসান। মামলার নথিতে তাকে ‘বরখাস্ত’ হিসেবে উল্লেখ করায় আসামির কাঠগড়া থেকে তিনি ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি বরখাস্ত নন বরং একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ ছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বরখাস্ত লেখা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, যখনই কোনো আসামি আইনজীবী নিয়োগ দেন, তখন তার হয়ে আইনজীবীই কথা বলবেন। আসামি চুপ থাকবেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য, ২০১০ সালে চট্টগ্রামের রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে তুলে নেয়া হয়। গুমের পর তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফজলে করিম ও জিয়াউলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
ওবায়দুল কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা: জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি এ জবানবন্দি দেন। তবে জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই চলছে বিচারকাজ। এরইমধ্যে প্রত্যক্ষদর্শীসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ২৫ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়। মামলায় ২৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন নাসের উদ্দিন। তিনি এ ঘটনায় তদন্তকালীন কী কী জব্দ করেছেন, তা ট্রাইব্যুনালে পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে ধরেন। কোন দিন, কোন সময়ে এসব জব্দ করা হয়েছে, তা লিপিবদ্ধ করা হয়।
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে ২৩শে এপ্রিল। গতকাল প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ধার্য করেন। এদিন, অভিযোগ গঠনের পক্ষে প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। পরে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আদালত এ দিন ধার্য করেন।

জামশেদ পাটোয়ারী
১ মাস আগেচট্টগ্রামের বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক নুরুল আলম নুর হত্যাকান্ড। ছাত্রদল নেতা এবং এলাকার সাধারণ মানুষের বিপদের বন্ধু নুরুল আলম নুরকে রাতের অন্ধকারে নগরীর চন্দন পুরার জীর্ণ শীর্ণ বাসা থেকে রাউজান থানার পুলিশ আর ফজলে করিমের সন্ত্রাসীরা ফজলে করিমের নির্দেশে তুলে নিয়ে যায়। পরের দিন নুরের গ্রামের বাড়ী নোয়াপাড়া থেকে অন্তত ৬ মাইল পূর্বে লাম্বার হাট এলাকায় কর্ণফুলি নদীর কিনারা থেকে মৃত উদ্ধার করা হয়। হাত পিছন থেকে বাধা ছিল। শরীরের বুকে, মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে গুলি ও অসংখ্য ধারালো দায়ের কোপ দেখা যায়। এলাকায় ফজলে করিমের সন্ত্রাসীদের হামলা মামলায় টিকতে না পেরে শহরের চন্দনপুরায় দুধের বাচ্চুসহ পরিবার নিয়ে একটি জির্ণশির্ণ বাসায় ভাড়া থাকতো। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নুরকে বিএনপির গুম হওয়া নেতা কর্মীদের পরিবারের খোজখবর নেয়ার দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন। হয়তো সেই কারণে ফজলে করিম তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রাউজানে এরকম শত শত হত্যাকান্ডের হোতা ফজলে করিম। ১৭ বছর রাউজানবাসীকে গরম তাওয়ার উপর রেখেছিল। ফজলে করিমকে শতবার মৃত্যু দণ্ডে দন্ডিত করলেও তার কৃত অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি হবেনা।