প্রথম ম্যাচে ২৬ রানের হারের পর সিরিজ হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। সিরিজ বাঁচাতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। গত শুক্রবার সিরিজের প্রথম লড়াইয়ে সফরকারী দলের কাছে পাত্তাই পায়নি স্বাগতিক শিবির। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিউইরা নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। বিশেষ করে তাদের টপ অর্ডার ব্যাটার হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং এবং টম ল্যাথাম দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন সফরকারী দলকে। চাপের মুখে নিকোলসের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি ও ইয়াংয়ের সাবলীল ব্যাটিং সফরকারীদের বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দেয়। অন্যদিকে বল হাতে নাথান স্মিথ শুরুতেই স্বাগতিকদের চেপে ধরেন। মাঝের ওভারে জেডেন লেনক্স ও ব্লেয়ার টিকনারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথই বন্ধ হয়ে যায়। আজকের লড়াইটি তাই এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে মিরাজদের জন্য। তবে পেসার শরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘দলের সবাই বেশ ইতিবাচক আছে এবং আমরা পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। ব্যক্তিগতভাবে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই। যখনই সুযোগ পাব, দেশের হয়ে ম্যাচ জেতানোই মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে নতুন বলে দ্রুত উইকেট নেওয়া এবং ডেথ ওভারে রান আটকে রাখা, এই জায়গায় আরও কাজ করতে চাই।’
স্বাগতিকদের মূল দুশ্চিন্তার জায়গা এখন ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম ম্যাচে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর সাইফ হাসান এবং লিটন দাস তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রান যোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তারা নিজেদের ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। এরপর তাওহিদ হৃদয় এবং আফিফ হোসেন ক্রিজে এসে টানা তেরো ওভার ব্যাট করলেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ফলে শেষদিকের ব্যাটারদের ওপর পাহাড়সম চাপ তৈরি হয়। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। কিউই পেসার টিকনার একাই ধস নামান। চুয়াল্লিশতম ওভারে আক্রমণে ফিরে তিনি মেহেদী হাসান মিরাজকে সাজঘরে ফেরান। মিরাজ অদ্ভুত এক রিভার্স স্কুপ খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন। এরপর রিশাদ হোসেনকে দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে বিদায় করেন টিকনার। তার এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের কোনো জবাবই দিতে পারেননি বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের অনভিজ্ঞ ও তরুণ ব্যাটাররা সেদিন। পরবর্তীতে শরিফুল ও তাসকিন আহমেদকেও দ্রুত আউট করে স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন এই পেসার। দুর্দান্ত লাইন এবং লেংথ বজায় রেখে তিনি দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। বোলিং বিভাগে শরিফুলের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। মোস্তাফিজুর রহমান শেষ মুহূর্তে ছিটকে যাওয়ায় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ষোলো মাস পর এই সংস্করণে ফিরে দশ ওভারে সাতাশ রান দিয়ে দুই উইকেট শিকার করেন শরিফুল। বিয়াল্লিশটি ডট বল দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ দিয়েছেন এই বাঁহাতি। পাকিস্তান সুপার লীগে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে বেশ সাহায্য করেছে। তবে আজ মোস্তাফিজুর ফিট থাকলে একাদশে ফিরতে পারেন। সেক্ষেত্রে শরিফুল বাদ পড়তে পারেন। এছাড়া ফর্মহীনতায় ভোগা আফিফে হোসেনের জায়গায় দলে ঢুকতে পারেন সৌম্য সরকার। উইনিং কম্বিনেশন অপরিবর্তিত রেখেই মাঠে নামার সম্ভাবনা নিউজিল্যান্ডের। তবে ছত্রিশ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রচণ্ড গরমে পেসারদের বিশ্রাম দিতে চাইলে ভিন্ন কথা। এই কন্ডিশন নিয়ে ডিন ফক্সক্রফট বলেছেন, ‘আমাদের শুধু খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা নিজেদের সেরাটা মানিয়ে নিতে পারি।’ কিউইরা প্রথম ম্যাচে ২৪৭ রান করলেও তাদের ইনিংসে কোনো ছক্কার মার ছিল না। মিরপুরে এমন ঘটনা প্রথমবার। তাই আজকের ম্যাচে ভালো উইকেটের প্রত্যাশা সবার।
আজ মিরপুরে একটি রুদ্ধশ্বাস ও বাঁচামরার লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব। কিউইরা বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং মানসিক দিক থেকেও তারা এগিয়ে। তবে খাদের কিনারা থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অসামান্য
রেকর্ড রয়েছে স্বাগতিকদের। সিরিজ রক্ষা করার এই কঠিন মিশনে ব্যাটারদের আসল পরীক্ষা দিতে হবে। নিজেদের সেরাটা দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। অতীত পরিসংখ্যান বলছে, কঠিন সময়ে দল হিসেবে জ্বলে ওঠার দারুণ ক্ষমতা আছে তাদের। ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার, সবাইকে অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে আজ খেলতে হবে। বোলাররা প্রথম ম্যাচে যেভাবে চমৎকার লড়াই করেছেন, আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও ঠিক সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে স্পিনারদের আরও অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া বাংলাদেশ
ইশতিয়াক পারভেজ
২০ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Sakhawat
১ মাস আগেতামিম কই? তাকে উপেনার হিসেবে নামিয়ে দেন!