সরকারি ভাতার আওতায় আরও ১৭১ ক্রীড়াবিদ

সরকারি ভাতার আওতায় আরও ১৭১ ক্রীড়াবিদ

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৩০শে মার্চ ১২৯ খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া ভাতা ও কার্ড তুলে দেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৭১ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় এনেছে সরকার। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তবে এই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে থাকা ২৩ ফুটবলারের মধ্যে হামজা চৌধুরীসহ বাদ পড়েছেন আট ফুটবলার। মেয়েদের এশিয়ান কাপে খেলা ২৬ সদস্যের দল থেকে এই তালিকায় বাদ পড়েছেন আটজন।
এবারের তালিকায় বড় চমক প্রথমবারের মতো গঠিত হওয়া জাতীয় নারী হকি দল। আজ রাতেই এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে দলটি। দেশ ছাড়ার আগে এই স্বীকৃতি তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। প্রতি মাসে খেলোয়াড়রা এক লাখ টাকা করে সরকারের কাছ থেকে অর্থ পাবেন। ক্রিকেট, ফুটবলের বাইরে অন্য সকল খেলোয়াড়রা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকেন। মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে মাসিক ভাতা পাওয়ায় তাই অনেকটা স্বস্তিতে হকির তারকা আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন ‘হকি একটা সম্ভাবনাময় খেলা। আমাদের ঘরোয়া লীগ অনিয়মিত ফলে খেলোয়াড়দের আয়ের উৎস সীমিত। সরকারের এই ভাতা পাওয়ায় আমরা এখন নিজেরা খেলার প্রতি আরো সচেতন হতে পারবো। অন্যরাও জাতীয় দলে খেলার জন্য তীব্র চেষ্টা করবে।’ জাতীয় টেবিল টেনিসে একাধিকবারের চ্যাম্পিয়ন সোনাম সুলতানা সোমা। ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তে এসে সরকারের এমন সুবিধা পাওয়ায় তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। সোমাবলেন, ‘খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই প্রয়োজন ছিল। অবশেষে এটি হয়েছে। এখন খেলোয়াড়রা প্রকৃত অর্থেই পেশাদার হয়ে খেলায় পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারবে, অন্য কিছু ভাবতে বা করতে হবে না।’ ফুটবলাররা ঘরোয়া লীগ থেকে বেশ ভালোই অর্থ পান। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাকালে ফেডারেশন পুরুষ ফুটবলারদের তেমন অর্থকড়ি দিতে পারে না নানা সীমাবদ্ধতায়। তাই সরকারের থেকে এক লাখ টাকা করে পাওয়ায় বেশ খুশি জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। গতকাল ভাতা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে তিনি বলেন, ‘দেশের হয়ে খেলা সবচেয়ে বড় সম্মানের। জাতীয় দলে খেলার জন্য সরকার থেকে এমন প্রাপ্তি অবশ্যই স্বীকৃতি পাশাপাশি ফুটবলারদের জন্য প্রয়োজনও।’ প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজীর নাম ভাতার তালিকায় নেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, তাদের বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই এবং ফুটবলে ২৩ জনের স্কোয়াড মূলত হলেও আপাতত ১৮ জন বিবেচনা করা হয়েছে। পুরুষ ফুটবল দলের মতো নারী ফুটবল দলেও ১৮ জন ভাতার তালিকায়। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১০ জন ভারত্তোলক পেলেও সেই তালিকায় নেই স্বর্ণজয়ী ভারত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। সম্প্রতি তিনি ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় আগামী দুই বছর ক্রীড়াঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ। তাই সরকারের তালিকায় তিনি থাকতে পারেননি। বিভিন্ন খেলায় বর্তমান জাতীয় দলে রয়েছে এমন খেলোয়াড়দেরই মূলত ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সর্বশেষ দাবা নারী দলে ছিলেন না দাবাড়ু রাণী হামিদ। জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে তার অবস্থান ছিল ১১তম। ৮২ বছর বয়সেও তিনি একজন সক্রিয় দাবাড়ু এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম কিংবদন্তী। তাকে ক্রীড়া ভাতার আওতায় এনে সম্মান প্রদর্শন করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ৩০শে মার্চ প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২৯জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। পর্যায়ক্রমে তালিকাটি ৫০০-তে উন্নীত করার কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা ৫০০জনকে এই ভাতার আওতায় আনবো। প্রতি মাসের ভাতা নির্ধারিত সময় যার যার ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে। বর্তমানে যারা পাচ্ছেন তাদের পারফরম্যান্স চার মাস পর রিভিউ করা হবে।’

লিমা

১ মাস আগে

বিএনপির সবাইকে ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনলে দেশ উন্নত হবে।

মন্তব্য করুন