সুনামগঞ্জে ধান কাটার শ্রমিক সংকট, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় পার করছেন কৃষকরা। বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, পেট্রোল-ডিজেল সংকট এবং শ্রমিকের অভাবে তারা এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
এ পরিস্থিতিতে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ এপ্রিল থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বালুমহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সরজমিন দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার কিছু হাওরে পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান শুকানো ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণিরা। তবে অধিকাংশ হাওরে এখনো ধান পুরোপুরি পাকেনি; আরও ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগতে পারে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় বোরো ধান আংশিক পানির নিচে ডুবে আছে। ফলে হাওরে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক সুজন মিয়া বলেন, হাওরে আগের চেয়ে এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু বেশির ভাগ হাওরে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
শনি হাওরের কৃষক জিল্লু মিয়া জানান, আগে ধান কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা হাওরে এসে কাজ করতেন। কিন্তু এখন তারা আগের মতো আসেন না। যার কারণে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে। একজন শ্রমিককে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে, এরপরও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। দেখার হাওরের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, হাওরের ভেতরে বৃষ্টির কারণে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। উপরের কিছু জমিতে ধান পাকলেও পেট্রোল ও ডিজেলের সংকটের কারণে তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৭৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ধান। চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় দুই লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এ বছর জেলায় ধান কাটার জন্য ৯০০টি হারভেস্টার মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রিপার মেশিন দিয়েও ধান কাটার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হাওরে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ার ফলে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, এ জেলার ১৩৭টি হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। ডিজেল সংকট নিরসনে বিশেষ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ই মে’র মধ্যে ধান কাটা শেষ করা সম্ভব হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ধান পাকা হয়ে গেলে দ্রুত তা কাটতে কৃষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শ্রমিক সংকট নিরসনে জেলার বিভিন্ন বালুমহাল আগামী ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন