ভোটের পর স্বস্তিতে শোবিজ

ভোটের পর স্বস্তিতে শোবিজ

ফন্ট সাইজ:

গত দেড় বছরে বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট, মঞ্চ নাটক প্রদর্শনী ও শুটিং বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। কিছু কনসার্টের অনুমতি মেলেনি নিরাপত্তার কারণে। বিশেষ একটি শ্রেণির আপত্তির কারণে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিলেন সংগীত সংশ্লিষ্টরা। কমপক্ষে শতাধিক কনসার্ট বাতিল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এ সময়ে। এর মধ্যে বিদেশি অনেক শিল্পীর কনসার্টও স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেশ কিছু মঞ্চ নাটক প্রদর্শনী কারণ ছাড়াই বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে নাটক-সিনেমা কিংবা মিউজিক ভিডিও’র শুটিং করতেও বেগ পেতে হয়েছে। বিশেষ করে আউটডোরে। সবমিলিয়ে শোবিজের মানুষরা একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। এরইমধ্যে সংগীত প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ভবনেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শোবিজের মানুষরা অপেক্ষায় ছিলেন নির্বাচনের। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের কথাও তারা বারবার জানিয়েছেন। অবশেষে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভূমিধস জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শোবিজ অঙ্গন। অনেকেই এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়াও জানাচ্ছেন। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী বলেন, সংগীত শিল্পীরা মুক্তমঞ্চে গলা ছেড়ে গাইতে পারবে এখন। কোনো কনসার্ট আর ক্যানসেল হবে না। কারণ জাতীয়তাবাদী দল সাংস্কৃতিক বান্ধব দল। নির্মাতা শিহাব শাহীন বলেন, মবতন্ত্র, নারী বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদিতার বিরুদ্ধে দেশের জনগণ রায় দিয়েছে! কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র জয়ে রক্ষা পেলো দেশ ও দেশের সংস্কৃতি। গত দেড় বছর দেশের তথা সংস্কৃতির মানুষজনের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ ছিল। যার জবাব তারা ব্যালটে দিয়েছে। আমি আশা করবো দেশ ও সংস্কৃতি এবার নিজের গতিতে এগিয়ে যাবে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ভোটটি কীসে দিলেন, তা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন বিনোদন জগতের এ অভিনেত্রী। নির্বাচনের পরপর ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন অভিনেত্রী চমক।

ছবিতে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি ব্যালট পেপারে ধানের শীষ প্রতীকে সিল দেয়া রয়েছে। এ ছাড়া, গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেয়া হয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনে চমক লিখেন, সারাদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করতেছো, আমি কীসে ভোট দিয়েছি, এই নাও। আর যাই হোক কেউ রাজাকার বললে, একদম জুতা দিয়ে মারবো। এই দেশকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি। দেশের সঙ্গে গাদ্দারি করার আগে আমি যেন মরে যাই। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস বলেন, যারা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তাদের সাধুবাদ জানাই। আমি বিশ্বাস করি চলচ্চিত্রের উন্নয়নে এই সরকার অনেক উদ্যোগ নেবে। আমি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা। সে জায়গা থেকে চাইবো, সরকার যেন নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে। আমাদের বিনোদন বা চলচ্চিত্রের জায়গাটা যেন আরও বড় হয়।

কণ্ঠশিল্পী রাজিব বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি কর্মীরা বুঝেছেন কোথায় শান্তি। আমরা যারা গান বাজনা, অভিনয় বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের বেশির ভাগই অন্য কিছু পারি না বা ভালোবেসে এই প্রফেশনেই থাকতে চাই। আমাদের দেশের ভোটের অনেক বড় অংশ সংস্কৃতি কর্মী। আমাদের ভোট তারাই পাবে যারা আমাদের সম্মান করবে। তাই হয়েছে। ধন্যবাদ সকল মিউজিশিয়ান, শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিজের ভোটের মাধ্যমে নিজের পেশাকে সম্মান দেয়ার জন্য। নিজের কাজের স্বাধীনতা উপভোগ করুন। এর বাইরেও ভোটের পর নিজেদের স্বস্তির কথা প্রকাশ করেছেন মনির খান, আসিফ আকবর, ডলি সায়ন্তনী, আঁখি আলমগীর, দীপা খন্দকার, দিঠি আনোয়ার, নুসরাত ইমরোজ তিশা, খায়রুল বাশার, ইরফান সাজ্জাদ, সুনেরাহ বিনতে কামাল, কেয়া পায়েল, কাজী শুভ, আরফিন রুমি, সালমা, লিজা, বিউটি, পুতুলসহ অনেক তারকা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন