তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে দুইটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার। অ্যাঙ্গোলা থেকে এলএনজি নিয়ে ‘লবিটো’ ট্যাংকারটি শনিবার দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। ২৭ হাজার ৩৬৩ টন ডিজেল নিয়ে ‘নেভী সিয়েলো’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও এসেছে দেশে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে আজ (রোববার) আসবে ‘গোল্ডেন হোরাইজন’ নামের আরেকটি ট্যাংকার।
বন্দর সূত্র জানায়, শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে তিনটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার- এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু। এসব জাহাজে মোট ১ লাখ ৮ হাজার টন ডিজেল এসেছে। আগামী রোববার বন্দরে পৌঁছাবে আরও একটি ট্যাংকার এমটি গোল্ডেন হোরাইজন, যাতে থাকবে ২৭ হাজার ৩৬৩ টন ডিজেল। চারটি জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং দ্রুত খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। খালাসের পর এসব জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ লাইনে যুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সে হিসেবে নতুন এই চালান দেশের অন্তত ১২ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এ ছাড়া আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ আসার পথে রয়েছে। এদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে ‘লবিটো’ নামের একটি ট্যাংকার শনিবার দেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া আগামী ২০ ও ২১শে এপ্রিলের মধ্যে আরও প্রায় ৬৬ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ ও ‘এমটি হাফনিয়া চিতা’ নামের দুটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিংকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি ও এলএনজিসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক জাহাজ বন্দরে এসেছে।
এদিকে শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনে এসে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জুন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
