নৌপরিবহনমন্ত্রী

জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বরং আগের তুলনায় বেশি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তারপরও কৃত্রিম সংকট তৈরির একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মজুতের ঘটনাও ধরা পড়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যাতে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই বিদ্যমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। শনিবার নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের ২৮তম ব্যাচের প্রি-সী রেটিংস প্রশিক্ষণার্থীদের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এনসিটি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে সরকার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করছে। আমাদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা হবে, বন্দরের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় কীভাবে যুক্ত করা যায়- এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে বর্তমান সক্ষমতায় কোনো ব্যত্যয় ঘটে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। বহুমাত্রিক বিষয় পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে। তারা সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সমুদ্র খাতে আরও অগ্রসর হতে চায়। শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ। ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌচলাচল যেখানেই দায়িত্ব পালন করুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম; তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছে।

প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ট্রেডে ভালো ফলাফল করায় তিনি কয়েকজন নতুন নাবিককে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করেন। এদের মধ্যে ইঞ্জিন বিভাগের রাব্বি ইসলাম কানন অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করায় গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে মন্ত্রী বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত পুরস্কার শ্রেষ্ঠ নাবিকদের হাতে তুলে দেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিউল বারী, ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেকসহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ, দেশি-বিদেশি জাহাজ মালিক, প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট ও নতুন নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন