রংপুরে সরকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্স জালিয়াতিসহ দোকানঘর দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ নীলফামারী ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা তার পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন মহলের সহযোগিতায় নগরীর বাণিজ্যকেন্দ্র এলাকায় এতিম মেয়ের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। এর প্রতিকার চাইতে বিভিন্ন দপ্তরের শরণাপন্ন হলে ভুক্তভোগী প্রতিপক্ষের দ্বারা হামলা-হুমকিসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর শঙ্কা করছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরীর দেওয়ানবাড়ি রোডস্থ আজহার প্লাজায় ‘গোল্ডেন স্যানেটারি’ নামে একটি দোকানঘর ও দুইটি গোডাউন শরিফা আরা খানম তার মেয়ে খাইরিয়া মাহজাবীনের নামে লিখে দেন ২০২৫ সালের ১০ই এপ্রিল। খাইরিয়া মাহজাবীনের বাবার মৃত্যুর কারণে দোকানঘরটি বন্ধ ছিল। অভিভাবকের শূন্যতাকে পুঁজি করে রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়ার মৃত সিদ্দিক উল্লাহর ছেলে সোহেল রানা জালিয়াতির মাধ্যমে তার মা খোদেজা বেগমের নামে খাইরিয়া মাহজাবীনের দোকানঘর ও গুদামটির ট্রেড লাইসেন্স করিয়ে নেন।
এ ঘটনায় মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দেন খাইরিয়া মাহজাবীন। কিন্তু সোহেল রানা তার সরকারি চাকরির দম্ভে কোনো সালিশে উপস্থিত না থেকে দোকানঘরটি দখলের চেষ্টা করছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বেআইনি কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগী খাইরিয়া মাহজাবীন বলেন, ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা সরকারি চাকরির ক্ষমতায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
তিনি ব্যবসায়ী সংগঠন, সিটি করপোরেশন, থানা-পুলিশ কাউকে মানেন না। জালিয়াতির মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স করাসহ দোকানঘর দখল চেষ্টার প্রতিবাদ করায় তিনি আমার ক্ষতি করতে পারেন। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার দোকানঘরটি যেন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারি প্রশাসনের কাছে সেই সহযোগিতা চাই। অভিযুক্ত ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর সম্পত্তি কারও নামে লিখে দিয়ে যাননি। ওই ব্যবসাটি আমার মা পরিচালনা করে এবং ওই সম্পত্তির উপরে আমারসহ ভাই-বোনদের অংশ আছে। কিন্তু আমার ভাতিজি বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান না করে বিভিন্ন মহলে গিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
