প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক

প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক

ফন্ট সাইজ:

দুই সন্তানের জননী মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন আতিকুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য। তিনি নীলফামারী পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। শুক্রবার সারাদিন আটক রেখে রাত ১১টায় মুচলেকা দিয়ে ডোমার থানা পুলিশ তাকে ছাড়িয়ে নেয়।
পুলিশ সদস্য আতিকুর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ হরিরামপুর এলাকার হোসেন আলীর ছেলে। এর আগে তিনি ডোমার থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, ডোমার থানায় চাকরিরত অবস্থায় মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় আতিকুরের। এর একপর্যায়ে আতিকুর ধর্ম বাবা-মায়ের সম্পর্ক তৈরি করে। সেই সুবাদে প্রায় সময় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি ওই বাড়িতে যাতায়াত করেন। এ সময় বাড়ির ছোট ছেলের স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিজেদের সাংসারিক সমস্যা নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ও পুলিশ সদস্য আতিকুরের মাঝে আলাপ হতো। চারমাস পূর্বে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে কাউকে না জানিয়ে নীলফামারী কোর্টে পরামর্শের জন্য আতিকের সঙ্গে যান প্রবাসীর স্ত্রী। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এরপর মেয়েটি দীর্ঘদিন থেকে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন।
স্বজনরা জানান, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর সমঝোতার মাধ্যমে মেয়েটিকে তার শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসার জন্য প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় বাড়িতে এসে হাজির হয় আতিকুর। পরিবারের ভাষ্যমতে আতিকুর মেয়েটিকে তার শ্বশুরবাড়ি না পাঠিয়ে তার সঙ্গে বিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আতিকুরকে মেয়ের পরিবারের লোকজন আটকে রাখে। এর আগেও মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করা নিয়ে একাধিকবার আতিকুরকে নিষেধ করেছিল মেয়েটির পরিবার।
প্রবাসীর স্ত্রী জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে আতিকুরের যোগাযোগ থাকায় তাদের বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। সেই সুবাদে আমাদের দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। আমি আমার সাংসারিক নানা বিষয় আতিকুরকে জানাতাম। সাংসারিক সমস্যা হওয়ায় আইনি পরামর্শ নিতে আতিকুরের সঙ্গে নীলফামারী কোর্টে গেলে ফেরার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের সন্দেহ করে এবং আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। এসব সহ্য করতে না পেরে আমি গত ৪-৫ মাস ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। এরই মাঝে আতিকুরের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিনি বলেন আতিকুর আমাকে ভালোবাসে, আমিও তাকে ভালোবাসি।
মেয়েটির শ্বশুর বলেন, পুলিশ সদস্য আতিকুর তাদের সঙ্গে ধর্ম বাবা-মায়ের সম্পর্ক গড়ে তুলে বাড়িতে যাতায়াত করতো। কাউকে না জানিয়ে ৪ মাস আগে আতিকের সঙ্গে আমার বৌমা নীলফামারী গিয়েছিল। নীলফামারী থেকে ফেরার সময় সোনারায় বাজারে তাদের আটক করা হয়। এ বিষয়ে মেয়ের পরিবারকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো যোগাযোগ করেনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আতিকুর রহমান বলেন, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ধর্ম বাবা-মায়ের সম্পর্ক থাকার কারণে আমি তাদের খোঁজ নিতে যেতাম। মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না, তাই আমি মেয়ের বাড়িতে গিয়ে বলেছিলাম যেন তাকে ওই বাড়িতে না পাঠিয়ে আমার সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। এ সময় কথাকাটাকাটি হলে তারা আমাকে আটকে রাখে।
ডোমার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ জানান, আটক পুলিশ সদস্য আতিকুর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে এসেছিল। পরিবারের লোকজন তাকে রাত পর্যন্ত আটকে রেখে মুচলেকা নিয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছে। নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের আরআই মো. বদিউজ্জামান জানান, আতিকুর গতকাল রোল কলের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। আজকে সকালে যোগদান করেছেন। তার বিষয়টি আমরা শুনেছি। গতকাল রাতে ডোমার থানা পুলিশ তাকে আটক অবস্থায় মেয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন