বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘২০ মাসে মাজারে হামলা ৬৭ বার: মবের মধ্যে সবসময় থাকে প্রশিক্ষিত দল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার কবরকে ‘শরিয়ত পরিপন্থী’ দাবি করে ‘ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির’ ও ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে কর্মসূচি পালন করছিলেন মুসল্লিরা।
ওই কর্মসূচি চলার মধ্যেই হঠাৎ একদল লোক কবর থেকে নুরাল পাগলার মরদেহ তুলে মহাসড়কের ওপর পুড়িয়ে দেয়। যেখানে স্থানীয়রা অনেকটাই উৎসুক জনতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুও হয়। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম পীরের দরবারে হামলার ক্ষেত্রেও একই রকম চিত্র দেখা যায়। সেখানেও স্থানীয়রা কেবল উৎসুক জনতার ভূমিকায় ছিলেন। মাঝ থেকে একদল লোক স্বল্প সময়ের মধ্যেই দরবারে লুটপাট এবং শামীমকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
শুধু এ দুটি মাজার নয়, একই ধরনের চিত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজারে হামলার অন্যান্য ঘটনাতেও দেখা যায়; যেখানে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী হামলা, নৃশংসতা ও লুটপাটে মূল ভূমিকা পালন করে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাজারে হামলাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ করা যায়। তাদের মতে, এসব ঘটনায় প্রথমে একটি মব তৈরি হয়। তবে সেই ভিড়ের আড়ালে সংগঠিত একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে স্থান ত্যাগ করে। ঘটনার ধরন, দ্রুততা ও সমন্বয়ের দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের হামলায় কেবল স্বতঃস্ফূর্ত জনতার অংশগ্রহণ নয়, বরং প্রশিক্ষিত গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের ৬৫টি স্থানে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে ৬৭টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে ২৫ বার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৫টি, ময়মনসিংহে আট, খুলনায় চার, রাজশাহী ও রংপুরে তিনটি করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে সিলেটে ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় দুইবার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন, খুলনা মেট্রোপলিটন, সিলেট মেট্রোপলিটন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এবং বরিশাল রেঞ্জে একবার করে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাজারে হামলার এসব ঘটনায় ২৬টি মামলা এবং ৪০টি সাধারণ ডায়েরি থানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৭ জনকে। মামলাগুলোর মধ্যে নয়টিতে অভিযোগপত্র এবং ছয়টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। এখনো মাজারে হামলার ১১টি মামলা তদন্তাধীন, যা মোট মামলার প্রায় ৪০ শতাংশ।
পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রূপগঞ্জ থানা এলাকার পূর্বাচল উপশহরের ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত হোসেন আলী শাহ ওরফে লেংটার মাজারে হামলা হয় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টার দিকে। অজ্ঞাতনামা পাঁচ শতাধিক লোক ওই হামলায় অংশ নেন। তবে তাদের মধ্য থেকে একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাজারের ভেতরে প্রবেশ করে খানকা শরিফ, অতিথি ভবন, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করে ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা হলেও সেটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনার ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টায় ত্রিশাল আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গোপালপুর বাবে বরকত দেওয়ানবাগ শরিফে সাত-আটশ অজ্ঞাত ব্যক্তি হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি প্রশিক্ষিত গ্রুপ মাজারের গেট ভাংচুর করে। তারা ভেতরে ঢুকে লুটপাট করে ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পরে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার পর কুমিল্লার হোমনা থানা এলাকায় মো. মহসিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় বহিরাগত লোকজন মহসিনের বাড়ি এবং বাড়িসংলগ্ন মাজারে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। এছাড়া গত বছরের ১৭ মার্চ বরগুনা জেলার আমতলী থানা এলাকায় হযরত ইসমাইল শাহের মাজারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেদিন মাজারে বার্ষিক ওরস চলাকালে প্রায় ৪০০ মানুষ মিছিল করছিল। এর মধ্যেই একদল লোক বেলা ১টার দিকে মাজারে প্রবেশ করে ভাংচুর করে। দুটি টিনের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় মাজার কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন মাজারে হামলার ঘটনাগুলো পূর্বপরিকল্পিত। অনেক ক্ষেত্রে মাইকে ঘোষণা দিয়েও এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যাচ্ছে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাজারে হামলা ও লুটপাট করা হচ্ছে। প্রথম গ্রুপে স্থানীয় লোকজন অংশ নিচ্ছে। তার প্রতিবাদ জানানোর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকছে। কিন্তু দ্বিতীয় গ্রুপ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে মাজারে হামলা-ভাংচুর চালাচ্ছে। আর তৃতীয় গ্রুপটি মূলত লুটপাট চালাচ্ছে এবং হামলা করছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে স্থান ত্যাগ করছে, যাতে বোঝা যায় এরা প্রশিক্ষিত। মূলত এ গ্রুপই সহিংসতার জন্য দায়ী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিজের মতো করে মতাদর্শ বা বিশ্বাস চর্চা করে এ ধরনের ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। এসব আক্রমণের যৌক্তিকতা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। অধিকাংশ সময়ে ভুক্তভোগী বা চারপাশের বাসিন্দাদের বক্তব্যে লক্ষ করা যায় ওই এলাকার বিশেষ কোনো ব্যক্তিদের স্বার্থের কারণেই তারা সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে এমন হামলা চালায়। এসব ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির ধরন দেখলে মনে হয় না কোনো সাধারণ মানুষের হামলার চিত্র এটি। মনে হয় খুব প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা এমন হামলা চালাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাউকে মেরে ফেলার মতো কৌশলও তারা জানে। যেখানে আমরা গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতে চাই, সেখানে এ ধরনের উগ্রতা নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। যারা এমন কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
দৌলতপুরে আব্দুর রহমান শামীম ওরফে শামীম পীরকে হত্যার ঘটনা পরিকল্পিত বলে মনে করেন স্থানীয়দের অনেকেই। তারা বলছেন, একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। যার জেরে সংঘবদ্ধভাবে দরবারে হামলা চালানো হয়।
এছাড়া এ সময় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত পীরের ভাই যে মামলা করেছেন, সেখানে মাজারের সম্পদ ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন মামলার বাদী। হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের খাদেম জামিরন নেসাও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলার সময় একটি পক্ষ ভাংচুরের সঙ্গে লুটপাটেও অংশ নিয়েছিল।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে অনেক মানুষের সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে আইডেন্টিফিকেশন বা শনাক্তকরণের কাজ চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে সেগুলো কালেকশন (সংগ্রহ) করতে হচ্ছে। ওখান থেকে আমরা আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করছি।’
সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া ভিন্ন মতাদর্শীদের ওপর হামলা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ। তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদাহরণ টেনে বলেন, ‘উনি বলেছিলেন কোনো সরকার না চাইলে বাংলায় কখনো দাঙ্গা সম্ভব নয়। সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই মাজারে হামলা বা মব বন্ধ করতে চায়, জিরো টলারেন্স নীতি নিলে তা অবশ্যই হওয়ার কথা। মাজারে হামলা হচ্ছে, মেয়েদের খেলাধুলার অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে, গানের অনুষ্ঠানে হামলা হচ্ছে—এগুলো কিন্তু হঠাৎ শুরু হয়নি। অনেক পুরনো। দক্ষিণাপন্থার উত্থানের ফলে এগুলো হচ্ছে। এটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
মাজারে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাজারে হামলার প্রতিটি ঘটনা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগামীতে মাজারে হামলার মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী মাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।’
প্রথম আলো
‘দ্বিতীয় মেট্রোরেল করবে সরকার, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকার কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে চাইছে বর্তমান সরকার। অনেক বেশি ব্যয় প্রস্তাব করায় অন্তর্বর্তী সরকার ঠিকাদার নিয়োগের এই প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
নতুন পথটিতে মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানি ঠিকাদারেরা কিলোমিটারপ্রতি যে টাকা চাইছে, তা সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ৯৭ শতাংশ বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঠিকাদারদের ব্যয় প্রস্তাব ধরে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, প্রতি কিলোমিটারে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। সরকার ধরেছিল, ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেল ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তিনি বিভিন্ন দেশের ব্যয় বিশ্লেষণ করে ঢাকার নতুন মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ডিএমটিসিএল তখন সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকাকে চিঠি দিয়ে জানায়, ঠিকাদারের দর গ্রহণ করা যাচ্ছে না। সরকার নতুন করে দরপত্র আহ্বানে আগ্রহী।
যদিও এই প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা জাইকা তাতে রাজি হয়নি। জাইকা জানায়, চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বান করা তাদের ঋণচুক্তির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ আটকে যায়।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদকেও।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাইকার প্রতিনিধিরা সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রবিউল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর মেট্রোরেলের লাইন-১–এর কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জাইকার সঙ্গে আলোচনার নির্দেশনা দেয় সড়ক মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ গত ১০ মার্চ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) জাইকা, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও ইআরডির যৌথ বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, মেট্রোরেলের কাজের দুটি প্যাকেজে ১৭০ ও ২৫ শতাংশ বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করে ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়ে অনড় থাকে জাইকা। কাজের পরিধি বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে সংস্থাটি। এমনকি ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে আসার বিষয়ে আপত্তি জানায় তারা।
ইআরডিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাতিল করা দুটি প্যাকেজের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মত দেওয়া হয়। তবে সার্বিক প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ আসে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্পটি নিয়ে মন্ত্রণালয়, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও জাইকা আলোচনা চালিয়ে যাবে। ব্যয় কমানোর বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়ার তথ্য যাতে বাইরে না যায়, সেটা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে শঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ এপ্রিল বিকালের ঘটনা। আধিপত্যের বিরোধের জেরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় এলেক্স ইমন নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর রেশ না কাটতেই ১৫ এপ্রিল গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় আসাদুল হক নামে আরেক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় উপহারের টোপ দিয়ে গত ২ মাসে অন্তত ১৩ জন নারীকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষক রাশেদুল ইসলাম রাব্বিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজধানীর বাইরে শুক্রবার ভোরে রাঙামাটির কুতুবছড়ি আবাসিক এলাকায় খুন হয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নেতা ধর্মশিং চাকমা।
তার দুই বোনকেও গুলি করা হয়। শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসব খুন-ধর্ষণের ঘটনা ছাড়াও রাজধানীসহ সারা দেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে ১৪ শতাংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে যথাক্রমে ২৯৪, ২১৭ ও ২৩৯টি হত্যা মামলা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে হত্যা মামলা হয়েছে যথাক্রমে ২৮৭, ২৫০ ও ৩১৭টি।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এভাবে ক্রমান্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে জনরোষের সৃষ্টি হবে। অর্থনীতি বা অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। তাদের মতে, সরকারের অগ্রধিকারের তালিকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার কৌশল থাকতে হবে। না হলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সরকারকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন অপরাধের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে তারা থাকে শঙ্কায়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তিত অবস্থার পরের সময়টাকে দুই ভাগে দেখা যায়। একটি হচ্ছে-‘সিজনাল ভেরিয়েশন ইন ক্রাইম।’ অর্থাৎ সহিংস অপরাধের ক্ষেত্রে ঋতুগত তারতম্যের সঙ্গে অপরাধের একটা মাত্রাগত সম্পর্ক থাকে। সেটা মার্চ মাস থেকে শুরু করে আগস্ট-জুলাই পর্যন্ত চলে। এই সময়ে সহিংস অপরাধ বাড়ে। দ্বিতীয় ভাগটি হচ্ছে-আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। কারণ এই দুটো জায়গা এখনো অস্থির অবস্থায় আছে। এখনো স্থিতিশীল অবস্থায় যাওয়া সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঢেলে সাজাচ্ছে। ফলে হত্যাকাণ্ডসহ এই ধরনের অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ মনোনিবেশ করতে পারছে না বলে ধারণা করছি। অপরাধীরা এই সুযোগটাই নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও দৃঢ়ভাবে নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে যদি কাজ করতে পারে, তাহলে মানুষের মধ্যে একটা বিশ্বাসের জায়গা তৈরি হবে।
কালের কণ্ঠ
‘এত তেল যাচ্ছে কোথায়’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সরবরাহও করা হচ্ছে গত বছরের সমপরিমাণ। সরকারের এমন দাবির মধ্যেও সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে তীব্র সংকট। তেল নিতে দীর্ঘ লাইন এবং পেট্রল পাম্প বন্ধ থাকার ঘটনায় জনমনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তাহলে এত জ্বালানি যাচ্ছে কোথায়! এদিকে প্রায় দেড় মাস ধরে চলা জ্বালানিসংকটের প্রভাবে জনভোগান্তি চরমে। দেশের অনেক এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলও এতে বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে নগরজুড়ে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এতে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট শুধু সরবরাহ ঘাটতির নয়; বরং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা, কালোবাজারি, অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার সম্মিলিত ফল। দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও সমন্বয় করা না গেলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানান, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। পাম্পগুলোতে মূলত অকটেন নিতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভিড় করছে। পেট্রল পাম্প থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা আসছে। কিন্তু গত বছর একই সময়ে তারা যতটুকু তেল নিয়েছে, এবারও তা দেওয়া হচ্ছে। এতে কোনো কোনো পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আগামীকাল রবিবার থেকে অকটেনের সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করছে বিপিসি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ এলাকার পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাম্প পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও বা সীমিত পরিসরে বিক্রি চলছে। ফলে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
দেশের বিভাগগুলো থেকে গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরে ৬২টি পেট্রল পাম্পের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বন্ধ রয়েছে। পাম্প মালিকরা জানান, সপ্তাহে মাত্র এক দিন জ্বালানি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সেই তেলও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সিলেট বিভাগে নতুন রেশনিং নীতির কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি। এ কারণে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
রাজশাহীতেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। পাম্প মালিকরা জানান, আগের বছরের তুলনায় বেশি জ্বালানি সরবরাহ পেলেও চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এক দিন বিক্রি করে কয়েক দিন পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ইত্তেফাক
‘সময়মতো টিকা না দেওয়ায় হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশব্যাপী হামে শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে সময়মতো দুই ডোজ টিকা দিতে না পারায় শিশুদের হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ব্যাপকহারে বৃদ্ধির জন্য দায়ী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথায় ত্রুটি কিংবা অবহেলা ছিল, টিকার ঘাটতি ছিল কেন, তা খুঁজে বের করে, এ সকল জরুরি ব্যবস্থাপনায় কিংবা প্রোগ্রামে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাহলে ভবিষ্যতে হামের এ ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখার সম্ভাবনা থাকবে না এবং এ সকল প্রোগ্রামে জড়িতরা সতর্ক থাকবে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন। হামে আক্রান্ত তিন জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং উপসর্গে দুই জনের মৃত্যু। আক্রান্ত ১ হাজার ১১৫ জনের মধ্যে ১২৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৮৮ জনকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামে ৩৭ জনের মৃত্যু এবং উপসর্গ নিয়ে ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ২১ হাজার ৪৬৭ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যায়। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৯৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জনের।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জন্মের ৯ মাসে একডোজ (মিজেলস) ও ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ টিকা শিশুর জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এতে হামের মতো সংক্রামক রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকা কেনা নিয়ে খামখেয়ালিপনা করা হয়। টাকা বরাদ্দ নিয়ে অনীহা দেখায়। সময়মতো টিকা কেনায় বরাদ্দ দেয়নি। প্রচারসহ অন্যান্য কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে। এসব কারণে বর্তমানে শিশুরা ব্যাপকভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান। তাদের অভিমত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। শিশুদের হামে অকাল মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী। জীবন রক্ষাকারী যে টিকাসহ ওষুধ সামগ্রীর কোনো বিকল্প নেই, সেই বিষয় সবসময় সতর্কতা জরুরি। এই বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘টিকা কার্যক্রম শিশুদের জীবন রক্ষাকারী বিষয়। এই ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি চিহ্নিত করা অতীব জরুরি। টিকা কেনা কিংবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অথবা টাকা বরাদ্দ নিয়ে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তাহলে এই ধরনের অতীব জরুরি ব্যবস্থাপনা জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারী দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকবেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, ‘বর্তমানে হামে আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় মাসের শিশুদের সংখ্যাই বেশি। কারণ, তারা সময়মতো দুই ডোজ টিকা অর্থাত্ ৯ মাস বয়সে এবং ১৫ মাসের সময়ের টিকা পায়নি।’ এটা অন্যতম কারণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, ‘টিকার ঘাটতি ছিল। সময়মতো না পাওয়া এটা একটি কারণ। টিকা বিষয়টি অতীব জরুরি শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত ছিল।’
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিএনপির কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত সমানতালে চলছে সমালোচনাও’। খবরে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর দুই মাস পূর্ণ করেছে বিএনপি সরকার। ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও পরে রাষ্ট্র সংস্কারের এক উত্তাল পটভূমিতে ক্ষমতায় বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারের প্রথম ৬০ দিন কেমন কাটল তা নিয়ে দেশ-বিদেশে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশিষ্ট নাগরিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী শিবিরের নেতাদের মন্তব্যে উঠে আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তারা বলছেন, দেশের এক ক্রান্তিকালে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অল্প দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশবাসীকে তার ব্যাপক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে আশাবাদী করে তুলেছেন, তেমনি কিছু সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই বলছেন, দুর্নীতি, অনিয়ম আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
প্রশাসনে দলীয় নেতাদের বসানোর মাধ্যমে দেশে আবারো পুরনো কালচার ফিরে আসছে বলে মত তাদের। একইসাথে তারা বলছেন, তারেক রহমানের সরকার নির্বাচনের পর একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে সরকারের নেয়া প্রদক্ষেপগুলোতে ফের পরিবেশ ঘোলাটে হচ্ছে বলে মত বিশিষ্টজনদের।
সূত্র মতে, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল ১৭ এপ্রিল শুক্রবার এই সরকার তাদের দুই মাস পূর্ণ করেছে। সামগ্রিকভাবে তারেক রহমানের সরকারের প্রথম দুই মাস ছিল ‘স্থিরতা ফেরানোর লড়াই’। বিশিষ্টজনদের মতে, এই স্বল্প সময়ে কোনো সরকারকে চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই সময়ে দল হিসেবে বিএনপি নির্বাচনের আগে দেয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আজ বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের দুই মাসের কার্যক্রম সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
অন্য দিকে, ইরান-ইসরাইল ও আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট চলমান জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে দাম বৃদ্ধি না হলেও সঙ্কট মোকাবেলায় ‘সঠিক ব্যবস্থাপনা’ করতে না পারা, সড়কের চাঁদাবাজি নিয়ে মন্ত্রীর অতিরিক্ত বক্তব্য, মব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা নিয়ে সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নতুন এই সরকার। এ ছাড়া দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের অন্তর্কোন্দল ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ সময়ে বিএনপি সরকারের ভাবমর্যাদাও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনী ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১ দিনের মাথায়, ১০ মার্চ নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ১৪ মার্চ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য সরকারি মাসিক সম্মানী ভাতা কার্যক্রম চালু করা হয়। ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচি এবং সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেয় সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত কিছু উদ্যোগও সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সংখ্যা কমানো, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার অফিস করা, সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে আসা ও রাত অবধি কাজ করা এবং সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সরকারি গাড়ির পরিবর্তনে ব্যক্তি গাড়ি ব্যবহার করা, এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ। সরকারের প্রথম দুই মাসের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো করেছিলেন, তার অনেক কাজই শুরু করতে পেরেছেন। এর মধ্যে খালকাটা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের সফলতা। শুরুটা আমরা ভালোভাবে করতে পেরেছি।
আজকের পত্রিকা
‘বেশির ভাগ দরগাহ-মাজার খোলেনি হামলার পর’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বেশ কিছু পীর-ফকিরের খানকা, দরগাহ ও মাজারে হামলা করা হয়। এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনা এবং কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে পোড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের প্রায় পুরোটা সময় যত হামলা হয়েছে, তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা হয়নি। যে কয়েকটি মামলা করা হয়েছে তার তদন্তেও পুলিশের বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়নি। হামলার পর থেকে ওই সব খানকা ও মাজার বন্ধ রয়েছে। এদিকে হামলার ঘটনা কমে এলেও তা এখনো চলছে।
পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও ‘সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’ নামে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দুই বছরে দেশের সুফিদের মাজার, দরগাহ, খানকার মতো স্থাপনা এবং ওরস, লালন মেলা, পালাগানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান-আয়োজনে ১৩৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মাজার ও দরগায় ৯৯টি হামলা করা হয়েছে।
হামলার সময় মাজারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারধর এবং লুটপাট চলেছে। হামলার আগে সংশ্লিষ্ট মাজারে ‘ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড’ চলে বলে প্রচার করা হয়েছে। এসব হামলায় স্বয়ং একজন ‘পীর’সহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত দেড় হাজার মানুষ। কোনো কোনো মাজারে কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজারগুলো আর খুলতে পারেনি তাদের কর্তৃপক্ষ; বরং দেশের অস্থিরতা কমে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার আসার পরও মাজারে নতুন হামলার ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দরবার শরিফে ‘পীর’ আবদুর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়। নিহত শামীমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান কুষ্টিয়া জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ১৯ জনকে শনাক্ত করলেও ১৬ এপ্রিল রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞজনেরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এত অল্প সময় এতসংখ্যক মাজারে আর কখনোই হামলা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও বিচারহীনতার কারণেই একের পর এক এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ।
মাজারসংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়দের বাধার মুখে মাজারগুলোর সংস্কার বা পুনরায় চালু করতে পারছেন না তাঁরা। হামলার আতঙ্কে মাজারে দর্শনার্থী কমে নেমেছে শূন্যের কোটায়।
হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে খুব কম। মামলা করা হলেও আসামি গ্রেপ্তার ও তদন্তে অগ্রগতি নেই।
পুলিশের বিশেষ শাখা ও সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজের তথ্যে বলা হয়েছে, দেশের অন্তত ২৪ জেলার মাজার, দরগাহ, খানকা ও সংশ্লিষ্ট মতাদর্শের মানুষের ওপর হামলা করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হামলা করা হয়েছে ঢাকা বিভাগের মাজার ও এ-সম্পর্কিত স্থাপনায়। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম। এই বিভাগের পাঁচ জেলায় ২৮টিতে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে। সারা দেশের এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র ১৩টি মামলা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কেবল একটি মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তেলে সুখবর মিলবে কবে’। খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় মিরপুর-১ নম্বরের একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে লাইনে দাঁড়ান ওই এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমেদ। প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর যখন তার তেল নেওয়ার পালা, তখন পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায় তেল শেষ। সুমনের পেছনে তখন প্রায় দেড়শ মানুষের দীর্ঘ লাইন।
জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে এমন ভোগান্তি আর দুর্দশার চিত্র প্রায় প্রতিদিনের। তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন রাতভর। আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকেই।
এদিকে সংকট কাটাতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের যে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।
যুদ্ধের প্রভাবে দেড় মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকটে ছুটির দিনে কিছুটা স্বস্তি মিলবে এমন আশা ছিল অনেকের। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। গতকাল শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কোথাও পাম্প বন্ধ, আবার কোথাও সীমিত বিক্রিতে দীর্ঘ লাইন। সব মিলিয়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশজুড়ে এখন অধিকাংশ পাম্পে ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে তেল বিক্রি হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি দেওয়া হচ্ছে না। তবু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার নতুন করে লাইন তৈরি হচ্ছে। এক ধরনের চক্রে আটকে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা।
পাম্পকর্মীরা বলছেন, ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিলম্বই এ সংকটের মূল কারণ। অনেক পাম্পে সকালে তেল না থাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরে যখন তেল আসে, তখন একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ভিড় করে। ফলে রেশনিং করে সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে লাইন কমছে না, অন্যদিকে অসন্তোষ বাড়ছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘খরচের চাপে মানুষ’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, খরচ, খরচ আর খরচ-এই এক শব্দেই যেন আটকে গেছে মানুষের জীবন। বাজারে ঢুকলেই দাম বাড়ার ধাক্কা, আর সেই ধাক্কা সামলাতেই হিমশিম নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাসপাতালের বিল, স্কুল-কলেজের ফি, এমনকি যাতায়াত, বাসাভাড়াও। কিন্তু সেই তুলনায় মানুষের আয় বাড়ছে না। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট হয়েছে নতুন বোঝা।
জ্বালানি সংকটে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে চাকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনে। দেশে রাইড শেয়ারিং খাতে জড়িত অন্তত ১০ লাখ মানুষ। পাঠাও ও উবার মিলিয়ে নিবন্ধিত চালকের সংখ্যা কয়েক লাখ। এই বিশাল কর্মসংস্থানের বড় অংশই এখন জ্বালানি সংকটে অনিশ্চয়তায়। লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতেই তাদের অর্ধেকের বেশি সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে উপার্জনও আগের চেয়ে সীমিত হয়েছে। এ ছাড়া শপিং মল, মার্কেট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরাও চাপে পড়েছেন।
ফলে সীমিত আয়ের মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি দিনদিন খরচের চাপে চ্যাপটা হচ্ছে।
রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহর-সব জায়গাতেই একই চিত্র। বাজারে গিয়ে অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ খালি হাতে ফিরছেন। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ দূরের কথা, নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই হয়ে উঠছে কঠিন। শুধু খাবার নয়, চিকিৎসা আর শিক্ষার খরচও বেড়ে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।
চিকিৎসা খাতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ চিকিৎসা করাতে গিয়ে দরিদ্র হয়ে পড়ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ নিচ্ছে বা সুদের টাকায় চিকিৎসা চালাচ্ছে। পরে সেই টাকা শোধ করতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। টাকা খরচ করেও অনেক ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা মিলছে না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। গত এক মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ শিশুর। আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৭৪ শিশুর। এতেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র চোখে পড়ে। শিক্ষা খাতেও একই অবস্থা। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা। স্কুলের বেতন, কোচিং, প্রাইভেট টিউটর, বই-সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে ৬০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে এই চাপ আরও বেশি। ফলে অনেক দরিদ্র পরিবারই বাধ্য হয়ে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিচ্ছে।
বেসরকারি এক গবেষণা বলছে, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী কোনো না কোনো পর্যায়ে ঝরে পড়ছে, যার বড় কারণ দারিদ্র্য। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার পেছনে গড় খরচ বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এমনকি দেশের প্রায় ৭ শতাংশ পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে বাসা ভাড়া, যাতায়াত খরচ ও নিত্যদিনের অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছেন। তাদের বেতন খুব একটা বাড়ছে না, অথচ প্রতি মাসেই খরচের চাপ বাড়ছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই সঞ্চয় ভাঙছেন, কেউ আবার ধারদেনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল পরিকল্পনা: টিকার অব্যবস্থাপনায় ১১ রোগের বিস্তার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য খাতে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেনাকাটা নিয়ে জটিলতার কারণে ১১টি রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু টিকার সংকট তৈরি হয়। এতে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ১৫টি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সংক্রামক ও অসংক্রামক মিলিয়ে অন্তত ২৬টি রোগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (এইচপিএনএসপি) আওতায় ১৯৯৮ সাল থেকে দেশে রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি সেক্টর প্রোগ্রাম নামে পরিচিত। বিভিন্ন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হতো। এর আওতায় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, গবেষণাসহ মোট ৩৮টি কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সরকারি অর্থায়ন ও দাতা সংস্থার সহায়তায় পাঁচ বছর পরপর এই কর্মসূচি নবায়ন করা হতো।
চতুর্থ এইচপিএনএসপি শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। জুলাইয়ে এক লাখ ছয় হাজার ১০০ কোটি টাকার পঞ্চম এইচপিএনএসপি শুরু হয়ে ২০২৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের মার্চে হঠাৎ করে ওপি বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই বছরে মাত্র পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।
ওপি বন্ধ হওয়ায় হাম ও রুবেলা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, হেপাটাইটিস, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), গর্ভকালীন জটিলতা, কালাজ্বর, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, নারী ও প্রসূতি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, কৃমি, রাতকানা, টাইফয়েড, পোলিও, এইচআইভি, ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস, ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, চর্মরোগ, মানিসক স্বাস্থ্য সমস্যা, অন্ধত্বসহ ২৬টি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, বিকল্প চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য। অপুষ্টি, রোগপ্রবণতা ও শিশুমৃত্যুর হার বাড়তে শুরু করেছে।
টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত
ওপি বন্ধ হওয়ায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য অপারেশন প্ল্যানের আওতায় ইপিআই পরিচালিত হতো। গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কিনত ইপিআই। এ পদ্ধতিতে টিকা কেনায় সময় ও জটিলতা তুলনামূলকভাবে কম লাগত। কিন্তু হঠাৎ ওপির মাধ্যমে টিকা কেনার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, ইউনিসেফকে বাদ দিয়ে টিকা কেনা হবে। এতে অর্থ মন্ত্রণালয় নানা প্রশ্ন তোলে। পরে মন্ত্রণালয় আবার টিকা কেনায় ইউনিসেফকে যুক্ত করে। এসব করতে গিয়ে কয়েক মাস সময় চলে যায়। এজন্য গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকার পূর্ণ বা আংশিক ডোজ পায়নি। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।
ইপিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের বিভিন্ন বয়সে মোট সাতটি টিকা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ১১ ধরনের রোগ প্রতিরোধ করা হয়। রোগের ধরন ও টিকার কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে এই তালিকা সাজানো হয়েছে। যক্ষ্মার মতো ভয়াবহ ব্যাধি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেওয়া হচ্ছে বিসিজি (বিসিজি) টিকা।
এ ছাড়া রয়েছে পেন্টাভ্যালেন্ট বা পেন্টা টিকা, যা একাই পাঁচটি রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। এটি শিশুদের ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস (হুপিং কাশি), ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি এবং হেপাটাইটিস-বি থেকে সুরক্ষা দেয়। পোলিও নির্মূলে সরকার দুই ধরনের টিকা ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মুখে খাওয়ার জন্য ওপিভি এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে আইপিভি। এ ছাড়া শিশুদের নিউমোনিয়া থেকে বাঁচাতে দেওয়া হয় পিসিভি টিকা।
হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে এমআর টিকা। অন্যদিকে, তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে টাইফয়েড প্রতিরোধে শিশুদের দেওয়া হয় টিসিভি টিকা। আর রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া প্রতিরোধে ওনার ভ্যাগসিন দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে এই সবগুলো টিকা প্রদানের কার্যক্রম গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ ও সমন্বয়হীনতার কারণে ২৬টি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

সিরু
১ মাস আগে> মধ্যপ্রাচ্যকে নরক বানাচ্ছে স্যুট টাই পরা ইহুদীরা।
> বাংলাদেশকে নরক বানাচ্ছে দাঁড়ি টুপি জুব্বা পরা জামাতি ইহুদীরা।