নাটোরে পাওয়ার গ্রিডে লুণ্ঠিত দেড় কোটি টাকার মালামালসহ ১৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

নাটোরে পাওয়ার গ্রিডে লুণ্ঠিত দেড় কোটি টাকার মালামালসহ ১৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে চার পাহারাদারকে বেঁধে রেখে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় পুলিশ দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের গভীর জঙ্গল ও গজারী বনে অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার লুণ্ঠিত মালামালসহ ১৩ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, ডাকাত সর্দার রুহুল আমিন ও অপর দলের ডাকাত সর্দার সৈকত জেলে থাকা অবস্থায় অরক্ষিত বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় নির্মাণাধীন অরক্ষিত পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই গত ২৫শে মার্চ গভীর রাতে দু’টি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল যৌথভাবে নির্মাণাধীন ওই গ্রিডে কর্মরত চারজন অপেশাদার পাহারাদারকে বেঁধে রেখে এক কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল ট্রাকে করে নিয়ে চলে যায়। পরের দিন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ডাকাতির অভিযোগে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় গত ৪৮ ঘণ্টা নাটোর ছাড়া, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাবনার ফরিদপুর নেছারাবাদ শিবপুরের ২০ মামলার আসামি পা কাটা মো. রোকন মোল্লা (৩২), ১২ মামলার আসামি একই জেলার চাটমোহরের মো. শিহাব উদ্দিন (২৬), ১০ মামলার আসামি তাড়াশ উপজেলার রুহুল আমিন (৩৮) ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আব্দুস সালাম (৩৫), ৮ মামলার আসামি একই জেলার নন্দীগ্রামের মো. তসলিম প্রামাণিক (৪৮), একাধিক মামলার আসামি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার চিথুলিয়ার হযরত আলী ওরফে মন্টু মোল্লা (৪৬), বগুড়া শিবগঞ্জের বাছেদ মণ্ডল (৩৭), জামালপুর জেলার ইসলামপুর ডিগ্রির চরের সৈকত (২৫), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুরের উজ্জ্বল মোড়ল (৫০), একই এলাকার মাওনা উত্তরপাড়ার হারুন অর রশীদ (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম (৩৯), নায়েব আলী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪২) নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া পাওয়ার গ্রিডের প্রায় সোয়া কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ১০টি মোবাইলসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। এর আগেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানা এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৬৯৬৬) ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যথাক্রমে ইফতে খায়ের আলম, সুমন কুমার, শোভন চন্দ্র হোড় (বড়াইগ্রাম সার্কেল), জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম ও বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ১৩ জনকে শুক্রবার বিকালে বড়াইগ্রাম আমলী আদালতের মাধ্যমে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন