দেশের উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিং ঠেকাচ্ছে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে ত্রাহি অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাতও। গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ায় বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। বাড়তি এই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি সামলাতে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বিশেষত উত্তরাঞ্চলে স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্রগুলো চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় আমদানিকৃত বিদুৎ বিশেষত আদানির সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ এখন এই অঞ্চলের জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে গ্যাসের ঘাটতি ও বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশে বর্তমানে এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা আরও জানান, ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গোড্ডা পাওয়ার প্লান্টের দুই ইউনিট থেকে বিপিডিবির চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানি।
গ্যাস, তেলের ঘাটতি ও বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, পিক আওয়ারে দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে সরকার।
এদিকে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় ইতিমধ্যে খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে, ফলে শহর ও গ্রামে বাড়ছে লোডশেডিং।
বিপিডিবি’র তথ্য অনুযায়ী, ১৫ই এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫৩৯৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন ছিল ১৩৮৪৯ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎতের জোগান ও চাহিদার ঘাটতি ১৫৪৯ মেগাওয়াট। ১৪ই এপ্রিল দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৪,৭৯৯ মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪,০৮০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে শহর ও গ্রামের লোডশেডিংয়ে।
এদিকে, উত্তরবঙ্গের স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় উত্তরাঞ্চলে আমদানি করা আদানির বিদ্যুতের হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আদানি উত্তরাঞ্চলের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ পূরণ করত, কিন্তু বর্তমান সংকটে সেই হার বেড়ে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
বিপিডিবির তথ্যসূত্র বলছে, ১৫ই এপ্রিল রাজশাহী ও রংপুর জোনে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৬২২ মেগাওয়াট, যার মধ্যে আদানির সরবরাহকৃত বিদ্যুৎতের পরিমাণ ১৪৮১ মেগাওয়াট। যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫৬.৪৮ শতাংশ।
১৪ই এপ্রিল রাজশাহী ও রংপুর জোনে মোট ২,৬২৩ মেগাওয়াট উৎপাদনের মধ্যে একাই ১,৪৭৮ মেগাওয়াট সরবরাহ করেছে আদানি। এর আগের দিন ১৩ এপ্রিলেও মোট ২,৬৭৮ মেগাওয়াটের মধ্যে আদানির অবদান ছিল ১,৫০২ মেগাওয়াট, অর্থাৎ ৫৬.০৮ শতাংশ। এছাড়া, বিপিডিবি’র তথ্যসূত্রের হিসাবে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে আদানি দেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিপিডিবি’র বিল বাকি থাকা সত্ত্বেও আদানির দুটি ইউনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। আদানির বিদ্যুৎ ছাড়াও ভারতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পাশাপাশি নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি জাতীয় গ্রিডের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো এবং বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির চাপে দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন কঠিন সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানি করা বিদ্যুৎ কিছুটা হলেও দেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন