বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলাকে নতুন উপজেলা হিসেবে গঠনের প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (প্রাক-নিকার) সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে করে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মোকামতলা বগুড়া জেলার ১৩তম উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। গত ১২ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রাক-নিকারের সচিব কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। একই সভায় বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের বিষয়টিও অনুমোদন পায়। প্রাক-নিকারের অনুমোদনের পর এখন গেজেট প্রকাশ, সীমানা নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে মোকামতলা আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করবে।
স্থানীয়দের দাবি, মোকামতলাকে উপজেলা করার দাবি নতুন নয়। ১৯৮১ সাল থেকে এলাকাবাসী এ দাবি জানিয়ে আসছেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। মোকামতলা মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক খালিদ হাসান বলেন, ‘মোকামতলা শুধু একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি উত্তরবঙ্গের নয় জেলার প্রবেশদ্বার। উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই গেটওয়ে এলাকা হিসেবে মোকামতলা উপজেলা হওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা রাখে’। এদিকে উপজেলা গঠনের জন্য আবেদনকারী আতিকুর রহমান বলেন, মোকামতলা উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। উপজেলা হলে প্রশাসনিক সেবা স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, মোকামতলা, দেউলী, সৈয়দপুর, ময়দানহাট্টা এবং শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্ভাব্য আয়তন প্রায় ১২৮ দশমিক ৭৪ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রাক-নিকারে মোকামতলা উপজেলা অনুমোদন হয়েছে। প্রাক-নিকারে অনুমোদন মানে শতকরা ৯০ ভাগ কাজ শেষ- ইনশাআল্লাহ’। তিনি আরও বলেন, ‘মোকামতলা উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। সবাইকে নিয়ে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে’।
বগুড়ার ১৩তম উপজেলা হচ্ছে মোকামতলা চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি
১৮ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
