মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় উপজেলার প্রতিটি এলাকায় দিনে-রাতে দফায় দফায় লোডশেডিং চলছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় বোরো চাষিরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। বিদ্যুৎনির্ভর সেচব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে পর্যাপ্ত সেচের অভাবে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বিপাকে আছেন ব্যবসায়ীরাও। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ৪৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তীব্র গরমের সময়ে উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ১৫ থেকে ১৬ মেগাওয়াট। বর্তমানে দৈনিক চাহিদা ১২ মেগাওয়াট। সেখানে দৈনিক পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈশাখের তীব্র গরমে এমনিতেই জনজীবন অতিষ্ঠ। তার ওপর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বোরো চাষি আলমাছ বলেন, বিদ্যুতের অভাবে পর্যাপ্ত সেচ দেয়া না গেলে বোরো ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উপজেলা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী একেএম রাসেল বলেন, গরমের এই সময়ে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝিটকা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হামিদুল হাসান বলেন, বর্তমানে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে আমাদের কিছুই করার নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়লে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
