চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে কলেজছাত্র খুন

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে কলেজছাত্র খুন

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম চকবাজার থানাধীন ডিসি রোড এলাকায় কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ (১৭)কে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে মঙ্গলবার চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলো- আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েস ও ভবনের দারোয়ান এনামুল হক। আসামিদের বেশির ভাগই একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। মামলায় সুনির্দিষ্ট ৭ জন ছাড়াও আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজিদ লেখাপড়ার সুবাদে ডিসি রোড শিশু কবরস্থানের পাশে কেএম মঞ্জিলের ষষ্ঠতলায় ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সোমবার চকবাজার থানার মৌসুমি আবাসিক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন বিকালে সাজিদের বন্ধু ফারদিন হাসানকে মোবাইলে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিকের মোড়ে দেখা করে। তারা দুইজনে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ কয়েক কিশোর গ্যাং সদস্য ধারাল ছোরার ভয় দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তাদের কবল থেকে বাঁচতে সাজিদ কৌশলে চকবাজার থানাধীন ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিকের ‘আমিন অ্যান্ড হাসান ম্যানশনের ভবনে প্রবেশ করে ভেতর থেকে প্রধান গেট আটকিয়ে ৮ম তলায় উঠে যায়।

ভবনটির দারোয়ান প্রধান গেট খুলে দিলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আইমনসহ অন্যরা ভবনের উপরে উঠে সাজিদকে মারধর করে ভবনের ৮ম তলার লিফটের খালি জায়গা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ জানান, নিহতের পিতা ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ভবনটির দারোয়ান এনামুল হককে গ্রেপ্তারের পর এ মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি আরও জানান, এনায়েত উল্লাহ কিশোর গ্যাং লিডার। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। সে উঠতি বয়সী কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে এবং সহযোগিতা করে। আসামিরা নিহত সাজিদকে ধারলো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেছে। হঠাৎ করে কেন তারা তাকে ধাওয়া করেছে, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন