ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ?‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক এডভোকেট মো. আব্দুল বারির এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা।
আগামী ২৩শে এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ১৩ই এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। বুধবার ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ। এদিন ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে তাদের কাছে চিঠি পাঠান জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক এডভোকেট মো. আব্দুল বারি। অধ্যাপক আব্দুল বারির সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, ১৩ই এপ্রিল সব প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বুধবার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হলো। বাতিল হওয়া প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন বদর উদ্দিন আহমেদ। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন এমদাদুল হক। এই প্যানেলের ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলের তালিকায় অন্যদের মধ্যে আছেন সহ-সভাপতি পদের দিদারুল ইসলাম, এ কে এম কামাল হোসেন খান, মিজানুর রহমান তালুকদার, সহ-সম্পাদক পদের সাইফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, ছাহবিয়া হক (কানিজ), অডিটর পদের ইসতিয়াক আহমেদ (ইমন), সদস্য পদের এ কে এম মুনমুন আহমেদ (সেলিম), রফিকুল ইসলাম ফকির, সাবিহা সুলতানা (জেরিন), এম কামরুল হাসান সরকার, ফুয়াদ হাসান (নিউটন), আব্দুল্লাহ আল নাঈম ও তানিয়া আক্তার (রেশমী)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রার্থিতা বাতিল হওয়াদের মধ্যে সভাপতি পদের বদর উদ্দিন আহমেদ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদের এমদাদুল হক ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, অডিটর পদের ইসতিয়াক আহমেদ (ইমন) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক এবং সদস্য পদের ফুয়াদ হাসান (নিউটন) ত্রিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বদর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি একটি নির্দলীয় নির্বাচন। নির্দলীয় এ নির্বাচনে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অসাংবিধানিক। যাদের বাতিল করা হয়েছে, তাদের অনেকে নতুন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নেই।’ মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও রিটার্নিং অফিসার এডভোকেট আব্দুল বারির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
