গাজীপুরে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা

গাজীপুরে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপি’র কয়েকজন নেত্রীর নাম ঘুরছে স্থানীয় রাজনীতিতে। দলীয় ত্যাগ, আন্দোলনে সক্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তবে দলের নেতৃত্বে না থাকলেও আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপি’র একজন নারী আইনজীবী। দলীয় সূত্র ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেনÑ শেখ ফরিদা জাহান স্বপ্না, জান্নাতুল ফেরদৌসী, খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরী, শিরিন চাকলাদার এবং এডভোকেট দিলারা সুলতানা সেতুসহ কয়েকজন। তারা দলীয় মনোনয়নপত্র তুলেছেন, জমাও দিয়েছেন। তাদের মধ্যে শেখ ফরিদা জাহান স্বপ্না গাজীপুর জেলা বিএনপি ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয়। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি শ্রীপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত জীবনে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। তার স্বামীও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ছিলেন জেলা বিএনপি’র নেতা। তিনি গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন। গাজীপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী হয়ে দুইবারের জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পরিচালনা করছেন। প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহকে নিজের রাজনৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরীও জোরালো আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার পথচলা শুরু। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি হামলা-মামলার মুখেও তিনি রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও নির্যাতনের কারণে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি শিরিন চাকলাদার। ২০১৪ সালে আন্দোলনের সময় পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হন। এরপরও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এডভোকেট দিলারা সুলতানা সেতুও প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বর্তমানে পেশাজীবী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। নারী অধিকার এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্র থেকে তাদের দলের জন্য অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় সিদ্ধান্ত আসবে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্যাগ, আন্দোলনে ভূমিকা ও সংগঠনে গ্রহণযোগ্যতাÑ এই তিন মানদণ্ডেই গাজীপুরের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন