পাঁচ লাখ ভোটারের জয় হয়েছে: রুমিন ফারহানা

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের নির্বাচন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করা এত সহজ নয়। নির্বাচন চলাকালে বিএনপি’র লোকাল লিডাররা অকারণে মানুষকে ভয় দেখিয়েছে। রাতে গিয়ে টাকা বিলি করেছে। ধামাউড়া দুবাজাইলের মতো রিমোর্ট এলাকার সেন্টারগুলোতে গিয়ে ভোট ছাপিয়েছে। রাতে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আটকে রেখেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমি নিজেকে প্রবেশ করতে হয়েছে। সেখানে পাঁচবারের মতো ভোট গণনা করতে বাধ্য হয়েছি। দেখা গেছে, এতগুলো ভুয়া ভোট ভুয়া ব্যালট পেপারে দিয়েছে। একপর্যায়ে সেখানকার বিএনপি’র লোকজন আমাকে মারতে গিয়েছিল। সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনবদ্য। আমি তাদেরকে স্যালুট জানাই। সেনাবাহিনী যদি শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতো। যদি নিপেক্ষতার সঙ্গে তারা কোনো দল ব্যক্তি না দেখে র‌্যাপিড অ্যাকশনে না যেতো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। বিএনপি’র ভালো ফলাফল বিষয়ে তিনি বলেন, দল হোক আর ব্যক্তিই হোক। যারাই ভালো ফলাফল করেছেন, তাদেরকে আমি শুভেচ্ছা জানাই। আশা করবো শপথ অনুয়ায়ী প্রত্যেকেই তার অবস্থান থেকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করবেন। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরবেন কিনা?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ঘরের মেয়ে? আমি তো ঘরের মেয়ে হলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। ঘরেই তো আছি। আমি যদি সিলেটে গিয়ে নির্বাচন করতাম তাহলে বলতেন আমি বাহিরে গেছি। দল সম্পর্কে বলেন, এখন তো আমার দল বলতে কিছু নেই। আমার দল তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিয়েছে। এটা তো আর আমার দল না। এটা তো এখন তারেক রহমান সাহেবের দল। দলগতভাবে বিজয়ীদের তো ধন্যবাদই জানিয়েছি। শুভেচ্ছা জানাবো কেন? এ আসনে ভোটের জয়টা আমার নয়, এই জয়টা আমার নির্বাচনী এলাকার পাঁচ লাখ ভোটারের জয়। নির্বাচন চলাকালে প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসন অসম্ভব ধরনের ভায়েস্ট ছিল। আমাদের প্রতি পদে পদে তারা থামানোর চেষ্টা করেছে। হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে। ইভেন প্রশাসন ভোটের আগের দিন চেয়ারম্যানদের ডেকে নিয়ে বলেছেন, আপনারা (চেয়ারম্যানরা) তো আমাদের লোক। তাই একটু দেখেশুনে ভোট দিবেন। এভাবে পলিটিশিয়ানদের তাচ্ছিল্য করা এটা গত ১৫ বছরের সংস্কৃতি। কারণ প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে গত ১৫ বছর সরকার চলেছে। তখন কোনো পলিটিশিয়ান নিজের জনপ্রিয়তায় জিতে আসতে পারে নাই। প্রশাসনের মজ্জায় ঢুকে গেছে যে, দে আর অল ইন অল। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ প্রশাসন বুঝতে শুরু করেছে যে, ‘মানুষ হচ্ছে অল ইন অল’। এখানে অন্তত এটা আমলে নিয়েই প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। তাদেরকে মানতে হবে, সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। প্রশাসনের সকল খরচের টাকা আসে সাধারণ মানুষের আয় থেকে। এটা বুঝেই প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। আর এলাকার জনগণের কাছে আমার অনেক প্রতিশ্রুতি আছে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে আমার অনেক কাজ করতে হবে। সম্ভাবনাময় কাজগুলোকে প্রথম প্রায়োরিটি দিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস কেন এই জেলার সকল মানুষ পাবে না? তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নয়নমুখী শিল্প গড়ে বেকারত্ব দূর করতে হবে। রুমিন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আপনি আমার দলে ফেরা নিয়ে এত চিন্তিত কেন? ‘অভিমান’ শব্দটি অনেক দামি। ভীষণ আপন ছাড়া অভিমান হয় না। বিরক্তি বা অসন্তোষ্টি থাকতে পারে। অভিমান কেন থাকবে। অভিমান শব্দটি যেখানে সেখানে ব্যবহার করা যায় না। দলের ব্যাপারে আমি বলবো- দলের আন্দোলন ছিল, সংগ্রাম ছিল অধিকারের জন্য। ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের জন্য। আমি সেই আন্দোলনের সঙ্গে শরিক ছিলাম। কিন্তু গত ১৮ মাসে দলের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি- কী করে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা যায়। কী করে জুলুম করা যায়, জমি দখল করা যায়, ব্যবসা দখল করা যায়, বালুর ব্যবসা করা যায়, কী করে দুর্নীতি করে পয়সা কামানো যায়। কী করে তদবির ও চাঁদাবাজি করা যায়। আপনি বা আপনারা কী চান আমি ওই গুলোরও সঙ্গী হবো। না নিশ্চয়। আমার রাজনীতি আমার। আর দলের রাজনীতি দলের। আগামীতে তার সাবেক দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আশা করবো তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে ভুলগুলো করেছে তার রিপিটেশন হবে না। গত দেড় বছর মানুষকে যেভাবে হয়রানি করেছেন তাও আর হবে না বলে আমি আশাবাদী।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন