মেঘনায় নৌপথে চাঁদাবাজি ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩

মেঘনায় নৌপথে চাঁদাবাজি ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চালিভাঙ্গা নৌ-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নৌ-চাঁদাবাজ জিয়া (২৮), রাধানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪৫) এবং চক্রের সহযোগী বাল্কহেডের শুকানি মো. শফিক মিয়া (৩৬)। গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানে জিয়া ও শফিককে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া চাঁদাবাজদের তথ্যের ভিত্তিতে ইউপি সদস্য সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জিয়া মেঘনা উপজেলার লক্ষণখোলা গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে। নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময় থেকে তিনি মেঘনা নদীর বটতলী থেকে কাঠালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় বালুবাহী বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযানে গ্রেপ্তার শফিক সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার ওলাস নগর নতুনহাটি গ্রামের রহম আলীর ছেলে। জানা গেছে, তিনি সুনামগঞ্জ ও সিলেট থেকে আসা বাল্কহেডগুলোকে একত্রিত করে চাঁদাবাজ চক্রকে তাদের অবস্থান জানাতেন। এ ছাড়া তিনি প্রতিদিন বাল্কহেড মালিকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করে চক্রের
কাছে পৌঁছে দিতেন এবং নিজেও এর একটি অংশ গ্রহণ করতেন। চালিভাঙ্গা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আজমগীর হোসেন বলেন, জিয়া ও শফিককে গ্রেপ্তারের পর তাদের স্বীকারোক্তিতে সাখাওয়াত মেম্বারের নাম উঠে আসে। এ ছাড়া পূর্বে গ্রেপ্তার চাঁদাবাজদের জবানবন্দিতেও তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদীপথ নিরাপদ রাখতে এ ধরনের চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন