হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে প্রেমিককে ভয় দেখিয়ে এক ডিভোর্সি নারীকে রাবার বাগানে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযানে অভিযুক্ত তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার সুরাবই গ্রামের জদাফু মিয়ার ছেলে মো. কাউছার মিয়া, তার বন্ধু তাজুল ইসলাম মনির ও আলমগীর হোসেন। এর আগে গত ৬ই এপ্রিল ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নারী বাদী হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্র জানায়, ওই নারী কুমিল্লার দেবীদ্বার থানাধীন ধামতী এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ৪ মাস আগে তাদের ডিভোর্স হয়। যে কারণে ওই নারী শায়েস্তাগঞ্জের শৈলজুরা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজে যোগ দেন। এ সুবাদে সুমন মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত ৬ই এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ওই নারী প্রেমিক সুমনকে নিয়ে অলিপুর সিটি পার্কের সামনে যাওয়ার সময় সুরাবই এলাকার নাপিতটিলায় যাওয়া মাত্রই তাদের গতিরোধ করে তাজুল, কাওছার ও আলমগীর। এ সময় যুবকরা তাদের আটক করে ভয়ভীতি দেখালে সুমন ভয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ওই যুবকরা তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি রাবার বাগানের ভিতরে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণ করে। পরে সকালে তারা ওই নারীকে বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠিয়ে দেয়। উক্ত ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প একটি আভিযানিক দল ১৩ই এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার নূরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওছারকে গ্রেপ্তার করে। পরে কাওছারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাজুল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল আদালতে গ্রেপ্তারকৃতরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন- এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
