হাম প্রতিরোধে সচেতনতা জোরদারে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের কর্মশালা

হাম প্রতিরোধে সচেতনতা জোরদারে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের কর্মশালা

ফন্ট সাইজ:

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি।

কর্মশালায় দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এতে হামের বর্তমান পরিস্থিতি, সংক্রমণের ঝুঁকি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ হিরুজ্জামান বলেন, দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সুনাগরিক তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব,” উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে সঠিক ও দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীন বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের বিশেষ বুস্টার ডোজের আওতায় আনা হচ্ছে। এই বয়সের শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় তারা আগে টিকা নিয়ে থাকলেও সুরক্ষার স্বার্থে তাদের আবারও এই টিকা দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আইভিডি কো-অর্ডিনেটর ড. বিনোদ কুমার বুড়া তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা তুলে ধরে সকলকে টিকাদানে উৎসাহিত করেন।

ইউনিসেফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা হামের বিষয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা হাম বিষয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের অঙ্গীকার করেন। বিশেষজ্ঞরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, সাংবাদিকদের নিয়মিত গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের তথ্যবহুল আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমরা নিমকো পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে হাম বিষয়ক এই কর্মশালাটি শুধু আমাদের পেশাগত রিপোর্টিংয়ের জন্যই নয়, বরং আমাদের সন্তান ও পরিবারের সুরক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কার্যকর ও উপযোগী। তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই প্রশিক্ষণে শতভাগ মনোযোগ দেয়ার মাধ্যমে আমরা নিউজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে পারবো।

আমাদের মধ্যে অনেক সময় একটি ধারণা কাজ করে যে আমরা সব জানি, কিন্তু এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নিলে বোঝা যায় যে প্রকৃত অর্থে আমাদের জানার আরও অনেক কিছু বাকি আছে। তাই পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে আমাদের আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিমকোর সাথে আমাদের আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মতো সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করব। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নিমকো সময়ের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আরও এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন