আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘স্থানীয় নির্বাচন: বড় দলের ‘বঞ্চিতদের’ ভেড়াতে চায় এনসিপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বঞ্চিত, কোণঠাসা ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের টানতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বড় দলগুলোর ক্ষুব্ধ, অসন্তুষ্ট নেতাদের এনসিপিতে ভেড়ানোর এই চেষ্টা চলছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির ‘নির্দোষ’ নেতারাও এই সুযোগ পেতে পারেন। এনসিপির নেতাদের সূত্রে এসব জানা গেছে।
এনসিপির বিভিন্ন সূত্র বলছে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা, পদবঞ্চিত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা তৃণমূল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতার মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা যথার্থ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন। এই নেতাদের কেউ কেউ এনসিপিতে যোগ দিতে যোগাযোগ করেছেন। আবার বিভিন্ন বড় দলের সৎ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অনেকের সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলে ভেড়ানোর জন্য এই যোগাযোগ ও দর-কষাকষি চলছে।
জানতে চাইলে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক দলে অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন, যাঁদের বিভিন্নভাবে বঞ্চিত করা হয়। স্বজনপ্রীতি, পরিবারতন্ত্রের কারণে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক যোগ্য নেতা-কর্মী মূল্যায়ন পান না। আমরা তাঁদের এনসিপির পক্ষ থেকে সেই সুযোগ করে দিতে চাই। এ জন্য পুরো দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যেসব ত্যাগী নেতা-কর্মী আছেন, দল যাঁদের মূল্যায়ন করতে পারছে না, আমরা তাঁদের কাছে যাচ্ছি। তাঁরাও অনেকে আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচ করছেন। তাঁদের জন্য এনসিপির দরজা সব সময় উন্মুক্ত।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের শরিক হয়ে। নির্বাচনে দলটি ছয়টি আসন পেয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আগেও এনসিপির শীর্ষ নেতারা সৎ, যোগ্য রাজনীতিবিদদের নিজেদের দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। চারবারের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মনজুর কাদের বিএনপি ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে এনসিপির প্রাথমিক মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিসহ বড় দলগুলোর নিজেদের বঞ্চিত মনে করা নেতাদের দলে টানার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিপি। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বিএনপির নেতা মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর দেখা করাকে এরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
রাজনীতিসংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছেন, বড় দলের ‘বঞ্চিত’ নেতাদের দলে টানার চেষ্টার এই সময়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর হঠাৎ মনজুর আলমের বাসায় যাওয়া একটি ইঙ্গিত জোরালো করছে। এর উদ্দেশ্য হয়তো মনজুরকে এনসিপিতে ভিড়িয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা করা। তবে ওই বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহর যাওয়ার খবরে নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে একদল লোক সেখানে জড়ো হন। মনজুর আলম সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় তাঁরা তাঁকে ‘দোসর’ আখ্যা দেন।
এদিকে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি গতকাল এক সংবাদ বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহ গেলে যুবদল ‘মব’ করে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে।
এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্যের বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মনজুর আলম বিবিসি বাংলাকে জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই তাঁকে ফোন করে বাসায় আসার কথা বলেন। পরে তিনি দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানান এবং বেলা ৩টার দিকে এনসিপি নেতা তাঁর বাসায় আসেন ও একসঙ্গে খাবার খান।
মনজুর আলমকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী করা হবে কি না, জানতে চাইলে সারজিস আলম বলেন, ‘আগে তো তাঁকে (মনজুর) এনসিপিতে আসতে হবে। এরপর দেখতে হবে, তিনি যেখানে নির্বাচন করতে আগ্রহী, সেখানে আর কারা কারা আগ্রহী, সেটা আমরা বিবেচনা করব। এরপর যদি বিবেচনায় সার্বিকভাবে তিনি এগিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু এগুলো নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগে অফিশিয়ালি এনসিপিতে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
এনসিপির নেতারা বলছেন, বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁরা আলোচনা করছেন। এসব আলোচনা সফল হলে এবং ওই নেতারা এনসিপিতে যোগ দিলে তা হবে চমক। মনজুর আলম ছাড়াও চট্টগ্রামের অন্তত তিনজন বিএনপি নেতার সঙ্গে এনসিপির আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব দ্রুত ওই নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে বরণ করে নেওয়া হবে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের কো-লিড আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এনসিপি গঠনের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। অনেকে নিজেরা আগ্রহী হয়েও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দলে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটা একটা চলমান ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।’
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, এনসিপিতে বেশ কিছু চমক আসছে। শুধু বিএনপি নয়, আরও কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নেতারা চাইলে তাঁদেরও দলে নেওয়া হতে পারে বলে জানায় এনসিপির সূত্র। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সারজিস আলম বলেন, যাঁরা অপরাধী, যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আছে, মামলা আছে, বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে; এমন নেতাদের কোনো সুযোগ নেই। সেটা আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক বা অন্য যেকোনো দলের হোক। যাঁদের ওই ধরনের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, যাঁদের স্থানীয়ভাবে এখনো গ্রহণযোগ্যতা আছে, যাঁরা সম্মানের সঙ্গে সমাজে আছেন, বিগত দেড় বছরে যাঁদের নিয়ে কোনো অভিযোগ বা ওই ধরনের আইনগত ব্যবস্থা দেখা যায়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’
প্রথম আলো
‘খরচে দিশাহারা অভিভাবকেরা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ‘আমার কলিজার টুকরো সন্তান ফালাক ঘুমিয়ে গেছে। আর ফিরবে না’—কুষ্টিয়া সদরের মুদিদোকানি মো. সাকিবুর রহমান গত সোমবার ফেসবুকে এভাবেই হামে ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছেন।
ফালাকের পুরো নাম মোহাম্মদ নোমান ফালাক। বয়স হয়েছিল মাত্র আট মাস। সে গত ২৫ মার্চ থেকে ভর্তি ছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মাঝে দুই দিন রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল। দুই দিনেই কুষ্টিয়া থেকে যাতায়াতসহ মোট খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। খরচের কথা চিন্তা করে তার বাবা ফালাককে আবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাকিবুর রহমান (ফালাকের বাবা) সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ ওষুধ, স্যালাইন ও সিরিঞ্জ বাইরে থেকে কিনে দিতে হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে দুই দিনসহ ছেলের চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে এক লাখ টাকার বেশি। ১৯ দিন হাসপাতালে থাকায় নিজের দোকানও খুলতে পারেননি। ধারদেনা করা টাকা শোধ তো করতেই হবে।
সাকিবুর রহমানের মতো হামে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকেরা খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় খরচ কম। তবে যে রোগীকে নিয়ে একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে হয়, সেই পরিবারের খরচ অনেক বেড়ে যায়। বেসরকারি হাসপাতালে খরচ আরও বেশি।
রোগীর স্বজনেরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে সব ওষুধের সরবরাহ থাকে না। বাইরে থেকে কিনতে হয়। রোগের পরীক্ষা করাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিতে যাতায়াত খরচ যুক্ত হয়। হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের খাবার ও নানা কিছু কেনার পেছনে ব্যয় করতে হয়। সব মিলিয়ে স্বল্প আয় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য খরচ অনেক। তারপরও সন্তানকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরতে পারলে তবু সান্ত্বনা থাকত, অনেকেই সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
ফালাকের বাবা সাকিবুর রহমান বলছিলেন, ফালাককে রাজশাহী বা ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা বলেছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা; কিন্তু সে সামর্থ্য ছিল না তাঁর। আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ।’
হামের চিকিৎসায় গড় খরচ কত, সে বিষয়ে কোনো গবেষণার খোঁজ পাওয়া যায়নি। করোনা চিকিৎসার খরচ কত, তা টিআইবির ২০২২ সালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছিল। টিআইবি বলেছিল, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে গড়ে সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে এই ব্যয়ের পরিমাণ গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা।
হামে মৃত্যু কত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৩২টি এবং উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যুর কথা জানিয়েছে সরকার। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ৩২ জনের মধ্যে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ জন।
১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৯ হাজার ১৬১ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে ৯ হাজার ৭৭২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) চিকিৎসক মঈনুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে করোনা, ডেঙ্গু, হাম—একটার পর একটা রোগ লেগেই আছে। বর্তমানে হামের যে চিকিৎসা, তা জেলা শহর আর ঢাকার হাসপাতালের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), বিশেষ করে পিআইসিইউ সেবা লাগলে তখন পরিস্থিতি একটু বেশি জটিল হচ্ছে। শিশুদের পিআইসিইউর স্বল্পতা আছে। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ জনবল এবং যন্ত্রপাতিরও স্বল্পতা আছে—এটা স্বীকার করতেই হবে।
মঈনুল আহসান আরও বলেন, অনেক সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হয়তো হামের রোগীকে ঢাকায় আনার জন্য রেফার করছে না। কিন্তু অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে রোগীকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াচ্ছেন। এটা না করে রোগীকে যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে (পিআইসিইউ না লাগলে), সেখানে রেখেই চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘চাপে রেখে দাবি আদায় করতে চায় বিরোধী দল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে সরকারি দলকে চাপের মুখে রাখার কৌশল নিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। উদ্দেশ্য হলো, সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন করে সংস্কার প্রশ্নে সরকারি দলকে বাধ্য করা।
জুলাই সনদ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন প্রশ্নে জাতীয় সংসদে সব বিষয়ে একমত হতে পারেনি সরকারি ও বিরোধী দল। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো অকার্যকর করেছে-এমন অভিযোগ তুলে রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। প্রাথমিক কর্মসূচি হিসাবে প্রথমে ৪ এপ্রিল বিকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। পরে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে এক সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। লিফলেট বিতরণ, সেমিনার, বিভাগীয় ও জেলা সদরে সমাবেশের সেই কর্মসূচি এখনো চলমান রয়েছে। আজ বেলা ১১টায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাদ দিয়ে ১৬টি পর্যালোচনার জন্য রেখেছে সরকার।
এখন বিরোধী দল এই ১৬টিসহ জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাইছে। তবে বিরোধী দলগুলো মনে করছে, একদিকে যেমন আন্দোলনে যাওয়ার বিকল্প নেই, অন্যদিকে মাত্র ২ মাস বয়সি নির্বাচিত একটি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে তাদের। তাই রাজপথের কর্মসূচি শুরু হলেও এই মুহূর্তেই তারা বড় ধরনের কোনো শোডাউনে যাবে না। তবে দলগুলো আন্দোলনের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে চায়; অন্যদিকে, ‘জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন’র যে ঘোষণা সরকারি দল দিয়েছে তার জন্য আরও কিছুটা সময় দিতে চাইছে তারা। এক মাস সময়সীমার মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ যেসব অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়েছে তার সবই সংশোধিত আকারে সংসদে বিল আনার আশ্বাস দিয়েছে সরকারি দল। তবে এ সত্ত্বেও সরকারকে তারা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে রাজি নন। তাই এসব ইস্যুতে সংসদীয় কমিটি এবং সংসদ অধিবেশনে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও চালিয়ে যাবেন তারা।
তবে এই মুহূর্তে বড় ধরনের আন্দোলনে গেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুবিধা হবে এমন আলোচনাও আছে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটি আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হোক এটি আবার তারা চাইছে না। তাই ভিন্ন কৌশলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তারা সোচ্চার থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উভয় স্থানে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়ের পক্ষে জনমত গঠনে জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্র-জনতাকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো; সরকারকে চাপে রেখে দাবি বাস্তবায়ন করা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ১৩ এপ্রিল ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে বলেছেন, আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়নে আমরা সামনের সারিতে থাকব উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই করা সম্ভব, ততদিনই সংসদে থাকব; তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়।
দলটির নেতাদের মতে, রাজপথের পাশাপাশি সংসদের ভেতরের আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তাই দিয়েছেন জামায়াত আমির। পাশাপাশি একটা পর্যায়ে গিয়ে সংসদ বয়কটও করতে পারেন এমনটিও মনে করেন কেউ কেউ। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদ বয়কটের মতো চিন্তাভাবনা আপাতত দলটির নেই।
কালের কণ্ঠ
‘সংকট তীব্র, বন্ধ হওয়ার পথে ইস্টার্ন রিফাইনারি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সৃষ্ট সংকটে দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) আমদানি কার্যত থমকে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ওপর। কাঁচামালের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উৎপাদন ইউনিট ‘ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন’ গত রবিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ট্যাংকারে জমে থাকা তলানির তেল বা ‘ডেড স্টক’ দিয়ে কোনো মতে কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিকে কাঁচামালের অভাবে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বরং লো-ফিড বা সীমিত উৎপাদনে সচল রয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চে নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালান সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় ইআরএলকে সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি নিশ্চিত করছে এবং বিকল্প উৎস থেকেও সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে সরবরাহে কোনো ঘাটতি না হয়।’ মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েল স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে বিধায় লো-ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও এর কোনো বিরূপ প্রভাব সরবরাহ চ্যানেলে পড়বে না। এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের মূল জ্বালানি তেল ডিজেলের মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পেট্রলের ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হলেও সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করে একদিকে ইআরএল থেকে প্রাপ্ত তেলের ঘাটতি যথাযথভাবে পূরণ করছে, অন্যদিকে সীমিত পর্যায়ে ইআরএলের উৎপাদনও অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে এই শোধনাগারের চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি সচল আছে এবং বাকি দুটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বন্ধ রয়েছে।’
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, ইআরএল মূলত সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড আমদানি করে পরিশোধন করে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।
দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইআরএলে পরিশোধন করা হয়, যা থেকে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য পাওয়া যায়। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুড অয়েলের নতুন চালান দেশে পৌঁছালে আবারও শোধনাগারটি পূর্ণ শক্তিতে ফিরবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘গ্রামে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুতের ভোগান্তি বেড়েছে। তবে শহরে তুলনামূলক কম লোডশেডিং হচ্ছে– এক থেকে দেড় ঘণ্টা। গ্রামে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুর বিভাগে লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সহনীয়। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় পল্লি মানুষের জীবনে নেমে এসেছে ভয়ানক দুর্ভোগ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্প, বাণিজ্য।
সরকারি তথ্যমতে, লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে কয়লার স্বল্পতা। এতে বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম আসছে। এ ছাড়া নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার দ্বিগুণ হলেও ঘাটতি মেটাতে সরকার হিমশিম। লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলাতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। তবে এই লোড সমভাবে বণ্টন হচ্ছে না। রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে নামমাত্র লোডশেডিং দিয়ে পল্লি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পরিচালক (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, দেশের বড় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার ও কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে কম যাচ্ছে। এ দুই কেন্দ্রের কয়লার আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষামূলক উৎপাদনে থাকা পটুয়াখালীর নোরিনকো কেন্দ্রটিও কয়লা সংকটে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে। এ ছাড়া রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, রামপালের ত্রুটিযুক্ত ইউনিটটি আজ রাতে চালু হতে পারে। এরপর হয়তো খানিকটা স্বস্তি মিলতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা শহরে লোডশেডিংকে নিরৎসাহিত করছি।
উৎপাদন ও ঘাটতি
চলতি মাসে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে লোডশেডিং। মাসের শুরুতে এক হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হলেও এখন তা দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তেল-গ্যাস স্বল্পতায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এমনিতেই কম হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চলতি মাসের জন্য ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাইলেও দেওয়া হচ্ছে ৯২-৯৩ কোটি ঘনফুট। ব্যয়বহুল বলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কম চালানো হচ্ছে; এর সঙ্গে রয়েছে বকেয়া বিল। প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা থাকায় উদ্যোক্তারা তেল আমদানির ঋণপত্র খুলতে পারছেন না।
গত রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ১০৩ মেগাওয়াট। সেদিন সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল এক হাজার ১০০ মেগায়াট। মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের ছুটি থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল। তারপরও এক হাজার মেগাওয়াটের ওপর লোডশেড করতে হয়। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার সময় প্রায় ১ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট লোডশেড করতে হয়। রাতে এই ঘাটতি আরও বাড়বে। কারণ, সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে।
ইত্তেফাক
‘হরমুজে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, আরো তিন বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি ইরানের’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও আলোচনায় বসতে যাচ্ছে’—এমন আশার বার্তার মধ্যেও বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিগিগরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কবে থেকে খোলা হবে, সেই বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। যদিও ফের ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজে মার্কিন অবরোধ চলমান থাকায় এবার ইরান লোহিতসাগরসহ তিনটি নৌপথ অবরোধের হুমকি দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
মার্কিন অবরোধেও কি জাহাজ চলছে?
ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রথম পূর্ণ দিন এর কার্যকারিতা অনেকটাই অস্পষ্ট থেকে গেছে। বিবিসির নিরাপত্তা প্রতিবেদক ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রস্তুতির ঘাটতি এবং ট্রান্সপন্ডার হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। বিবিসি ভেরিফাই বিশ্লেষণ করা জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কমপক্ষে চারটি ইরান-সম্পৃক্ত জাহাজ (যার মধ্যে দুটি ইরানি বন্দর পরিদর্শন করেছিল) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এমন আরো তিনটি জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সাগরপথে ইরানে আসা-যাওয়া সব অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নির্দেশনা মেনে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ দিক পরিবর্তন করে আবার একটি ইরানি বন্দরে ফিরে গেছে। তবে বিবিসি ভেরিফাই বিশ্লেষণ করা জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য দেখায়, অবরোধ আরোপের পর প্রণালি অতিক্রম করার পর কমপক্ষে দুটি ইরান-সম্পৃক্ত জাহাজও তাদের দিক পরিবর্তন করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো সেনা পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর আরো হাজারো সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জানা গেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি এই খবর প্রকাশ করেছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তেরপ প্রধান শিরোনাম ‘ইরানের পাল্টা অবরোধ!’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্ঘাত এক জটিল ও অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ অবরোধ দ্বিতীয় দিনে গড়ানোর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ “শেষের খুব কাছাকাছি”। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা- সামরিক উত্তেজনা, পাল্টা হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক তৎপরতা- সব মিলিয়ে সঙ্কট আরো জটিল হয়ে উঠছে।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে শুধু হরমুজ প্রণালী নয় বরং পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও বাণিজ্য চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা “কঠোর ও চূড়ান্ত” পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, এই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতোমধ্যে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই অবরোধের ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যত সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়; ফলে এখানে উত্তেজনা মানেই বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা।
এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ সতর্ক করেছে, সঙ্ঘাত আরো তীব্র হলে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে মন্দার মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যেই বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পুঁজি সরিয়ে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল অঞ্চলে স্থানান্তর শুরু করেছেন। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও চলছে জোর তৎপরতা। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। জানা গেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেয়া এবং সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার পথ সুগম করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। ইসলামাবাদে শিগগিরই নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণে সম্মত হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে সামরিক উত্তেজনা কমার বদলে আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
বণিক বার্তা
‘ভারতে দেশজ বাণিজ্যিক ব্যাংক ৩৩, বাংলাদেশে ৫২টি!’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ ভারতে দেশজ বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৩৩টি। আর বাংলাদেশে এ শ্রেণীর ব্যাংকের সংখ্যা ৫২। গত দুই যুগে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে ভারতে ব্যাংকের সংখ্যা অন্তত ৪০টি কমানো হয়েছে।
দেশটিতে সরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ২৭ থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১২টিতে আর বেসরকারি ব্যাংক আছে ২১টি। সংখ্যা কমানো ও করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতের ব্যাংক খাত শক্তিশালী হয়েছে। খেলাপি ঋণের হার নেমে এসেছে মাত্র ২ শতাংশের ঘরে। যদিও এক্ষেত্রে বিগত সময়ে বিপরীতমুখী ছিল বাংলাদেশের যাত্রা। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশেরও বেশি। সরকারি মালিকানাধীন নয়টি ব্যাংকের একটি ছাড়া বাকিগুলোর পরিস্থিতি নাজুক। মূলধন ও সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতিতে থাকা এ ব্যাংকগুলো এখন বড় সংকটে রয়েছে। অনেক বেসরকারি ব্যাংকও ভঙ্গুর দশায়। বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হওয়াকেও এ খাতের একটি সংকট হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, ভারতের বহু নেতিবাচক দিক নির্দ্বিধায় গ্রহণ করলেও ভালো কোনো উদ্যোগকে আমরা অনুসরণ করছি না। গত দুই দশকে ভারতের ব্যাংক খাত ক্রমাগত সুশাসন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত দিনে দিনে ভঙ্গুর হয়েছে। সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের শিকার হয়ে বেশির ভাগ ব্যাংকের ভিত নড়বড়ে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার বেসরকারি কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ নিলেও সেটি নাজুক পরিস্থিতিতে রেখে গেছে। অন্যদিকে সরকারি ব্যাংক সংস্কার ও পুনর্গঠনে নজরই দেয়নি তারা। এখন নির্বাচিত সরকার ব্যাংক খাত সংস্কারে ভারতীয় মডেল অনুসরণ করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যেভাবে সরকারি সহায়তানির্ভর হয়ে চলছে, তাতে সেগুলোকে আর ব্যাংকই বলা যায় না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ প্রধান অর্থনীতিবিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলো বছরের পর বছর ধরে সরকারি মদদেই লুণ্ঠিত হয়েছে। এ ব্যাংকগুলোকে কখনই পেশাদারত্বের সঙ্গে চলতে দেয়া হয়নি। অতীতে যেভাবে চলেছে, সেভাবে এখন আর চলার সুযোগ নেই। কারণ এ ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি এখন একেবারেই নাজুক।’
ভারতের মডেলে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখনো পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন, ‘অতীতে ভারতের ব্যাংক খাতের অবস্থা আমাদের মতোই ছিল। গত কয়েক দশকে সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে তারা ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করেছে। ব্যাংক খাত পরিচালনায় সুশাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ব্যাংকগুলো উল্টো পথে হেঁটেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করে আমরা ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছি। এখন দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনর্গঠনের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকারকে নিজের ব্যাংকগুলোকে দিয়েই শুরু করতে হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি ব্যাংক নয়টি, আর বেসরকারি খাতের ব্যাংকের সংখ্যা ৪৩। সে হিসাবে দেশজ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২টিতে। এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৬টির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে গত দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারতে দেশজ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা এখন ৩৩। এর মধ্যে ২১টি বেসরকারি খাতের ব্যাংক। বাকি ১২টি ব্যাংক সরকারি মালিকানাধীন। যদিও ভৌগোলিক আয়তন ও জনসংখ্যার বিবেচনায় ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বৃহৎ দেশ।
দেশ রূপান্তর
‘অন্তর্বর্তী সরকারের এক সিদ্ধান্তেই স্বাস্থ্যে ধস’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি মাত্র সিদ্ধান্ত। আর তাতে ধস নেমেছে স্বাস্থ্য খাতে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাত এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। সামনে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আরও ভয়াবহ আকার ধারণের আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। শঙ্কা রয়েছে ডিপথেরিয়া, টিভি, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশির প্রাদুর্ভাবের। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। টিকা কার্যক্রমে ভাটা, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের বেতন বন্ধ সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈজ্ঞানিক ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। যার নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান এবং ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হতে পারে। এই থমকে যাওয়া খাতে গতি ফেরাতে এখন বর্তমান সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আগে টিকা কেনা হতো ইউনিসেফ থেকে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ইউনিসেফ এবং ৫০ শতাংশ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণে টিকা কেনায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব ধরনের টিকার সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট এখনো বিদ্যমান। তবে বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, যে টিকাগুলো সরকারের কাছে থাকার কথা সেগুলো গত ১৬ মার্চ থেকে শেষ হওয়া শুরু করেছে। এপ্রিলে পেন্টাভ্যাক্স এমএম; ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (হুপিংকাশি) এবং টিটেনাসসহ সবই মোটামুটি শেষ হওয়ার পথে। এই সংকটের সমাধানে সরকার নতুন করে টিকা কেনার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সরকার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কিনতে তাদের কাছে টাকাও পাঠিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই টিকার সমাধান হবে। তবে ওপি চালু করতে না পারলে সংকট থেকে যাবে।
টিকা শেষ হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। অদ্ভুত ঘটনা হচ্ছে, আগে সরকার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কিনত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ৫০ শতাংশ কিনবে ইউনিসেফের থেকে আর বাকি ৫০ শতাংশ সিএমএসডিতে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে। ওপেন টেন্ডার করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে বিষয়টি ঝুলে ছিল। বর্তমান সরকার এখন সরাসরি প্রকিউরমেন্টে নিয়ে আসায় ইউনিসেফ থেকেই কেনা হচ্ছে। বাকি ৫০ শতাংশের টাকার জন্য একটা সমন্বয়ের বিষয় ছিল। কোভিডের কিছু টাকা বেচেছিল। সেই টাকার সঙ্গে সমন্বয় করতে সময় লাগছিল। সেটাও এখন মোটামুটি সমাধান হয়েছে। সুতরাং এখন নতুন ভ্যাকসিন পেতে আর সমস্যা নেই। তবে টিকার যে সংকট সেটা ডিপোতে, ডিস্ট্রিবিউশন এরিয়া, বিভিন্ন উপজেলা-জেলায় এখনো টিকা আছে। সেগুলো দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫-২০ দিন চলবে। ২০ তারিখ থেকে আমরা রেগুলার ভ্যাক্সিনেশন শুরু করছি। আর সমস্যা হবে না।’
জানা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে অপারেশন প্ল্যানে (ওপি) স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জনসংখ্যার কার্যক্রমগুলো চলছিল। তা নবায়ন না করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব (স্বাস্থ্য-৩) ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওপি পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত তিন পদবিও বিলুপ্ত করা হয়।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ওপিতে ৫ বছর মেয়াদি খাতভিত্তিক ব্যাপক কর্মসূচি পরিচালিত হতো। প্রায় ৩৪-৩৫টি ওপি দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কাজ হতো। স্বাস্থ্যের সব কাজ যেমন কিউরেটিভ সার্ভিসেস, হাসপাতাল, হাসপাতালের ওষুধপত্র, নানা সার্জিক্যাল জিনিস, যন্ত্রপাতি কেনা এবং হাসপাতালের যত কর্মকা- আছে সবই ওপির মাধ্যমে হতো। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের কাজগুলো, যেমন টিকা দান, কুকুর এবং মানুষকে জলাতঙ্কের টিকাদান। এভাবে বিভিন্ন রোগ নির্মূল, বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে কাজ করত এই ওপি। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে ওপি বন্ধ করে দেয়। আর এতে স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন বিষয় স্থবির হয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘এখানে দুটি জিনিস ছিল। একটি ছিল বাজেট, যেটা পাঁচ বছরের জন্য ছিল। কাজেই পাঁচ বছর ধরে কাজটা এগিয়ে নেওয়া যেত। তাতে কাজের ধারাবাহিকতা থাকত এবং তার একটা ইমপ্যাক্ট থাকত, স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি ইমপ্যাক্ট। আমাদের স্বাস্থ্য খাতে কিন্তু অনেকগুলো অর্জন রয়েছে। যেমন টিকায় বিশ্বের অন্যতম ভালো দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। বেশ কয়েকটা রোগ নির্মূল; যেমন শিশুদের ধনুষ্টংকার নির্মূল, পলিও নির্মূল, কালাজ¦র নির্মূল, গোদ রোগ নির্মূল হয়েছে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন যে একটা সিস্টেমের মাধ্যমে কত বিশাল অর্জন হয়েছে। সেই ওপি যখন বন্ধ করা হলো, তার বিকল্প কিন্তু কিছু করা হলো না।’
অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার হলো, তাদের সময় ধরতে গেলে অর্থপ্রবাহ শূন্যের কাছে চলে আসে। সব মিলিয়ে আমাদের জনস্বাস্থ্য ভীষণ হুমকিতে পড়ে। একদিকে বাজেট ছিল না, অন্যদিকে টিকাদান কর্মী, স্বাস্থ্য সহকারীদের বিভিন্ন আন্দোলন টিকা প্রয়োগকে কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
ওপি না থাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সাল থেকে আমরা হাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। কিন্তু গত এক বছর টিকা না দেওয়ায় পরিস্থিতি কোন অবস্থায় গেল? এখান থেকে স্পষ্ট ওপি না থাকায়, জনস্বাস্থ্যবান্ধব কর্মসূচিগুলো না থাকায় আমাদের সামনে আরও অনেক ভোগান্তি আছে। ডিপথেরিয়ায়, টিবি, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি এ রকম প্রতিরোধযোগ্য যতগুলো রোগ আছে, সবগুলোর ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
মানুষের টিকা শুধু নয়; কুকুরের টিকাও দেওয়া হচ্ছে না দীর্ঘদিন। এতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বাড়ছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জলাতঙ্কে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে মৃত্যু হয় ১৯ জনের।
এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) বাইকে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তাদের অনেককেই বাইকে কর্মস্থলে যেতে হয়। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার অপারেশন প্ল্যান বন্ধ করে দেওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ির তেল খরচ ও চালকের বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সে জন্য তাদের কখনো ভাড়ার বাইকে, কখনো অন্য যানবাহনে চড়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয় তদারকি করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এ বিষয়ে বলেন, ‘ফিল্ড লেভেলের যারা সামান্য বেতনের কর্মচারী তারা রেমুনারেশন পাচ্ছেন না, টাকা পাচ্ছেন না। তাহলে কেন কাজ করবেন? উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সেও গাড়িচালকদের বেতন, মেসিয়ার, ক্লিনার, মালী, ওয়ার্ড বয়, আয়া, সুইপার কারোরই বেতন হচ্ছে না।’ কতটা অমানবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে পুরোপুরি ধস নেমেছে। এখন এই যে কার্যক্রমগুলো স্বাস্থ্য খাত চলছে, তা শুধু মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইপিআই এবং স্বাস্থ্যসেবার যা কিছু তার পুরো নিয়ন্ত্রণ উপজেলা হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হাতে। তাদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তাদের কোনো টাকা নেই, তাদের টাকা খরচের কোনো জায়গা নেই, তারা কোনো কিছুই করতে পারছেন না। এভাবে যদি চলতে থাকে, আমরা যদি এই ওপির বিকল্প না করতে পারি, এটা আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে ভয়ংকর আকার ধারণ করবে।’
একটি ভ্যাকসিনের ক্যারিয়ারের ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা বহনে ফান্ডিং নেই। ওপি বন্ধ করে দেওয়ায় এখন এই বাক্স কে কাঁধে করে নিয়ে যাবে? তারপরও কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের লোকরা নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই যে ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রামটা চালু করছি, তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বসেছিলাম। তারা কথা দিয়েছেন, কাজ বন্ধ করবেন না। তাই তাদের বিষয়টিও সরকারকে দেখতে হবে।’
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘একদিকে শিশুদের টিকার সংকট, অন্যদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর। সাপের কামড়ের প্রতিষেধক এন্টিস্নেক ভেনম, জলাতঙ্কের টিকাসহ অন্তত ১০ ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সংকট রয়েছে। সেই সংকটে আমরা এক সময় সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার বাড়তে দেখেছি। মানুষ এন্টি র্যাবিস ভ্যাকসিনের জন্য দোকানের পর দোকান খুঁজে বেরিয়েছে, পায়নি। বাচ্চাদের টিকা দানের হার ছিল প্রায় ৯৭-৯৮ শতাংশ। সেটা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘এক সময় মাতৃমৃত্যুর হার কমে গিয়েছিল। শিশু মৃত্যুর হার কমে গিয়েছিল। সেই সব জায়গায় এখন কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি হারগুলো ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী। অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে হয়েছে। ইতিমধ্যে তার অনেকগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। আবার বেশ কিছু হয়তো সামনে প্রকাশ ঘটবে। প্রত্যাশা করব সরকার একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি দেখবে এবং কারও অবহেলা থাকলে জবাবদিহিতায় আনবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী বলেন, ‘ওপি পুনরুজ্জীবিত করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। হাম নিয়ন্ত্রণে আনার পর এই বিষয়গুলোতে হাত দেওয়া হবে। সবাইকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। আগামী ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসবেন। আশা করছি আমরা পারব।’
সহযোগীদের খবর
বড় দলের ‘বঞ্চিতদের’ ভেড়াতে চায় এনসিপি
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ মাস আগে
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ০৭ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
