প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৭%, মূল্যস্ফীতি ৯.২ শতাংশে উঠবে- আইএমএফ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বব্যাংক ও এডিবি’র পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, আগামী ৩০শে জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪.৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ৪.৩ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪.৭ শতাংশ বাড়বে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ বা ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভা চলাকালে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের গবেষণা বিভাগের পরিচালক পিয়েরে-অলিভিয়ে গুরনিয়ঁস প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ১৩ই এপ্রিল সভা শুরু হয়েছে। ১৮ই এপ্রিল শেষ হবে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল সভায় যোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত আউটলুকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল আইএমএফ। তবে বিশ্বব্যাংক ও ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) চেয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস বেশ খানিকটা বেশি।
গত ৮ই এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের এপ্রিল সংস্করণে বিশ্বব্যাংক বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের ধাক্কায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দুইবার কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গত বছরের ৮ই অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের অক্টোবর সংস্করণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ৪.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। পরে চলতি বছরের ১৪ই জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ৪.৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

অন্যদিকে গত ১০ই এপ্রিল প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই আউটলুকে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আভাস দেয়া হয়েছিল।
প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর ব্যাখ্যায় আইএমএফ বলেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে সংকটে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তাই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তিন প্রান্তিক (নয় মাস, জুলাই- সেপ্টেম্বর, অক্টোবর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি-মার্চ) শেষ হয়েছে। গত ৬ই এপ্রিল দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সাময়িক হিসাব ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সংশোধিত জিডিপি’র তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশ খানিকটা কমেছে; নেমে এসেছে ৩.০৩ শতাংশে।

সাময়িক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তথ্য দিয়েছিল বিবিএস। সংশোধিত (রিভাইজড) হিসাবে তা বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। নতুন সরকার অবশ্য এখনো জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করেনি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৪.২২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.১ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। ২০২৫ সালে ৩.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।

মূল্যস্ফীতি হবে ৯.২ শতাংশ: এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৯.২ শতাংশ হতে পারে। তবে আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) এই সূচক কমে ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে আইএমএফ বলেছিল, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি হবে ৮.৭ শতাংশ। এ হার গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০ শতাংশ। গত ৫ই এপ্রিল মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস। তাতে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতির হার খানিকটা কমেছে। মার্চ মাসে কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের ধাক্কায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশে উঠেছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে। আর এই ধাক্কায় বৈশ্বিক জিডিপি কমবে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন