রাজধানীর শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলাসহ র্যাবে থাকা অবস্থায় ক্রসফায়ারের অভিযোগে করা মামলায় আসামি করা হবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মানবজমিনকে এ তথ্য জানান। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে বিভিন্ন থানায় করা মামলাগুলোর এজাহার কপি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার মামলার কপি তদন্ত সংস্থায় জমা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কার্যক্রম অনেকাংশ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে চৌধুরী মামুনসহ আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আমরা এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। শাপলা চত্বরের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত যে কাউকেই আমরা বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো জানিয়ে তিনি বলেন, এটা সিভিলিয়ান, পুলিশ পার্সোনাল হোক, র?্যাব হোক, আর্মি অফিসার হোক, যাদের এই কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা ছিল বা আমরা পাবো, প্রত্যেককে আমরা বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো। সেটা যে কেউ হতে পারে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বেনজীর আহমেদ কিংবা জিয়াউল আহসানসহ যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করবো। এ লক্ষ্যে তদন্ত সংস্থাও কাজ করছে। এর মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেয়ে যাবো বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যেহেতু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে চৌধুরী মামুনের ৫ বছর কারাদণ্ড, নতুন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনলে এটি ‘ডাবল জিওপার্ডি’ (একই অপরাধের দুবার বিচারের সম্মুখীন করা) হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার হয়েছে। কিন্তু অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিচার হলে এটি আইনের ব্যত্যয় হবে না। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে যত ক্রসফায়ার হয়েছে সে ব্যাপারেও তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় আমরা তালিকা চেয়েছি। এ ছাড়া সারা বাংলাদেশে যত গুমের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো ওয়াইড স্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক ক্রাইম হয়েছে, এবং ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে এসব যদি সিস্টেমেটিক এবং ওয়াইড স্প্রেড ক্রাইমের আওতায় আসে, তাহলে আমরা ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে অভিযোগ দায়ের করবো। এমনকি গত ১/১১ থেকে যত অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যেখানেই আমাদের সিস্টেমেটিক বা ওয়াইড স্প্রেড ক্রাইমের আওতায় আসবে, এগুলো পর্যায়ক্রমে তদন্ত করে আমরা বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড হলেও একই মামলার আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে তিনিই প্রথম রাজসাক্ষী।
শাপলা চত্বরে গণহত্যাসহ কয়েকটি মামলায় নাম আসছে সাবেক আইজিপি মামুনের
সাজ্জাদ হোসেন
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
