বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা সংসদের কাছে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। বুধবার সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় এমপি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতার তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আপাতত তাদের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেই। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সদস্য মো. নুরুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আহমেদ আযম খান বলেন, আপাতত উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় জীবননগর উপজেলা সদরে পাঁচতলা ভিতের উপর তিনতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আযম খান। তিনি বলেন, ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত জীবননগরে ২৪টি অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ৭৩২ বর্গফুট আয়তনের ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। পৃথক প্রশ্নের উত্তরে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, জামুকার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত উপ-কমিটি তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই-বাছাই করে। অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়।
লালমুক্তিবার্তা-ভারতীয় তালিকার ৬৪৭৬ জন ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ: মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট এবং ভারতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে সরকার। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা গেজেট, লালমুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকা থেকে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের করা লিখিত প্রশ্নে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক অমুক্তিযোদ্ধা ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ভারতের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৪২টি অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লালমুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা বাতিল করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে জামুকার উপ-কমিটি তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে।
অমুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সনদ ও সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। রংপুর-৪ আসনসহ দেশের যেকোনো প্রান্তের অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা স্বচ্ছ করার কাজ অব্যাহত থাকবে। এর আগে জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশই ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।
৬৪৭৬ জন ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল
সংসদ রিপোর্টার
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
