দেশে ফিরলো সোহানের মরদেহ

বাবা বললেন, সব শেষ হয়ে গেল

ফন্ট সাইজ:

স্বপ্ন ছিল পরিবারের অভাব ঘুচিয়ে সুখের মুখ দেখানোর। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই সুদূরপ্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ সোহান। কিন্তু নির্মম নিয়তি তাকে ফিরিয়ে আনলো নিথর দেহ হয়ে যা রক্তাক্ত এক বাস্তবতার সাক্ষী।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ৬দিন পর ১৪ই এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায় ২১ বছর বয়সী সোহানের মরদেহ। তার লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো একনজর দেখতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় করেন বাড়ির আঙিনায়। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের আকাশ-বাতাস। নিহত সোহান ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক বুক হাহাকার হয়ে ফিরে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ই এপ্রিল সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কতলেহং এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। সেখানে একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন সোহান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নামাজের পর এলাকায় হঠাৎ লোডশেডিং হলে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। সেই সুযোগে আগে থেকে ওতপেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে পড়ে। দোকানের মালিক পেছনের দিকে গেলে একা থাকা সোহানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু হয় এই তরুণের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দোকান সংক্রান্ত ব্যবসায়িক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকানের বাংলাদেশি মালিকের সঙ্গে পাশের এক সোমালি নাগরিকের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হামলা চালানো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওদিকে দীর্ঘ ৬ দিন পর প্রিয় সন্তানের মরদেহ হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের বাবা দুলাল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলের লাশ দেখতে হবে কখনো ভাবিনি। ধারদেনা করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভাগ্য বদলাতে, এখন সব শেষ হয়ে গেল।’ রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন