আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

হাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিধান দত্তের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাশেদ খান নামের এক ভুক্তভোগী। বৃহস্পতিবার কুলাউড়া শহরের এক রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে চক রনচাপ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে রাশেদ খান বলেন, আমাদের গ্রামের মাঝখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বটগাছ ও পূজার স্থান রয়েছে। ওই স্থানে যাতায়াতের কোনো সময় কোনো রাস্তা ছিল না। স্থানীয় লোকজন ক্ষেতের জমি ব্যবহার করে পূজা-অর্চণা করতেন। ২০২৪ সালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান দত্ত ওই পূজার স্থানে যাতায়াতের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গার উপর দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে বিধান দত্ত আমার পরিবারের মৌরুসি সম্পত্তি থেকে দুই হাত জমি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। বিনিময়ে তিনি দুই শতক জমি দলিল করে দিবেন বলে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেন। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য বলেন। তাই বিষয়টি আমরা গোপন রেখে ছিলাম। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বিবেচনা করে সরল বিশ্বাসে আমাদের জমি থেকে দুই হাত জমি রাস্তার জন্য নেয়া হয়। বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে ইউপি সদস্য বিধান দত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই দুই শতক জমি বুঝিয়ে দেননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সমাধান না করায় সম্প্রতি আমি রাস্তার জন্য দেয়া নিজস্ব জমির অংশটুকু চাষ করার উপযোগী করি। এ ছাড়া রাস্তার পাশে ৫৬ এর এসএ রেকর্ডীয় জমি খাল খননের ন্যায় একটি রাস্তা বিদ্যমান আছে কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই রাস্তা মেরামতের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করে মেম্বার শুধু আমাদের আশ্বাসের মধ্যে রেখেছিলেন। রাস্তার বিষয় নিয়ে বিধান দত্ত তার নিজস্ব লোক দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়াচ্ছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। যার কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় গত ১৬ই জুন নিরাপত্তা চেয়ে ইউপি সদস্য বিধান দত্তসহ তার সহযোগী ১০ জনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাশেদের ফুপা আব্দুল বশির, সৈয়দ মঈন উদ্দিন, ফুপাতো ভাই আব্দুল্লাহ মাছুম প্রমুখ।
তবে হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিধান দত্ত বলেন, আমার এই এলাকায় কালাচাঁদ নামে প্রাচীনতম একটি দেবালয় রয়েছে। সনাতন ধর্মের লোকদের দেবালয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তাটি তৈরি করে দিয়েছি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন