বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড দলের মধ্যকার আসন্ন দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজের আগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নানা কৌশল নিয়ে কথা বলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্বাগতিক শিবিরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো উদ্বোধনী জুটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত সিরিজের পারফরম্যান্স এবং সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচের ফর্ম বিবেচনায় তানজিদ হাসানের সঙ্গী হিসেবে তরুণ ডানহাতি ব্যাটার সাইফ হাসানকেই আপাতত এগিয়ে রাখছেন এই ক্যারিবীয় কোচ। অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকারকে তাই একাদশের বাইরেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। মিরপুরের সংবাদকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুরো পরিস্থিতির নিখুঁত একটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এই মাস্টারমাইন্ড। দলের বর্তমান উদ্বোধনী জুটি নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির সব কথা জানাতে গিয়ে সিমন্স
বলেন, ‘আমার মনে হয়, ব্যাপারটি অনেকটাই থিতু। গত ম্যাচে একটি ভালো জুটি হয়েছে আমাদের এবং গা গরমের ম্যাচটিতে সাইফ দেখিয়েছে, তাকে আমরা যেখানে চাই, সেই জায়গাটায় সে যেতে শুরু করেছে।’ অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ সিরিজে সাইফ ও তানজিদ মিলেই ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছেন। সেই সিরিজের প্রথম খেলায় ব্যর্থ হলেও পরের দুই লড়াইয়ে দারুণ এক ফিফটি ও চমৎকার সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সবার নজর কাড়েন তানজিদ। এই ধারাবাহিকতার সুবাদেই তিনি এখন জাতীয় দলের প্রথম পছন্দের ওপেনার। অন্যদিকে, একই সিরিজে সাইফ খুব বড় কোনো স্কোর গড়তে পারেননি। তিনি যথাক্রমে ৪, ১২ ও ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। স্বাভাবিকভাবেই তখন তার বদলে অভিজ্ঞ সৌম্যকে খেলানোর গুঞ্জন ওঠে। তবে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়ার পক্ষেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। সম্প্রতি প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সাইফ সেই আস্থার কঠিন সময়ে প্রতিদান দিয়েছেন। এই তরুণ ওপেনারের উন্নতির প্রশংসা করে সিমন্স জানান, ‘কাজেই আমার মনে হয়, আপাতত আমরা এখানে থিতুই।’ এ ছাড়াও প্রস্তুতি ম্যাচে একটি চমৎকার হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন সৌম্য। অভিজ্ঞতার বিচারে তিনি তানজিদ এবং সাইফের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তা সত্ত্বেও কেন উপেক্ষিত হচ্ছেন, সেটি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে ৪৫ ও ৯১ রানের দু’টি নজরকাড়া ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এত চমৎকার ফর্ম থাকার পরও হঠাৎ কেন দলের বাইরে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ। মূলত টানা ম্যাচ খেলার ঘাটতি এবং তরুণদের সাফল্যই তার দলে ফেরার অন্তরায়। সৌম্য’র দলে ফেরা নিয়ে সিমন্স স্পষ্ট বলেন, ‘সৌম্যকে নিয়ে ভাবনা আগের মতোই। সে দারুণ ব্যাটসম্যান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো খেলেছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর বিপিএলে এবং পরের সময়টায় অনেক ক্রিকেট সে খেলতে পারেনি। আমাদেরকে তাই একটি সিদ্ধান্ত নিতেই হতো। তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক হলো, অন্যরা ভালো খেলছে। কাজেই জায়গাটা ফিরে পেতে তাকে চেষ্টা করে যেতে হবে।’
সফরকারী কিউই দলটিতে এবার শীর্ষ ১৬ বা ১৭ জন তারকা ক্রিকেটার নেই। প্রথম সারির খেলোয়াড়দের অনেকেই বর্তমানে ভারতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ এবং পাকিস্তানের টুর্নামেন্টে খেলতে ব্যস্ত রয়েছেন। এমনকি দলে ডাক পাওয়া পেসার বেন সিয়ার্সও পরবর্তীতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ায় জাতীয় দল থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ফলে টম ল্যাথামের এই দলটিকে অনেকেই দ্বিতীয়
সারির দল হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তবে আইসিসি ওয়ানডে র?্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই দলটিকে মোটেও হালকাভাবে নিতে রাজি নন স্বাগতিক কোচ। তার মতে, মাঠে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত নামের চেয়ে দেশটির বিশাল ক্রিকেটীয় ঐতিহ্য এবং ঘরোয়া কাঠামো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষকে সমীহ করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে সিমন্স দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ‘দ্বিতীয় সেরা দল বলে কিছু আমার জানা নেই। কোনো দেশের প্রতিনিধি হিসেবে যখন একটি দল আসে, সেটিই তাদের সেরা। বিশেষ করে, নিউজিল্যান্ডের মতো দল, যেখান থেকে একের পর এক ক্রিকেটার উঠে আসতেই থাকে।’
সিমন্সের ভাবনায় ওপেনিং জুটি
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
