চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েল স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরবের সৌদি আরামকো থেকে এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল (এএলসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল ওয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি) থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানিপূর্বক পরিশোধন করে দেশের মোট বাৎসরিক জ্বালানি তেলের চাহিদার ৫ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করে। যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। বছরের শুরুতে নেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাধারণত ১ থেকে ২টি কার্গো আমদানিপূর্বক ইআরএল-এর উৎপাদন অব্যাহত রাখে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী অবশিষ্ট জ্বালানি তেল পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ব্যবহৃত ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের একটি তুলনামূলক চিত্র নিম্নরূপ। যা থেকে মোট চাহিদার কত শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায় তার সহজেই অনুমেয়।
উপর্যুক্ত ছক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দেশের মূল জ্বালানি তেল ডিজেলের মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পেট্রলের ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করে একদিকে ইআরএল থেকে প্রাপ্ত তেলের ঘাটতি যথাযথভাবে পূরণ করছে এবং অন্যদিকে সীমিত পর্যায়ে ইআরএল-এর উৎপাদনও অব্যাহত রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মার্চ (২ লক্ষ মেট্রিক টন) এবং এপ্রিলে (১ লক্ষ মেট্রিক টন) নির্ধারিত ৩ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির যে শিডিউল, সে অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আনা সম্ভব হয়নি। শিডিউল অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আমদানির বর্তমান চিত্র নিম্নরূপ-
চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম পার্সেল এরাবিয়ান লাইট ক্রুডের (এএলসি) ১ লক্ষ মেট্রিক টনের কার্গোটি (MT Nordic Pollux-IMO No-9239848) লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মার্চের দ্বিতীয় পার্সেলটি (মারবান) লোডিংয়ের জন্য নির্ধারিত পোর্ট হরমুজ প্রণালীর অভ্যন্তরে থাকার কারণে (১ লক্ষ মেট্রিক টন) ইতিমধ্যে সরবরাহকারী কর্তৃক ফোর্স ম্যাজিউর করা হয়েছে। এপ্রিল-এ নির্ধারিত (১ লক্ষ মেট্রেক টন) ১টি এরাবিয়ান লাইট ক্রুডের কার্গো ২০ এপ্রিল লোডিং সম্পন্ন করে ২ থেকে ৩ মে-এর মধ্যে বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মে-এ ১টি (১ লক্ষ মেট্রিক টন) মারবান কার্গোর পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ১টি (১ লক্ষ মেট্রিক টন) এএলসি কার্গোর জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ করা হয়েছে। যা সরবরাহকারীর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। এছাড়া, জরুরি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন গ্রহণপূর্বক কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে। মার্চ শিডিউলের ক্রুড অয়েল পার্সেল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারায় বর্তমানে ইআরএল লো-ফিডে চালু রাখা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, সরকার শিডিউল অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করছে এবং নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
দেশের একমাত্র রিফাইনারি ইআরএল জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েল স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে বিধায় লো-ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও এর কোনো বিরূপ প্রভাব সরবরাহ চ্যানেলে পড়বে না এবং এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
