মেড ইন বাংলাদেশ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। আজ প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের লক্ষ্য হল সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করা, যাতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা (credible deterrence) তৈরি হয়। এই লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং বিমান বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘‘একইসঙ্গে ‘Made in Bangladesh’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও সশস্ত্র বাহিনীকে modern, quick, self-contained, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। বিমান বাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ, অবসরোত্তর মর্যাদা এবং One Rank, One Pension-এর মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিমুখী ও জনআস্থাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়িয়া তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান ও সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া, যাহা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়িয়া তুলবে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করতেও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী বিভিন্ন বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত স্টাফ পর্যায়ে বৈঠক, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়েছে।’
আলফারুক আব্দুল লতীফের আরেক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার নির্বাচনী এলাকা (নীলফামারী-২) এর অন্তর্গত উত্তরা ইপিজেড-এর আওতাধীন বিভিন্ন কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১৩.৬৬ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত উত্তরা ইপিজেডে ২৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার মধ্যে ১৪টি বিদেশি এবং ১৩টি বাংলাদেশি মালিকানাধীন। বর্তমানে উক্ত ইপিজেডে ৩৫,২৩২ জন বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এছাড়া, উক্ত ইপিজেডে আরও ৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উত্তরা ইপিজেড সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন রয়েছে। সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে উত্তরা ইপিজেড অঞ্চলের প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়।’
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
মেড ইন বাংলাদেশ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়া হয়েছে
সংসদ রিপোর্টার
অনলাইন
১ মাস আগে
১৫ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬, ১২ঃ২৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
