১৬৪৯ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা ৮৩৪ কোটি টাকা

সহযোগীদের খবর

১৬৪৯ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা ৮৩৪ কোটি টাকা

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

‘১৬৪৯ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা ৮৩৪ কোটি টাকা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাল সনদধারী আরো ৮১৭ জন শিক্ষককে শনাক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ)। এ নিয়ে জাল সনদে চাকরি করা ১ হাজার ৬৪৯ শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু টাকা উদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে ৬৭৮ শিক্ষকের চলমান বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। বাকি জাল সনদধারী শিক্ষকরা বেতনও পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ডিআইএ ২০২১ সালের জুলাই থেকে চলতি বছর ২০২৬ সালের গতকাল পর্যন্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিন তদন্ত করেছে ডিআইএ।

ডিআইএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৮১৭ জন। এরমধ্যে ৫০০ জন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। আগামী রবিবার এই তালিকাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে ডিআইএ। বাকিগুলো স্কুল-কলেজের শিক্ষক। গত সপ্তাহে ৪৭১ জন জাল সনদধারীর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বন্ধ, মামলা, বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরতসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। ডিআইএ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে ১৫৪ জন শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপর মন্ত্রণালয় ঐ বছরের এপ্রিলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে।

এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকরা কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ফেরত আনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রহস্যময় কারণে এখনো তাদের বরখাস্ত করা হয়নি। ডিআইএর আরেকজন কর্মকর্তারা বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম খুঁজে বের করেন তারা। তবে মন্ত্রণালয়ের এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারণে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে জাল সনদধারীদের নিয়োগ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। জাল সনদধারীদের নিয়োগ বন্ধ না হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও রোধ করা যাবে না।

ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় মোট ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪ জন শিক্ষকের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ জাল করে চাকরি নিয়েছিলেন। এছাড়া কম্পিউটার সনদ জাল করে চাকরি করছেন ২২৯ জন। আর ৪৮ জন শিক্ষকের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার ও অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ময়মনসিংহের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ জাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিআইএর পাঠানো জাল সনদধারীদের তালিকাটি চিঠির মাধ্যমে মাউশিতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু তাদের বেতন-ভাতা মাউশির মাধ্যমে দেওয়া হয়, এজন্য এ বিষয়ে মাউশিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জাল সনদ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের সরকারের কাছ থেকে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়; এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিআইএর জনবল সংকট রয়েছে। এছাড়া নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। জাল সনদ এবং প্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত হওয়ার বিষয়টি প্রতিটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অনিয়ম তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।’

২০১২ সাল থেকে জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ডিআইএ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের পুলিশ খ্যাত সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজের জাল সনদধারীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে স্কুল-কলেজের ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসার প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। সে সময় মন্ত্রণালয় জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকায় অনেক জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সংকটে শ্রমবাজার, ফেরত আসছে বাংলাদেশিরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইতালি থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল ৩০ বাংলাদেশিকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ফেরত পাঠানোর কথা। ইতালি সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে। গতকাল সোমবার ইমিগ্রেশন পুলিশের একটি সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও ইতালি থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসন, অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ, ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু দেশের ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আবার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের কারণেও বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি হয়েছে ভিসা জটিলতা। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মানব পাচারের ঘটনাও ঘটছে।

গত ৮ এপ্রিল কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের ১৩টি দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও অভিবাসন নীতিতে আকস্মিক এক পরিবর্তনের কারণে সংকটের মুখে পড়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স) বাংলাদেশকে 'প্রমাণের স্তর ৩' বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ভিসা পাওয়ার শর্তাবলি আগের চেয়ে বেশি কঠোর হয়েছে।

সমকান্তিলা বন্ধ বা কড়াকড়ি, উচ্চশিক্ষার জন্য নানা শর্তসহ বিদেশে কর্মসংস্থান সীমিত হয়ে যাওয়ায় অভিবাসন খাত এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যুদ্ধ এই পরিস্থিতিকে আরও নেতিবাচক করে তুলতে পারে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের এর আগেও ফেরত পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি পরিবর্তনের আওতায় 'ভিসা বন্ড' তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের মার্চ থেকে এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত এসেছে অন্তত ২৪৮ জন। যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে শিকল ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে অমানবিক কায়দায় পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইতালি থেকে ২০ এপ্রিল চার্টার্ড ফ্লাইটে যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তারা সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে ফ্লাইটের সূচি বদল হয়।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। ২০১৫ সালের অক্টোবরে কারিতাস-মিগ্রান্তেস ফাউন্ডেশনের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, দেশটির মোট কর্মশক্তির ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। ইতালিতে বসবাসরত বিদেশিদের প্রধান উৎস দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রোমানিয়া, মরক্কো, আলবেনিয়া, ইউক্রেন ও চীনকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেরু ও বাংলাদেশ থেকে আসা নাগরিকের সংখ্যা বেড়েছে। ইতালির অর্ধেকেরও বেশি প্রদেশে নতুন ইস্যু করা রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা এখন শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের কয়েকজন সমকালকে জানান, প্রথমে তারা ব্রাজিলে যান। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাদের জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্তও খরচ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অনেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি এক নারীসহ ৩৬ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩১, ২৮ নভেম্বর ৩৯, ৪ সেপ্টেম্বর এক নারীসহ ৩০, ২ আগস্ট ৩৯, ৪ জুন ৪২, ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল একাধিক দফায় ৩৪ জন কেষাই এসেছেন।

ইউরোপ থেকে ফেরত

বিদেশ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় আর্থিক, মানসিক ও মানবিক সহায়তা করে থাকে ব্র‍্যাক। বাংলাদেশ সরকার ২০১৭সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ভিত্তিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যারা ইউরোপে গেছেন, তাদের ফেরত আনা হচ্ছে।

গত আট বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় চার হাজার ব্যক্তি ফেরত এসেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাইপ্রাস থেকে এসেছেন। দেশটি থেকে এসেছেন ৭৬৭ জন, ইতালি থেকে ৭৪৫, রোমানিয়া থেকে ৫১০, জার্মানি থেকে ৪২৪, ফ্রান্স থেকে ৪১৫, গ্রিস ৩৮০, মাল্টা ৩৩১, অস্ট্রিয়া ৮০, বুলগেরিয়া ৩৬, সুইডেন ৩৫, পর্তুগাল ২৮, ডেনমার্ক ১৯, স্পেন ১৯, পোল্যান্ড ১৬, বেলজিয়াম ৯, চেকপ্রজাতন্ত্র ৯, লাটভিয়া চার, ফিনল্যান্ড তিন, এস্তোনিয়া দুই, আয়ারল্যান্ড দুই, নেদারল্যান্ডস দুই, স্লোভেনিয়া দুই, লিথুনিয়া থেকে দুজন।

প্রথম আলো

‘অকটেনের মজুত বাড়ছে, কমেছে সরবরাহ, ভোগান্তি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, অকটেন নিয়ে এ মাসের শুরুতেই দেশে এসেছে একটি জাহাজ, আসছে আরেকটি। দেশীয় উৎস থেকেও বেড়েছে উৎপাদন। অথচ গত মাসের তুলনায় বাজারে অকটেনের সরবরাহ কমেছে। গত বছরের এপ্রিলের তুলনায়ও সরবরাহ কম। এতে ফিলিং স্টেশনের লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি।

জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তিন বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিলারদের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে তারা। সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের মার্চে প্রতিদিন গড়ে অকটেন বিক্রি করা হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ টন। গত বছরের তুলনায় এবার মার্চে দিনে গড়ে বিক্রি বেড়েছে ২৬ টন। তবে এপ্রিলে বিক্রি কমেছে ৪৯ টন। আর গত মাসের তুলনায় এ মাসে বিক্রি কমেছে ৮৩ টন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করতে শুরু করে। এ ভিড় প্রতিদিন বাড়ছে। পেট্রলপাম্পের মালিকেরা বলছেন, মূলত অকটেন ও পেট্রলের জন্যই সারা দেশে এমন তেলের লাইন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হলেই তেল নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মার্চের শুরুতে পেট্রল ও অকটেনের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এরপর মজুত ধরে রাখতে সরকার রেশনিং শুরু করে। কয়েক দিন পর রেশনিং তুলে নিলেও বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে গত বছরের বিক্রির সঙ্গে মিল রেখে।

জ্বালানি তেলের বিপণন কোম্পানির দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, পেট্রলপাম্প থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা আসছে; কিন্তু গত বছর একই দিনে তারা যা নিয়েছে, এবারও তা দেওয়া হচ্ছে। এতে কোনো কোনো পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না। পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ বাড়ানো হলে পাম্পে ভিড় কমতে পারে।

পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সদস্য মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় কখনো এমন পরিস্থিতি দেখতে হয়নি। দেশে যে এত মোটরসাইকেল, এটাও কল্পনায় ছিল না। মূলত পেট্রল-অকটেনের জন্যই ভিড়। এ দুটির সরবরাহ বাড়ানো হলে ভিড় কমতে পারে।

পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির একাংশের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, পেট্রলপাম্প চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন।

গতকাল সোমবার পেট্রলপাম্পের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিপিসি। বৈঠকের পর দুজনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। বৈঠকে তাঁরা বলেন, পাম্পে সরবরাহ বাড়লে মানুষের ভিড় কমবে। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করে বরাদ্দের সীমা রেখে তেল দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকবে। তাই প্রয়োজনে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়িয়ে সরবরাহ বাড়ানো উচিত। বিপিসির চেয়ারম্যান এটি নিয়ে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেলের মজুতে কোনো ঘাটতি নেই। মজুত আরও বাড়ানো হচ্ছে। তাই সরবরাহ কমার কথা নয়, এটি দেখা হবে। আর ভীতি থেকে কেনাকাটা না কমলে মানুষের ভোগান্তি কমবে না।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘কঠিন চাপের মুখে মধ্যবিত্ত’। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই মন্দায় আক্রান্ত। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এ মন্দা আরও প্রকট হয়েছে। এতে একদিকে ভোক্তার আয় কমেছে, অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পরিবহণ খচরসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে কঠিন চাপের মুখে পড়েছে ভোক্তা। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের অবস্থা এখন সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। বিভিন্ন খাতে খরচ কমিয়ে বাধ্য হয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান কমাতে হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ানো হলেও ভোক্তার ওপর চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামীতে এ সংকট কোন দিকে মোড় নেবে তা নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর।

এদিকে মার্চে যুদ্ধ, রোজা ও ঈদের প্রভাবে পণ্যমূল্য বাড়লেও সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, মার্চে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। তবে এখনো মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বাড়ার হার কম। মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। ওই মাসে মজুরি বাড়ার হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো মূল্যস্ফীতির চেয়ে ভোক্তার আয়ের হার দশমিক ৬২ শতাংশ কম। এ ঘাটতি ভোক্তা ঋণ করে বা খরচ কমিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের মধ্যে পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার হার ও মানও কমে যেতে পারে।

এদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবাহ সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান যেমন হচ্ছে না, তেমনি বিদ্যমান কর্মও ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে আয় কমার পাশাপাশি বেকারত্বও বাড়ছে। যা মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও নিম্নমুখী করে তুলছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ব্যয় বাড়ছে। সেই ব্যয়বৃদ্ধি সমস্যা হতো না, যদি একই হারে আয় বাড়ত। এক্ষেত্রে মানুষ টিকে থাকার জন্য সঞ্চয় ভেঙে অথবা ঋণ করে খাচ্ছে। কিন্তু যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন, তাদের তো কোনো সঞ্চয় নেই। কিংবা কেউ ধারও দেন না। এ অবস্থায় তারা আরও খারাপ অবস্থায় আছেন।

সূত্র জানায়, গত মাসের ব্যবধানে ডলারের দাম এক টাকার বেশি বেড়েছে। এতে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে আমদানি খরচ বাড়ায় আমদানি পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

এমন অবস্থায় বাজার হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

শনিবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

কালের কণ্ঠ

‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার থেকে ইরানের বন্দরে চলাচলকারী সব ধরনের জাহাজে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার জবাবে ইরান তাদের প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্দরগুলোতে পাল্টা হামলার কঠোর হুমকি দিয়েছে।

ট্রাম্পের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে এই অবরোধ শুরু হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের অংশে ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজের ওপর এই অবরোধ প্রযোজ্য হবে। তবে অন্য দেশ থেকে আসা-যাওয়া করা জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই অবরোধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরায়েল এখন লেবাননের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। লেবাননের মারুব এলাকায় গতকাল ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলি সেনারা বিনত জবেইল শহরের সব প্রবেশপথ দখল করে নিয়েছে।

সেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সরাসরি আলোচনার প্রাক্কালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্পের নৌ অবরোধে যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধে আরোপের হুমকি দেওয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের ও শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে চীন। ট্রাম্পের নৌ অবরোধ করার ঘোষণার সমালোচনা করেছে রাশিয়া। এদিকে এই অবরোধের ঘোষণাকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে স্পেন।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ছে’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশেও ফার্নেস অয়েলের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যয় বেড়েছে, পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকির বোঝাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা- দুই স্তরেই মূল্য পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিবরাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বিদ্যুৎ খাতে নতুন মূল্য সমন্বয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

কেন নতুন কমিটি: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও ফার্নেস অয়েলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যয় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদনব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ এখনো তরল জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় এই ব্যয় সরাসরি ভর্তুকির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সরকার প্রতি বছর বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে থাকে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, আমদানিব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজেট ঘাটতির কারণে এই ভর্তুকি দীর্ঘমেয়াদে বহন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়কে অনেকটাই অনিবার্য সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহব্যয় ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এ কারণে পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করবে এই কমিটি।

ভর্তুকির বোঝা কতটা: অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি এখন সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্য বাড়লে উৎপাদনব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়, কিন্তু সেই অনুপাতে খুচরা পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় না হলে ভর্তুকির পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

বিশেষ করে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউনিটপ্রতি উৎপাদনব্যয় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে তরল জ্বালানিনির্ভর উৎপাদন বাড়লে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ভর্তুকির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এমন বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম সমন্বয় ছাড়া বিকল্প পথ সীমিত হয়ে পড়ছে।

বণিক বার্তা

‘ইলিশ উৎপাদন দুই বছরের ব্যবধানে কমেছে ১২ শতাংশ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে দেশে কমছে ইলিশ উৎপাদন। দুই বছরের ব্যবধানে এ মাছের উৎপাদন ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে, পরিমাণের হিসাবে যেটি ৭১ হাজার টনের বেশি।

দুই দশকের মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ লাখ ৭১ হাজার টনের বেশি ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। এরপর টানা দুই বছরে সেটি কমে গত অর্থবছরে পাঁচ লাখ টনে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অতিরিক্ত ও বেআইনি আহরণ, ইলিশের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হওয়া, কারেন্ট জাল ব্যবহার, নদীতে চর, দূষণসহ সাগরে মৎস্য আহরণের নিষিদ্ধ সময়ের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ ব্যবধানের কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে। অবশ্য তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে দেশে আবারো ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৯৫ টন ইলিশ উৎপাদন হয়। তবে এর পর থেকে প্রতি বছরই এর পরিমাণ বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৪২ টন। তবে এরপর টানা দুই বছর ইলিশ উৎপাদন কমেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টনে এবং ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে তা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ টনে।

মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি মুখ্য কারণের কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে জলবায়ু পরিবর্তন, বেআইনি মৎস্য আহরণ, ইলিশের অভয়াশ্রম ও প্রজনন স্থান নষ্ট, জেলি ফিশ বেড়ে যাওয়া, বিগত সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মৎস্য আহরণের নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধান, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দূষণের কথা। পাশাপাশি তারা ইলিশের জেনেটিক্যাল পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে। কেননা গত কয়েক বছরে আহরিত মাছের গড় দৈর্ঘ্য কমে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থাৎ আগের তুলনায় ইলিশের আকার ছোট হয়েছে। আকার ছোট হওয়ায় ইলিশের মোট ওজনেও তার প্রভাব পড়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আবুল কালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাগর ও নদীর মোহনায় ডুবোচর বেড়েছে। এতে ইলিশের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। নদীর নাব্য কমে যাওয়া এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত ইলিশ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’

বিভাগওয়ারি হিসাবে বরিশাল ও চট্টগ্রামে বেশি ইলিশ আহরণ হয়। ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনা করলে দেখা যায়, এক বছরের তুলনায় বরিশাল বিভাগে ইলিশ আহরণ কমেছে ২৩ হাজার ৫০৯ টন। বিভাগের ছয়টি জেলাতেই ইলিশ উৎপাদন কমেছে। সবচেয়ে বেশি ১১ হাজার ৩২০ টন কমেছে ভোলায়। এরপর বরগুনায় ৫ হাজার ৯১৩ টন এবং ৪ হাজার ৪৫৫ টন কমেছে পটুয়াখালীতে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিভাগে ইলিশ আহরণ কমেছে ১৬ হাজার ৭১১ টন। এর মধ্যে চাঁদপুর জেলায় ২ হাজার ৫৮১ টন, চট্টগ্রামে ৫ হাজার ৮৮৪, কক্সবাজারে ৩ হাজার ৬৯৬, লক্ষ্মীপুরে ১ হাজার ৩১৭ ও নোয়াখালীতে কমেছে ৩ হাজার ১৭১ টন।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘সারা দেশে ২৩৭ কিশোর গ্যাং, সদস্য ৫০ হাজার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই কিশোর গ্যাং এখন বিষফোড়া। গ্যাংগুলোর প্রকাশ্যে হত্যা, ছিনতাই, দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এলাকায় এলাকায় সৃষ্টি করেছে আতঙ্ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক মাসের অভিযানে কয়েক হাজার কিশোর অপরাধী গ্রেপ্তার হলেও কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিতে লাগাম টানা যায়নি। বরং দিন দিন বেড়েছে গ্যাং ও গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, সারা দেশে কিশোর গ্যাং বর্তমানে ২৩৭টি। এসব গ্যাংয়ের মোট সদস্য অন্তত ৫০ হাজার। নির্বাচনের পর কিশোর গ্যাংগুলো স্থানীয় রাজনীতিকদের আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত আয়ের হাতছানি, সামাজিক যোগাযোগ- মাধ্যমে গ্যাং সংস্কৃতির প্রচার, আইন প্রয়োগের দুর্বলতাসহ বিভিন্ন কারণে কিশোরেরা অপরাধে জড়াচ্ছে। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ নিতে হবে। পুলিশ এ জন্য ইমাম, শিক্ষক ও এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজধানীসহ সারা দেশে ১২৭টি কিশোর গ্যাং ছিল। গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক দিন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার সুযোগে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা বেড়ে ২৩৭টি হয়। কোনো কোনো সংস্থার মতে, বর্তমানে এই সংখ্যা তিন শতাধিক। সারা দেশে এসব গ্যাংয়ের অন্তত ৫০ হাজার সক্রিয় সদস্য বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে তাদের অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।

পুলিশের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে মোট অপরাধের ৪০ শতাংশের সঙ্গে কিশোর অপরাধীরা জড়িত। এসব অপরাধের মধ্যে ছিনতাই, অপহরণ, খুন, মাদক, দখল, চুরি, ডাকাতি, হুমকি ও ইভ টিজিং উল্লেখযোগ্য।

কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংসতা আঁতকে দিচ্ছে মানুষকে। গত রোববার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে প্রকাশ্যে অ্যালেক্স ইমন নামের এক কিশোর গ্যাং লিডারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ গ্যাংয়ের সদস্যরা। কুপিয়ে তাঁর হাত-পা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে সন্ত্রাসীরা। নিহত অ্যালেক্স ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ ১৮টি মামলা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র বলছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আরমান-শাহরুখ গ্যাংয়ের সদস্যরা।

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের বেশি দৌরাত্ম্য মোহাম্মদপুর, বছিলা ও আদাবরে। এসব এলাকায় অভিযান চালিয়েও লাগাম টানতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের কয়েক মাস পরই অপরাধীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। এই তিন এলাকা থেকে গত দেড় বছরে অন্তত চার হাজার কিশোর অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত রমজান মাসেই দেড় হাজারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশ রূপান্তর

‘২৫ বছরেও দুই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো না’-দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আবারও এসেছে বাংলা বর্ষবরণের উৎসব। ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এ উৎসব দুই যুগের বেশি সময় ধরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি শোকের আবহ নিয়ে হাজির হচ্ছে। ২০০১ সালে বর্ষবরণের দিনে রমনা বটমূলে পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফেরণে ১০ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার বিচার হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হতে লেগেছে দুই যুগ। আর বিচারিক আদালতে বিস্ফোরক মামলার বিচার এখনো চলছে। দুই মামলার কোনোটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আজও।

২৫ বছর ধরে চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেই আছে মামলা দুটি। হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাতজন ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজনের সাজা কমিয়ে প্রায় এক বছর আগে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ কারণে রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ আপিল করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, হাইকোর্টের রায়ে সাজা কমে ১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি কারামুক্তি পেয়েছেন। পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অন্য মামলা থাকায় তারা এখনো কারাগারে। বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো চলছে ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে। এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আগামী বাংলা বর্ষবরণের আগেই এ মামলার বিচার শেষ হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছরের বেশি সময় পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে), মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা আকবর হোসেন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও আরিফ হোসেন ওরফে সুমন এই আট জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রাণদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়।

রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) যায় হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে ২০১৫ সালের অক্টোবরে এ মামলার পেপারবুক (বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হয়। কারাগারে থাকা আসামিরাও আপিল করেন। হাইকোর্টে এ মামলার বিচার শেষ হতে লেগে যায় প্রায় এক দশক।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হলেও বেঞ্চ পুনর্গঠনের কারণে শুনানি থমকে যায়। ওই বেঞ্চসহ হাইকোর্টের তিনটি দ্বৈত বেঞ্চে সাড়ে ৪০০ বারের বেশি শুনানির তারিখ ধার্য হলেও নিষ্পত্তি হতে লাগে প্রায় ১০ বছর। গত বছরের ১৩ মে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে তাজউদ্দিনের মৃত্যুদ-ের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত অপর ছয় জনের সাজা কমিয়ে ১০ বছর করে কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়। তাজউদ্দিন এখনো পলাতক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে আর আব্দুল হাই, জাহাঙ্গীর আলম বদর, সেলিম হাওলাদার এ তিনজনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

সিরু

২ মাস আগে

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৮১৭ জন। এরমধ্যে ৫০০ জন মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। তার মানে দাঁড়ি টুপি জুব্বা ওয়ালারা ৬২% ই ভুয়া সার্টিফিকেট ধারী।
দাঁড়ি টুপি জুব্বা ওয়ালা অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, ড. ডা. ইঞ্জিনিয়ার, উকিল ব্যারিস্টার সবই ভুয়া!

মন্তব্য করুন