মামদানির ভাষণে অর্জন, প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জের কথা

মেয়র হিসেবে ১০০ দিন পূর্তি

মামদানির ভাষণে অর্জন, প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জের কথা

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন জোহরান মামদানি। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের প্রশাসনের সাফল্য, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ শহর গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান মুসলিম এই মেয়র।

স্থানীয় সময় রোববার রাতে কুইন্সের নকডাউন সেন্টারে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই তিনি তার দায়িত্ব নেয়ার প্রথম ১০০ দিনের কাজের পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দরজা খোলার কয়েক ঘণ্টা আগেই সমর্থকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স‍্যান্ডার্স ।

জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বড় ধরনের দু’টি তুষারঝড় আঘাত হানে নিউ ইয়র্কে। এতে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত ছিলো। কিন্তু সাধ‍্যমতো সবকিছু করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান মেয়র মামদানি।

সিটিতে জননিরাপত্তা, আবাসন সংকট, অভিবাসী সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জনসম্মুখে তুলে ধরলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র। ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ভাষণে ছিল অর্জন, প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জের কথা।

মেয়র মামদানি জানান, তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চাইল্ড কেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন। যেখানে রাজ্যের সঙ্গে ১.২ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘ইউনিভার্সাল 3-K’ বাস্তবায়ন এবং ২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী বছর সিটি মালিকানাধীন পাঁচটি গ্রোসারি স্টোরের প্রথমটি চালু হবে বলে জানান মামদানি।

পরবর্তীতে প্রতিটি বরোতে একটি করে মোট পাঁচটি স্টোর চালু করা হবে বলে আশাবাদী ব‍্যক্ত করেন তিনি। বিশ্বকাপে জন্য নিউ ইয়র্কের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান মামদানি।

প্রায় ৩৫ মিনিটের ভাষণে মামদানি নিজেকে দৃঢ় সমাজতান্ত্রিক হিসেবে তুলে ধরে ভবিষ্যতেও সেই আদর্শে শহর পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মুসলিম এই মেয়র। পাবলিক সেইফিটি টপ অব দ্যা লিস্টে আছে মন্তব্য করে মামদানি বলেন, ‘নিউ ইয়র্কার এবং নন নিউ ইয়র্কারদের জন্য নিউ ইয়র্কে একটি নিরাপদ সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

এদিকে নিউ ইয়র্কবাসী বলছেন, ১০০ দিনে মেয়রের প্রতিশ্রুতি পূরণে যথেষ্ট নয়, শিক্ষা বাসস্থান সংকট ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা। নগরবাসীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানে আরও বাস্তবমুখী উদ্যোগের প্রত্যাশা তাদের।

তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে মেয়র ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে মনে করেন স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের চিফ অব স্টাফ হারিস খান। তিনি জানান, অল্প দিনের মধ্যেই ক্ষুদ্র ব্যবসা কার্যক্রম ভালো অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার মানবজমিনকে বলেন, ‘প্রথম একশ দিনে অনেকগুলো কাজ করা হয়েছে। আগামীতে নিউ ইয়র্কবাসী আরও ভালো কিছু দেখতে পারবেন।’

সেবা খাতে কাটছাঁট এড়াতে সিটির বাজেটের সঞ্চয় ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন মামদানি। প্রয়োজনে সম্পত্তি কর বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন। ফলে বিগত ১০০ দিনের গল্পের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের কতটা পার্থক্য থাকবে তাই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন