বিচার বিভাগ, গুমসহ বাদ পড়া বিষয়ে নতুন বিল আনা হবে

সহযোগীদের খবর

বিচার বিভাগ, গুমসহ বাদ পড়া বিষয়ে নতুন বিল আনা হবে

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘বিচার বিভাগ, গুমসহ বাদ পড়া বিষয়ে নতুন বিল আনা হবে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করা হলেও এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদে নতুন বিল আনা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে সংসদে অনুমোদন বা অননুমোদন করা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই–বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা বলা হয়েছে। তবে কোন বিল কবে আনা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী, ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল। নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি।

ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। আর ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১১০টি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে সংসদ। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে অনুমোদন করা হয়।

অধ্যাদেশগুলো যাচাই–বাছাই করতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল সংসদ। তবে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটির সব সুপারিশ হুবহু অনুসরণ করা হয়নি। যেমন কমিটির সুপারিশ ছিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ হুবহু অনুমোদনের। তবে গত শুক্রবার এ–সংক্রান্ত বিলে সংশোধনী আনা হলে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক হয়। এটি এবং গুম অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে না আনায় সরকারি দলের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ এনে সেদিন ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় রীতি অনুসারে বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে পারে। কিন্তু যেসব ইস্যুতে তারা ওয়াকআউট করেছে, সেখানে কিছু তথ্য সঠিক ছিল না। বলা যায়, তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ওপর দোষ চাপিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশটি হুবহু পাস করার সুপারিশ ছিল। বিলটি সেভাবেই আনা হয়েছিল। কোনো বেসরকারি সদস্য যদি বিলে সংশোধনী আনেন, সেটি সংসদ বা সরকারি দলের কাছে রিজনেবল মনে হলে সংশোধনীটা ভোটাভুটির মাধ্যমে গৃহীত হয়।’ তারপরও বিরোধী দলকে সেদিন কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। সংসদে আইনমন্ত্রী বলেছেন যে পরে এটা আরও সংশোধিত আকারে বিল আনা যাবে।

প্রসঙ্গত, যেকোনো সংসদ সদস্য বিলে সংশোধনী প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করে সরকারি দলের ওপর। প্রথমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সংশোধনী গ্রহণ করতে চান কি না, তা জানান। পরে সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, সেটা ভোটে দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা চাইলেই সেটা গৃহীত হয়। সংশোধনী গ্রহণের বিষয়ে আগে থেকেই হুইপিং থাকে।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো কোনো অধ্যাদেশের বিষয়েও বিরোধী দলের বক্তব্য ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ—এগুলো অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও সমৃদ্ধ করে পরবর্তী অধিবেশনে নিয়ে আসতে চায়। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগুলো আরও সমৃদ্ধ হলে সেটা জাতির জন্য ভালো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে ১৬ অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। তাই সেগুলো এখনো উপস্থাপন করা হয়নি।

কিন্তু কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে সরকার এসব অধ্যাদেশ বাদ দিয়েছে—এমন অভিযোগ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনগুলোর প্রস্তাবনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও অনেকে তা উপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গ

চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছিল বিশেষ কমিটি। সেগুলো হলো জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। এগুলো রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সুপারিশ ছিল এখনই বিল না এনে অধিকতর যাচাই–বাছাই করে পরে নতুন বিল আনার। তবে সংসদ এই অধ্যাদেশগুলো রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলনে বিল পাস করেছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলে বলা হয়েছে, এগুলো নিয়ে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই–বাছাই করা প্রয়োজন।

২০০৭-০৮ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বিচার বিভাগ নিয়ে এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক অধ্যাদেশ পরবর্তী সংসদ অনুমোদন করেনি। বর্তমান সংসদও একই ধরনের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে। তাহলে পার্থক্যের জায়গাটা কোথায়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ–সংবলিত বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পার্থক্যের জায়গাটা হলো আগের সরকার বিল আকারে এনে এই কথা বলেনি যে অধিকতর যাচাই–বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা বিল আকারে এনে অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজনের) সঙ্গে আলোচনা করে এটা আবার আনব, এই কমিটমেন্ট দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, সংসদে আনা বিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত একটি বিবৃতি থাকে। তবে এটি আইনের অংশ হয় না।

বিচার বিভাগ–সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবিধানের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিচারকার্য পরিচালনায় বিচারকেরা স্বাধীন। আর কোন কাজে স্বাধীন বলেছে নাকি? আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। কিন্তু এখন যেসব বিষয়ে আপনারা প্রশ্ন করছেন বা অনেকে বলছে, তাতে করে বিচার বিভাগ যদি সুপার স্বাধীন হয় বা সার্বভৌম হয় তাহলে কি রাষ্ট্রের কল্যাণ হবে?’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের অঙ্গগুলোর মধ্যে অবশ্যই একটা ‘হারমনিয়াস কো-অপারেশন’ থাকতে হবে। যেন কেউ কারও সীমা অতিক্রম না করে। সে জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ সম্পর্কে ‘ভেরি ব্যালান্সড’ আইন আনতে হবে।

গণভোট ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালেট’

সংসদে অনুমোদন বা অননুমোদন না করায় গণভোট অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দল আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা তো ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালেট’ বা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই আইনে আগামী দিনে আর কোনো গণভোট হবে না। যদি ভবিষ্যতে গণভোট করতে হয়, তাহলে সংবিধান অনুসারে অথবা আলাদা আইনে করতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যখন গত অন্তর্বর্তী সরকারের দু-একটা বাদে সব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হবে, তখন সেটা বৈধ হয়ে যাবে।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটাও বলেছেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে। আদালত কী বলেন, সেটা দেখার বিষয়।

গুম অধ্যাদেশ প্রসঙ্গ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এটা পাসের জন্য না তোলার কারণ ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী।

নিজেও গুমের শিকার—এ কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশটি যেভাবে আছে, সেভাবে পাস হলে গুমের শিকার ব্যক্তিরাই অবিচারের শিকার হবেন। সরকার চায়, গুম কমিশন এমনভাবে করতে, যাতে কমিশনের কার্যকারিতা থাকবে, গুমের শিকার ব্যক্তিরাও ন্যায়বিচার পাবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেউ কেউ নিজেদের ‘প্রোভাইড’ (জায়গা করে নেওয়া) করার জন্য তাড়াহুড়া করে মানবাধিকার কমিশন, গুম অধ্যাদেশ করেছে—এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা দোষ দিতে চায় না। দেড় বছর মেয়াদের সরকার এগুলো করতে চেয়েছে, সে জন্য কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার আছে। অনেক সময় আছে। আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন—এগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আইন করতে চায় সরকার। সে জন্য একটু সময় দরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা এই জিনিসগুলোকে রাজনীতিকীকরণ করেছেন। আমরা যেটা করতে চাই না।’

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গুমের সংজ্ঞা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আইনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। মানবাধিকার কমিশন আইনের কিছু ধারা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে তদন্ত, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে পরামর্শ সভার আয়োজন করা হতে পারে।

পুলিশ কমিশন

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ ছিল বিশেষ কমিটির; কিন্তু সেটা করা হয়নি। এটা কার্যকারিতা হারিয়েছে। এই অধ্যাদেশ কেন সুপারিশ অনুযায়ী বিল আকারে আনা হয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি পদও সৃজন হয়নি, একটি পয়সাও খরচ হয়নি। এটা হেফাজতের প্রয়োজন নেই। এটা এই অধিবেশনে আনতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। পরে সংশোধিত আকারে এটা সংসদে আনা হবে।

যে ১৬ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে

এর আগে গত শনিবার খবর বের হয়েছিল, ১৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। গতকাল আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের অধ্যাদেশ ১৬টি।

সেগুলো হলো গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ অধ্যাদেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশের বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এসব অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা ও অস্বচ্ছতা নেই। অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তার মধ্যে ৯৭টি হুবহু বিল আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধনী আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজত করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক অধিকতর যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেও বলা আছে। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে গণভোট নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে।’ এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও বক্তব্য দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের বিষয়ে নতুন করে আইন করে আগামীতে তো এর উপরে কোনো গণভোট হবে না। ভবিষ্যতে যদি কোনো গণভোট করতেই হয়, আইদার (দুটির মধ্যে যে কোনো একটি) সাংবিধানিক গণভোট হবে আর্টিকেল ১৪২ অনুসারে, অথবা যদি সংবিধানের বাইরে, যেহেতু সংবিধানে এমন কিছু বলা নাই যে, আর কোনো গণভোট কোনো বিষয়ে করতে পারবে না সরকার চাইলে। সুতরাং সেটা যদি করতে চায় অন্য কোনো বিষয়ে, সেটা আলাদা একটি আইন করতে হবে... সুতরাং এটা হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয় নেই। এটার বৈধতা তো আছেই। অবৈধ তো বলছি না।’ আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদে তিন থেকে চারটি অধ্যাদেশের ওপর অনেক প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে; যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন, আমরা শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন চাই না, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় চাই না কিংবা বিচারপতি নিয়োগে স্বছতা চাই না, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, বিএনপি তার নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসাবে এসব আইনকে আরও বেশি স্বছ, জবাবদিহিমূলক ও যুগোপযোগী করতে চায়। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোর বিলে বলেছি, অংশীদারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

গুমসংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের সংজ্ঞা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জারি হওয়া ১২২টি অধ্যাদেশের মধ্যে মাত্র ৫৪টি আইনে পরিণত হয়েছিল, বাকিগুলো বাতিল হয়ে যায়। তুলনামূলকভাবে বর্তমান সরকার অধিকসংখ্যক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করেছে। যেসব অধ্যাদেশ এখনো আইনে পরিণত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা রয়েছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, আমি পার্লামেন্টে উত্তর দিতে গিয়ে বলেছিলাম, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সব পড়েছেন, শুধু এতটুকু পড়েননি যতটুকুতে সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি দেওয়া আছে। যে আইনের প্রিয়েম্বলে জেনারেলি বলা থাকে না যে উপস্থাপনা এবং প্রস্তাবনা, প্রস্তাবনা সম্বলিত জায়গায় আমরা দিয়েছি। এটা হলো আমাদের স্বচ্ছতার জায়গা। আইনমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি আমার অফিসকে বলেছি। ১৫ মে’র পর মানবাধিকার কমিশনের আইন নিয়ে আমরা ডিসকাশনের উদ্যোগ নিয়েছি। যেকোনো দিন হয়তো স্টেকহোল্ডারদের ডাকব, আপনারা জেনে যাবেন। এভাবে একটি একটি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করব। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একজন আইন বিশেষজ্ঞের লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ কখন জারি করার প্রয়োজন হয়, খুব ইমার্জেন্সি কোনো কিছু হলে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ১৩৩টি গণহারে যে অধ্যাদেশ করে গেছেন, এর মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ওই আইন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, মৌলিক প্রয়োজনীয়তা এবং ভেরি ফান্ডামেন্টাল এটি। কিন্তু আমরা ওই বিবেচনাতে আনিনি, পার্লামেন্টের কাছে আমরা খুব স্বচ্ছ। স্বচ্ছতার সঙ্গেই যেভাবে আনা প্রয়োজন আমরা সেভাবে এনেছি।

কালের কণ্ঠ

‘শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেল, আবার যুদ্ধ?’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা চুক্তির আভাস ছাড়াই শেষ হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থানে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গতকাল রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ঘোষণা করেছেন, মার্কিন বাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি পার হতে হলে সব জাহাজকে টোল দিতে হবে বলে গতকাল ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

এর আগে মার্কিন আলোচকদলের নেতা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইসলামাবাদের স্থানীয় সময় গতকাল ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। জে ডি ভ্যান্সের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘সর্বোত্তম ও চূড়ান্ত’ প্রস্তাব দেওয়ার পরও এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ করছে। এ ছাড়া আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা গতকালই ইসলামাবাদ ছেড়েছেন। এদিকে এই ব্যর্থতার ফলে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এর ফলে গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ইরান হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান শেষ হয়নি বলে গতকাল এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন। অন্যদিকে আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল ও লেবাননের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এর মধ্যেই ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেফাহতা শহরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে হামলার জন্য প্রস্তুত একটি রকেট লঞ্চার ধ্বংসের দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘পালা করে চলছে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি তেলের সংকটের বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে দেশের নৌপরিবহন খাতে। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় অধিকাংশ নৌযান বসে থাকছে। বাকিগুলো চালাতে হচ্ছে পালা করে। এতে যাত্রীসেবার চেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায়। সারাদেশে পণ্য সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে গেছে। ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেকের বেশি তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে পণ্য পরিবহনের গতি কমে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোতে নৌ চলাচল অনেক কমে গেছে।

পাশাপাশি সারাদেশে ৪০টির লঞ্চের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক বন্ধ হওয়ার পথে বলে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। রাজধানীর চিত্রও প্রায় একই রকম। ঢাকার সদরঘাট থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩৮টি নৌপথে রোটেশনের মাধ্যমে লঞ্চ চলাচল করতে হচ্ছে। কোনো কোনো রুটে ট্রিপ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের তথ্যমতে, সারাদেশে লঞ্চ চলাচলে চার লাখ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। লঞ্চ মালিকরা বলছেন, সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বেশ কয়েক বছর ধরে নৌপথে যাত্রী সংকট। তাই আগে থেকেই নৌরুটগুলোতে লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল সংকট হওয়ায় আরও ধস নেমেছে এই খাতে। পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন অনেকে।

বন্দর পরিস্থিতি


চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেসরকারি অপারেটর ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মালিকানাধীন প্রায় আড়াই হাজার লাইটার জাহাজ চলাচল করে দেশের বিভিন্ন নৌপথে। এগুলো পরিচালনার জন্য দৈনিক গড়ে প্রায় আড়াই লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু ৫০ হাজার লিটারের মতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিআইডব্লিউটিসিসি) সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে জাহাজ পরিচালনার দৈনন্দিন পরিকল্পনাও ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটির অধীনে থাকা প্রায় এক হাজার ৫০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সারাদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করে থাকে। দৈনিক ৮০টি জাহাজ পণ্য পরিবহনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিদিন বরাদ্দ সভা করে জাহাজ নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু তেল সংকটের কারণে দুদিন পরপর বরাদ্দ সভা করা হচ্ছে। যেসব জাহাজ তেল পাচ্ছে, পালা করে সেগুলোকে পণ্য পরিবহনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক

‘৬০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের নির্দেশ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, সারা দেশে ২৬ হাজার বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে প্রায় দেড় যুগ যাবত্। অথচ দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পড়াশোনা করে এসব প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে শিক্ষার স্বাভাবিক গতি আনতে সারা দেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে—উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওর পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরীখে সাময়িকভাবে পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ফার্নেস ওয়েলের দাম ৩৫% বৃদ্ধি’। খবরে বলা হয়, দেশে ফার্নেস ওয়েলের (এইচএফও) দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি বিদ্যুৎ খাত ও সামগ্রিক শিল্প অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিইআরসি) সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রতি লিটার ফার্নেস ওয়েলের দাম ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা, যা শতাংশ হিসেবে প্রায় ৩৫। নতুন এই মূল্য রোববার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।

মাত্র দেড় মাস আগেই বিইআরসি ফার্নেস ওয়েলের দাম কমিয়ে ৭০ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ৩৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়কে সরাসরি বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত খুচরা বিদ্যুতের দাম, শিল্প উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে প্রতিফলিত হবে।

বিইআরসি ও জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে শিপিং ঝুঁকি- আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করেছে। একটি বড় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সিঙ্গাপুর প্ল্যাটস সূচকে এইচএফওর দাম ছিল প্রতি মেট্রিক টন ৪৪৯.৪৭ মার্কিন ডলার, যা মার্চের প্রথম সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪১.২৬ ডলারে। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ১০৯ শতাংশ।

বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানির দাম সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘœ, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত ফার্নেস ওয়েলের গড় দর এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্থানীয় বাজারে জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে প্রভাব

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আগের তথ্য অনুযায়ী, ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় ছিল ২৭ টাকা ৩৯ পয়সা, যার বড় অংশই জ্বালানি খরচ। সাধারণত একটি এইচএফওভিত্তিক রিসিপ্রোকেটিং ইঞ্জিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ০.২২ থেকে ০.২৫ লিটার ফার্নেস ওয়েল লাগে। গড় হিসেবে ০.২৪ লিটার ধরা হলে, নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে ইউনিটপ্রতি জ্বালানি ব্যয় বাড়বে প্রায় ৫ টাকা ৯০ পয়সা। ফলে মোট উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৩ টাকা ২৯ পয়সা, যা প্রায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের অতিরিক্ত ব্যয়

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ১০০ মেগাওয়াট এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকে, তাহলে দৈনিক উৎপাদন হয় প্রায় ২৪ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ৫.৯ টাকা ব্যয় ধরে দৈনিক বাড়তি খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ একটি কেন্দ্রেই দৈনিক অতিরিক্ত ব্যয় ১.৪ কোটির বেশি হতে পারে। দেশে ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াটের বেশি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে এই অতিরিক্ত ব্যয় কয়েক শ’ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বণিক বার্তা

‘জ্বালানির দাম বাড়ায় ঢাকা রুটে ফ্লাইট কমাচ্ছে এয়ারলাইনগুলো’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ভ্রমণ চাহিদার অনিশ্চয়তার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশপথে চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ, নেপাল ও থাইল্যান্ডগামী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনছে আকাশ পরিবহন সংস্থাগুলো। বাড়তি খরচ ও যাত্রী চাহিদা ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো তাদের গ্রীষ্মকালীন সময়সূচিতেও আনছে পরিবর্তন। বিশেষ করে ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার মতো ভারতীয় এয়ারলাইনগুলো এরই মধ্যে তা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ঢাকা রুটে ফ্লাইট কমিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) খরচ। এর প্রভাব পড়েছে উড়োজাহাজ ভাড়ায়, যা অনেক যাত্রীর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে অবকাশযাপনের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা উচ্চ ভাড়ার কারণে ভ্রমণ স্থগিত রাখছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রুটগুলোয় প্রত্যাশিত যাত্রী না পাওয়ায় এয়ারলাইনগুলো তাদের ফ্লাইট কমিয়ে আনছে।

এ বিষয়ে টিএএস এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কেএম মোজিবুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফ্লাইট কমার পেছনে মূলত তিনটি কারণ। প্রথমত, নিরাপত্তা, যাত্রীরা একেবারে আবশ্যিক না হলে ভ্রমণ করছেন না। মধ্যপ্রাচ্য আমাদের বড় হাব। শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই বাংলাদেশে সপ্তাহে ১৪২টি ফ্লাইট আসে। এর মধ্যে যে যাত্রীরা যান তাদের ৬০ শতাংশই অনওয়ার্ড যাত্রী। তারা মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাওয়াটা এখন নিরাপদ মনে করছেন না। বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাও এ আস্থাহীনতা বাড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত গালফ দেশগুলো বিদেশী ক্যারিয়ারের জন্য এয়ার স্পেস ব্লক রাখতে যাচ্ছে, স্থানীয় ক্যারিয়ারদের ক্ষেত্রে অবশ্য এ বিধিনিষেধ নেই। তৃতীয়ত, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধিও একটি বড় কারণ। এয়ার ইন্ডিয়া বাংলাদেশ থেকে যে যাত্রী বহন করে তার ৬০-৭০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যগামী, যেমন ঢাকা-দিল্লি হয়ে দুবাই, কাতার বা কুয়েত। এ গন্তব্যগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে।’

নিয়মিত ফ্লাইট চালু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ফ্লাইট কমিয়ে দেয়ায় বড় ব্যাকলগ তৈরি হবে। নিয়মিত ফ্লাইট চালু হলেও এ ব্যাকলগ কাটতে অন্তত এক বছর লাগতে পারে। ব্যবসায়িক দিক থেকেও এটি বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’

বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্য ভারতভিত্তিক এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। ফলে অনেক যাত্রীকে মুম্বাই ও দিল্লির মতো ভারতীয় হাব হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। এতে যাত্রার সময় যেমন বাড়ছে, তেমনি ব্যয়ও বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়াগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ থেকে এ অঞ্চলে সরাসরি ফ্লাইটের সীমাবদ্ধতার কারণে যাত্রীদের সংযোগ (কানেক্টিং) ফ্লাইটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে চলমান অস্থিরতার প্রভাবেও দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে উড়োজাহাজ চলাচল আরো জটিল হয়ে উঠেছে। এতে ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় ঘটছে বিঘ্ন।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ভিটামিন ‘এ’ বন্ধ এক বছর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। বছরে দুবার এই ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরে হয়েছে দুবার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কৌশলগত পরিকল্পনা বা ওপির মাধ্যমে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল কেনা ও বিতরণ হতো। এরপর নতুন ওপি না হওয়ায় এই ক্যাপসুল কেনা হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মার্চে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন হয় আগের কেনা ক্যাপসুল দিয়ে।

পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন এ শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও সংক্রমণজনিত ঝুঁকি বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রাদুর্ভাব ঘটা হামও সংক্রামক রোগ।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচালিত হতো। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ বিতরণ যুক্ত করা হয়। স্বতন্ত্র ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের অধীনে আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিশুদের পুষ্টি ও অন্ধত্ব দূরীকরণে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এবং জাতীয় কৃমিনাশক সপ্তাহ পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। কারণ, শরীরে কৃমি থাকলে ভিটামিন এ-র পূর্ণ শোষণ বাধাগ্রস্ত হয়। ২০০৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের সঙ্গে কৃমিনাশক ট্যাবলেট যুক্ত করা হয়। তবে গত দুই বছর নিয়মিত কৃমিনাশক সপ্তাহ পালন করা হয়নি।

৬ মাস পরপর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হতো। প্রতিবার গড়ে সোয়া ২ কোটি শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালের মার্চে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন হয়। সে সময় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সোয়া ২ কোটি শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে এই ক্যাম্পেইন হয়েছিল।

দেশ রূপান্তর

‘মব নিয়ে উদ্বেগ, সর্বত্র আলোচনা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকেই দলবদ্ধ সহিংসতা বা মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলেও সরকারপ্রধান স্পষ্ট ঘোষণা দেন। গত শনিবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আস্তানায় হামলা চালিয়ে ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মব সন্ত্রাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে বিশিষ্টজন যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তেমনি সরকারের ভেতরেও শুরু হয়েছে আলোচনা। মব সন্ত্রাস বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন হাতে তুলে না নিতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১ মাস ২৫ দিনে অন্তত ২১ জন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মারা গেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় মব। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি দমনে অনেকটা ঢিলেঢালা ভাব দেখায়। এতে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে কুণ্ঠাবোধ করে না সাধারণ মানুষ। এরপর রাজনৈতিক হামলা, ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। এর থেকে রক্ষা পাননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হয়ে ওঠা মব বর্তমান সরকারের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সরকারে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কুষ্টিয়ার ঘটনা তার বড় প্রমাণ। দেশে নির্বাচিত সরকার এবং ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকার পরও ঘটনার মোকাবিলা করতে না পারা বড় ব্যর্থতা।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না।’ সরকারের কঠোর অবস্থার মধ্যেও নিয়ন্ত্রণহীন মব সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি, উদীচী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। পৃথক বিবৃতিতে তারা কুষ্টিয়ার ‘পীর’ হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

MD.Hafiz uddin

২ মাস আগে

The rolling party's main target should be to serve the interest of mass people & country,must not the interest of the party & party,s chief.But in Bangladesh,this quality is always absent.

মন্তব্য করুন