বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। গতকাল রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমীর বলেন, বিএনপি গর্ব করে বলে- একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশও তাদের। সবই তাদের, অন্য কারও কিছু নেই। একাত্তরে তো বিএনপি’র জন্মই হয়নি। তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। প্রথমবার নিজের পক্ষ থেকে, দ্বিতীয়বার অন্যের পক্ষ থেকে। তিনি যুদ্ধ করেছেন, এজন্য তাকে আমরা অবশ্যই সম্মান করি। কিন্তু এক ব্যক্তির কাছেই যদি সব কৃতিত্ব দেয়া হয়, তাহলে অন্যান্য যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায় থাকে? এটি যুদ্ধকে কুক্ষিগত করার শামিল। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। তখন জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের দালালসহ বিভিন্নভাবে অপমান করা হয়েছে। এখন আমরা সেই ধরনের রাজনীতি আর দেখতে চাই না। শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়ে সরকার গঠন করতে পারলে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা দিয়েছিলেন। বিএনপিও ৩১ দফা সংস্কারের কথা বলেছে। এর প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার। কিন্তু এখন তারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে তারা শুধু জাতির সঙ্গেই নয়, নিজেদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
বর্তমান সংসদে এমন সদস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি ফ্যাসিবাদের শিকার হননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মজলুমদের এক মিলনমেলা। মজলুম তো মজলুমের দুঃখ বোঝার কথা।
শফিকুর রহমান বলেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, দুদক, পিএসসি অধ্যাদেশসহ যেগুলো মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেসব অধ্যাদেশ ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর জন্য প্রয়োজন, বিএনপি সবকিছু গায়ের জোরে ফেলে দিয়েছে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বশেষ বয়সসীমা নিয়ে সংসদে আলোচনার দিন সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কিছু লোককে জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে দর্শক গ্যালারিতে বসিয়েছিল। আলোচনার এজেন্ডা যখন এলো, তখন সরকারি দল থেকে তাদের ইশারা দেয়া হলো। বোঝা গেল, এটা পাতানো। এর আগে কয়েকটা বিল পাস হয়েছে, যার কাগজপত্র বিরোধী দলকে দেয়া হয়নি। তারা বিরোধী দলকে অন্ধকারে রেখে ব্ল্যাকমেইলিং করতে চেয়েছিল, তবে বিরোধী দল তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি।
জামায়াত আমীর আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেই জায়গাগুলোই বিএনপি এখন রেখে দিতে চায়। এর মাধ্যমে বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি হতে দেয়া হবে না।
যতদিন সংসদের ভেতরে লড়াই করতে পারবেন, ততদিন থাকবেন; এর বাইরে এক মিনিটও সংসদে থাকবেন না- উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, রাজপথ বিরোধী দলের মূল ঠিকানা, সংসদ নয়। সংসদে দেশের জনগণ একটা পরিবর্তনের আশায় তাদের পাঠিয়েছেন, সেই পরিবর্তনের সূচনা করতে না পারলে সেই সংসদ দিয়ে কী হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে লড়বে বিরোধী দল। এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পরাজয় হবে, বিজয় হবে জনগণের।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন- শহীদ আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মেহেরুন নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন, আহত জুলাইযোদ্ধা কামরুল আহসান, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা জামাল হোসেন, জুলাইযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, শহীদ ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী লাকি বেগম, শহীদ জাবের ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন এবং ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর নিহত গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।
বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে যাত্রা শুরু করেছে: জামায়াত আমীর
স্টাফ রিপোর্টার
১৩ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
