সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল এবং বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিল বাতিলের ফলে দেশে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইন ও বিচার বিশ্লেষকরা। আলোচনায় অংশ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল মতিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানকে বৈধতা না দিলে সরকারও বৈধতা হারাতে পারে। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিল বাতিল: স্বাধীনতা কতদূর?’- শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন ও আইন ও বিচার পত্রিকা। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পত্রিকার সম্পাদক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, বিচার বিভাগকে পৃথক করতে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে- দু’টি অধ্যাদেশ। কিন্তু এই দু’টি অধ্যাদেশ সংসদে বাতিল করে সরকার বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে। সরকার বললো এর চেয়ে ভালো আইন করবেন। অথচ চাইলে আইন করে পরে সংশোধন করতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সর্বনাশ ডেকে আনবে। সংবিধানে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি গণ-অভ্যুত্থানকে বৈধ ধরা না হয়, তবে বর্তমান সরকারও বৈধতা হারাতে পারে। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের ফল ভালো হবে না। ক্ষমতার মসনদে বসে আমরা মালিক হয়ে যাই।
ভোটের আগে জনগণের হাত-পায়ে কত ধরেছিলেন। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আপনাদের এত ভয় কেন? কোনো সরকারই বিচার বিভাগের ভালো চায় না। বিচার বিভাগ এখন নির্যাতনের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এটা বিচারপ্রার্থীর জায়গা নয়। এরপর আছে ৪৭ লাখ মামলার জট। বিচার বিভাগ পৃথক্করণ মামলার বাদী মাসদার হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ সার্বভৌম নয়। সন্তান হয়ে পিতার সঙ্গে বেঈমানি করছে। ক্ষমতার মসনদে বসে এক কলমের খোঁচায় সব অধ্যাদেশ বাতিল করে দিচ্ছেন। এটা কি মগের মুল্লুক? দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইন প্রণয়ন করা হলে সংসদকে এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। গুটিকয়েক মানুষের চিন্তা-চেতনায় এ সব কাজ করছেন। তার পরিণতি খুব ভালো হবে না।
এইদিন দিন না, আরও দিন আছে। আপনারা পথ হারিয়ে ফেললে জনগণ আপনাদের সঠিক পথে নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে হ্যাঁ-না ভোট করুন, জরিপ করুন, ৯৯ ভাগ লোক আপনাদের কাজের বিরুদ্ধে মতামত দেবে। যেগুলো হচ্ছে বিচার বিভাগকে পদদলিত করা। গুম হয়ে যারা মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তারা আজ সংসদ সদস্য। তাদের জিজ্ঞেস করে গুমের সংজ্ঞা ঠিক করুন। আপনারা এমনি এমনি উড়ে আসেননি। তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করবেন না বলেও সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন।
মাসদার হোসেন আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। কোন এখতিয়ার বলে আইন মন্ত্রণালয় তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। মনে রাখবেন, জজদের একটা আলপিনের দরকার হলেও সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়। অথচ আইনমন্ত্রী কোনো কর্তৃত্ব বলে এটা করেছেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম জজ ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ও জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল প্রমুখ।

Buddha
২ মাস আগেJULY ER MATO JONGI SONTRASHI GHATONA AR HOBE NA BANGLADESHE. JE BAP DER SAHAJJO PEYECHILO TARA AR SEI SAHAJJO KORBE NA .