ট্রাম্পের চুক্তিতে হতবাক ইসরাইল, বলছে ‘বিপর্যয়কর আত্মসমর্পণ’

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের চুক্তিতে হতবাক ইসরাইল, বলছে ‘বিপর্যয়কর আত্মসমর্পণ’

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির শর্ত প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার ইসরাইলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তি ইসরাইলের ঘোষিত যুদ্ধ-উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দেশটিকে আরও দুর্বল অবস্থায় ফেলেছে। চুক্তিটি ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য পূরণ করেনি। বরং যুদ্ধের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেহরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের কাছাকাছি অবস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইরানকে আঞ্চলিকভাবে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রভাব ইস্যু এই সমঝোতা চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর (যেমন হিজবুল্লাহ ও হুথি আন্দোলন) বিষয়ে কোনো সমাধান অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে ইসরাইল আরও বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইসরাইলি বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দেশটি শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে ব্যবহার হতে পারে। ইসরাইলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তির ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন।

তিনি বলেছেন, দেশটির মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। এ ছাড়া দেশটির সরকারের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এই চুক্তিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়াকভ আমিদর বলেন, এটি ‘খারাপ একটি চুক্তি’, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সুবিধা দিলেও প্রকৃত নিরাপত্তা সমাধান আসেনি। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরেলের সম্পাদক ডেভিড হোরোভিটস এটিকে ‘বিপর্যয়কর আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চ্যানেল ১২-এর বিশ্লেষক নির দভোরি এই চুক্তিকে ‘কূটনৈতিক ৭ অক্টোবর’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা ইসরাইলের জন্য এক ধরনের বড় কৌশলগত বিপর্যয় নির্দেশ করে।

ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন এই চুক্তির পর ইসরাইলের রাজনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নির্ভরতা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের রাজনৈতিক কৌশলের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু এই চুক্তি সেই কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ইসরাইলের জনগণের মধ্যে এখন ধীরে ধীরে এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই কৌশলের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। যদিও এই চুক্তি নিয়ে ইসরাইল সরকার কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কথা বলছে, তবে বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ এটিকে ইসরাইলের জন্য কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর ও হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন