হাতিয়াতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২১ দিন পর বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে স্থানীয় ১৭ সালিশদার। সালিশে ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয়। অভিযুক্ত মো. মোছলেউদ্দিন উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার চৌমুহনী এলাকার সেকান্তর মিয়ার ছেলে এবং ভুক্তভোগী শিশুর দূর সম্পর্কের জেঠা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশুর বাবা ওমান প্রবাসী। তার মা বাড়িতে দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে পার্শ্ববর্তী ঘরের মোছলেউদ্দিন ভিকটিমের মাকে বিভিন্নভাবে অঙ্গভঙ্গি করে কুপ্রস্তাব দিতো। সামাজিকভাবে বিষয়টি জানালে তাকে সতর্ক করা হয়। গত ১৭ই মার্চ ভিকটিমের মা ঈদের বাজার করতে স্থানীয় চৌমুহনী বাজারে যায়। ওই সুযোগে মোছলেউদ্দিন ভিকটিমকে পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে স্বজনরা এগিয়ে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির মা থানায় লিখিত অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পায়নি। উল্টো পুলিশ তাকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে বলে। এরপর ৭ই এপ্রিল সালিশি বৈঠকে ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয়।
সালিশদার মো. ফারুক বলেন, ভিকটিমের মা থানায় একটি পিটিশন মামলা করেন। এ ঘটনায় আমরা ১৭-১৮ জন সালিশদার নিয়ে একটি বৈঠকে বসি। ওই বৈঠকে শিশু ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা আমরা পাইনি। পরে তিনি মামলা প্রত্যাহার করে। শিশুটিকে থাপ্পড় দেয়ার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়। হাজী বেলাল উদ্দিন নামে একজনের কাছে জরিমানার ৩০ হাজার টাকা জমা আছে। মেয়ের মা টাকার জন্য এলে তাকে টাকা দিয়ে দেয়া হবে।
অভিযুক্ত মো. মোছলেউদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে বলেন, মারামারির একটি ঘটনা নিয়ে বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে বিষয়টি মিটমাট করা হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি কীভাবে সামাজিকভাবে ভাঙা হয়েছে- এটি তিনি বলতে পারবেন না, সেটা সমাজ জানে।
গতকাল শিশুটির মা জানিয়েছেন, তিনি জরিমানার টাকা পেয়েছেন। তিনি তার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পাল্টা তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। সালিশি বৈঠকের পর দু’টি মামলা তুলে নেয়া হয়। এ পর্যায়ে তিনি পুলিশ ও সালিশদারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ভিকটিমের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিদর্শক তদন্তের নেতৃত্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। উপরন্তু উনাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের পারিবারিক বিরোধ আছে। বিরোধের জেরেই এ অভিযোগ করা হয়েছে।
